ইউনানী মেডিকেল কলেজের সমস্যা সমাধানে সংসদে কথা বলব
নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর মিরপুরে সরকারি ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল পরিদর্শন এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
বৃহস্পতিবার নিজ নির্বাচনি এলাকার ওই প্রতিষ্ঠানটিতে গিয়ে বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন ও রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি কলেজটির বিভিন্ন সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগের আশ্বাস দেন।
তিনি বলেন, সবকিছু দেখে মনে হচ্ছে, বাংলাদেশে এই ধরনের একটা প্রতিষ্ঠান জাতির প্রয়োজনেই করা হয়েছিল। কিন্তু আজকে এই প্রতিষ্ঠানটা খুবই অবহেলিত, উপেক্ষিত। যেভাবে এটাকে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তাইলে সরকার বলে দিতে পারে যে, এটার প্রয়োজন নেই। আর যদি প্রয়োজন থাকে তাইলে ঝুলিয়ে রাখার কোনো অবকাশ নাই। এটার একটা সমাধান অবশ্যই হওয়া চাই।
ঢাকা-১৫ আসনের সংসদ সদস্য ও ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে এই এলাকার প্রতিষ্ঠানটির যেসব সমস্যার কথা বলা হয়েছে, তারমধ্যে মৌলিক বিষয়গুলো আমি সংসদে তুলে ধরার চেষ্টা করব। তিনি বলেন, আমি সব দাবি আদায় করে দেয়ার ওয়াদা না করলেও দাবি আদায়ের লড়াইয়ে আপনাদের সঙ্গে থাকব।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, এই সেবাটা (ইউনানী) তুলনামূলকভাবে শাশ্রয়ী এবং পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ামুক্ত। তাহলে এই সেবা কেন আমরা নেব না? এর প্রয়োজনীয়তা হয় আমরা উপলব্ধি করি না, অথবা এই সেবার পক্ষে বড় গলায় কথা বলার জায়গা মত লোক নাই এইজন্য উপেক্ষিত, এটা তো হওয়া উচিত নয়।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ঘোষণা করেছেন-সবার জন্য স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করা হবে, এখানে সেবা নিতে প্রতিদিন যে শত শত রোগী আসেন, তারা কি সবার মধ্যে পড়ে না? তারাও তো সবার মধ্যে পড়ে, যেহেতু তারা সবার মধ্যে পড়ে কাজেই এখানে উপযুক্ত মনোযোগ দিতে হবে।
জামায়াত আমির বলেন, এখানে রোগীদের একটাই হাহাকার দেখলাম যে, আমরা ওষুধ পাই না। অবশ্যই এটা ঠিক যে, সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোতেও রোগীদের একই আহাকার, কিন্তু একটু কম। তিনি বলেন, এখানে বরাদ্দের বিষয়ে একটা আইন তৈরি হওয়া উচিত। আইনের ভিত্তি দাঁড়ালে বাকি জিনিসগুলো একে একে আসবে। আমি চেষ্টা করবো আপনাদের হয়ে কথাগুলো বলার।
এ সময় মেডিকেল কলেজের প্যাথলজিক্যাল মেশিনের ভোল্টেজ স্টেবিলাইজারের অভাব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমার পক্ষ থেকে এটা শনিবার ইনশাআল্লাহ পৌঁছে যাবে। বাকি সমস্যার সমাধান সামনে হবে ইনশাআল্লাহ।
এ সময় কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মো. রাশিদুজ্জামান খান, ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের নায়েবে আমির আব্দুর রহমান মুসা, সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দিন মানিক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।