ঢাকা , মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভ্রাম্যমাণ আদালতের সিলগালা করা ৯ লাখ ঘনফুট বালু রাতের আঁধারে উধাও

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৮-২৮ ১৭:১৮:১০
ভ্রাম্যমাণ আদালতের সিলগালা করা ৯ লাখ ঘনফুট বালু রাতের আঁধারে উধাও ভ্রাম্যমাণ আদালতের সিলগালা করা ৯ লাখ ঘনফুট বালু রাতের আঁধারে উধাও
আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:-


কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে জব্দ ও সিলগালা করা প্রায় ৯ লাখ ঘনফুট বালু নিলাম ছাড়াই রাতের আঁধারে সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাত থেকে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকাল পর্যন্ত কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী উপজেলা রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের


কালিরকুড়া টি-বাঁধ থেকে ফকিরের হাট পর্যন্ত বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে ট্রাকে করে এসব বালু সরিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হলে বালু সরানোর কার্যক্রম বন্ধ হয়। স্থানীয় সূত্র ও সরেজমিনে জানা গেছে, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কালিরকুড়া টি-বাঁধ এলাকায় আগে থাকা দুটি বালুর পয়েন্টের সঙ্গে নতুন করে আরও ১১টি পয়েন্ট চালু করা হয়। এসব পয়েন্ট ক্ষমতাসীন দলের পরিচয়ে কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি নিয়ন্ত্রণ করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বালু পরিবহনের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বাঁধ কেটে এবং বাঁধের পিচিংয়ের ব্লক তুলে অন্তত সাতটি স্থানে রাস্তা তৈরি করা হয়েছিল।


এতে বাঁধের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়। স্থানীয়দের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১২ মে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মাহমুদুল হাসানের নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ১৩টি পয়েন্ট থেকে প্রায় ৯ লাখ ঘনফুট বালু জব্দ করে সিলগালা করা হয়। পরে ৩০ মে স্থায়ীভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ এবং বাঁধ রক্ষার দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দারা মানববন্ধন করেন। ওই সময় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বাঁধ কেটে তৈরি করা বালু পরিবহনের কয়েকটি রাস্তা ভেঙে দেন। জব্দ করা বালু পাহারা ও সংরক্ষণের জন্য স্থানীয় ইউপি সদস্য মোঃ আসলাম হক ও মোঃ মুকুল মণ্ডলকে জিম্মাদার করা হয়। তবে একাধিক স্থানীয় বাসিন্দার অভিযোগ, মোঃ আসলাম হক নিজেই বালু ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তাকে জিম্মাদার করার সময়ও স্থানীয়দের পক্ষ থেকে আপত্তি জানানো হয়েছিল। স্থানীয়দের ধারণা, জিম্মাদারের পরামর্শেই ব্যবসায়ীরা সিলগালা করা বালু সরিয়ে নিয়েছেন। যদিও বালু সরিয়ে নেওয়ার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইউপি সদস্য মোঃ আসলাম হক।


তিনি বলেন, ‘বালু নিয়ে যাওয়ার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আমার প্রতিপক্ষরা মিথ্যাচার করছে। বিষয়টি আমি ইউএনও মহোদয়কে জানিয়েছি। তিনি বালু নিয়ে যাওয়াদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে বলেছেন।’ অন্য জিম্মাদার মোঃ মুকুল মণ্ডল বলেন, ‘বিষয়টি আমি ইউএনও মহোদয়কে জানিয়েছি। কিন্তু আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে তিনি আমাকে বালুবাহী গাড়ি আটকাতে বলেছেন।’ এ বিষয়ে চিলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও


নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘জব্দ করা বালু চুরির বিষয়টি আমরা জেনেছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দ্রুত জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ