সরকারি হাসপাতালের ১গাড়ি ঔষুধ যমুনা নদীতে ফেলার সময় হাতেনাতে আ'টক
সরকারি হাসপাতালের ১গাড়ি ঔষুধ যমুনা নদীতে ফেলার সময় হাতেনাতে আটক
মোঃ সবুজ সরকার সৌরভ, ঘাটাইল(টাঙ্গাইল) প্রতিনিধিঃ
টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর সরকারি ঔষুধ যমুনা নদীতে ফেলার সময় আটক করা হয়েছে। ভূঞাপুর উপজেলার গোবিন্দাসী এলাকার যমুনা নদীর ঘাটে ট্রাকটি যখন পৌঁছে তখন বুধবার রাত প্রায় ১১টা। ওষুধগুলো নদীতে ফেলার সময় স্থানীয়রা দেখে ফেলে। আটক করা হয় ট্রাক। খবর পেয়ে পুলিশ ওষুধসহ গাড়িটি নিজেদের হেফাজতে নেয়।
স্থানীয়রা জানান,
বুধবার রাত ১১টার দিকে একটি মিনি ট্রাক যমুনা নদীর গোবিন্দাসী ঘাটে এসে ভিড়ে। এতরাতে ঘাটে ট্রাকভর্তি মালামাল তাদের সন্দেহ হয়। তারা ট্রাকের কাছে গিয়ে দেখতে পান বিপুল পরিমাণ ওষুধে ঠাসা। পরে তারা পুলিশকে খবর দেন। স্থানীয়দের ধারণা, হাসপাতালের রোগীদের মধ্যে ওইসব ওষুধ সঠিক সময়ে বিতরণ না কারার ফলে মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেছে। সেগুলো নদীতে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছিল। ট্রাকচালক আজমত আলীর ভাষ্য, বাবুল হোসেন নামে এক ব্যক্তি ঘাটাইল হাসপাতাল থেকে গোবিন্দাসী এলাকায় বস্তাগুলো নিয়ে যাওয়ার জন্য তার ট্রাক ভাড়া করেন।
বস্তাগুলোর ভেতরে আসলে কি ছিল তা তিনি জানতেন না। এদিকে, ঘটনাটি দ্রুত ছড়িয়ে পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে। বিভিন্ন মন্তব্য করে নিজেদের ব্যক্তিগত ওয়ালে পোস্ট দিতে শুরু করেন অনেকে। ঘাটাইল উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান সালাম খান আওয়াল লিখেছেন, ‘সরকারি হাসপাতালে রোগীদের ওষুধ না দিয়ে বাহিরে থেকে কিনতে বলে। আর বেশিরভাগ সময় ডাক্তারের লেখা ওষুধ হাসপাতালে থাকে না।
অথচ বস্তা বস্তা ওষুধ ফেলে দেয়।’ রেবেকা সুলতানা সেতু নামে একজন লিখেছেন, ‘যমুনা নদীর মাছেরা হয়ত অসুস্থ। তাই, তাদের জন্য ট্রাকভর্তি ওষুধ আর ইনজেকশন পাঠানো হয়েছিল। আপনারা আটক করলেন? মাছের মায়ের অভিশাপ লাগবে আপনাদের।’ ঘাটাইল হাসপাতালের একাধিক কর্মচারীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সম্প্রতি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের ঝটিকা সফর হিসেবে এ হাসপাতাল পরিদর্শন করা কথা ছিল। এজন্য হয়তো মেয়াদোর্ত্তীর্ণ ওষুধগুলো নদীতে ফেলতে নিয়ে গিয়েছিল। ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু নয়িম মোহাম্মদ সোহেল তাদের গাফিলতির কথা স্বীকার করে বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে। ভূঞাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, স্থানীয়দের হাতে আটক হওয়া পিকআপভর্তি ওষুধ ও চালককে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
নিউজটি আপডেট করেছেন :
[email protected]
কমেন্ট বক্স