ঢাকা , বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬ , ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজউকের ‘ধনকুবের’ পলাশ সিকদারের অ'বৈধ সা'ম্রাজ্য: ক্ষ'ম'তার দা'পটে পিরোজপুরে ত্রা'সের রাজত্ব ও হাজার কোটি টাকার মালিকানা

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৮-২৫ ১০:০৭:৩৯
রাজউকের ‘ধনকুবের’ পলাশ সিকদারের অ'বৈধ সা'ম্রাজ্য: ক্ষ'ম'তার দা'পটে পিরোজপুরে ত্রা'সের রাজত্ব ও হাজার কোটি টাকার মালিকানা রাজউকের ‘ধনকুবের’ পলাশ সিকদারের অবৈধ সাম্রাজ্য: ক্ষমতার দাপটে পিরোজপুরে ত্রাসের রাজত্ব ও হাজার কোটি টাকার মালিকানা
‎‎নিজস্ব প্রতিবেদক:
‎রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) উপ-পরিচালক ও অথরাইজড অফিসার (ইঞ্জিনিয়ার) পলাশ সিকদারের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধান এখন তুঙ্গে। কিন্তু দুদকের নথিতে উঠে আসা সম্পদের হিসাব তার প্রকৃত অপকর্মের একটি ছোট অংশ মাত্র। স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষমতার দাপট, নির্বাচনী সহিংসতা, সরকারি অর্থ লোপাট এবং অবৈধ পেশিশক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে পলাশ সিকদার গড়ে তুলেছেন এক অকল্পনীয় দুর্নীতি ও আতঙ্কের সাম্রাজ্য।

অনুসন্ধানে জানা যায়, পলাশ সিকদারের পরিবার একসময় সচ্ছল থাকলেও, তিনি রাজউকে যোগ দেওয়ার পর থেকেই রাতারাতি পাল্টে যায় চিত্র। বর্তমানে তিনি গ্রামের শত একর জমির মালিক।
‎দৃষ্টিনন্দিত ডুপ্লেক্স বাড়ি যার বর্তমান মূল্য ৫ কোটি টাকা। পিরোজপুর-২ আসনের তৎকালীন ক্ষমতাধর নেতার আস্থাভাজন হয়ে তিনি এলাকায় গড়ে তোলেন ‘মিনি রাজত্ব’। সরকারি টাকায় বাড়ির সামনে ২১ লাখ টাকা ব্যয়ে মাত্র ৫ মিটার দৈর্ঘ্যের ব্রিজ নির্মাণ এবং রাজবাড়ি লঞ্চঘাটে পার্ক তৈরির নামে সরকারি জমি দখলের চেষ্টা তার ক্ষমতার দাপটেরই প্রমাণ।

‎পলাশ সিকদার কেবল সরকারি অফিসের চেয়ারেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না; স্থানীয় রাজনীতিতেও তিনি ছিলেন অদৃস্ব সক্রিয়। তার বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রব শিকদার চেয়ারম্যান ছিলেন মেয়াদকাল ছিল১৮ মাস। তার তার মৃত্যুর পরে পলাশ শিকদারের স্ত্রী ফারজানা ইসলাম ইউনিয়ন উপ-নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।জুন মাস ২০২৩ সালে শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ড ও স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ডের যৌথসভায় তাকে ওই মনোনয়ন দেয়।


‎স্থানীয় গুয়ারেখা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজান গাজীর (বিএনপি) বিরুদ্ধে নির্বাচনে প্রভাব খাটাতে গিয়ে তিনি লেলিয়ে দেন তার ব্যক্তিগত ‘পলাশ বাহিনী’। অভিযোগ রয়েছে, হারুন, টুকু, মিন্টু ও খোকন সহ ২০/২৫ জনের বাহিনী। তাদের অত্যাচারের প্রতিশোধ নিতে ৫ই আগস্টে মেম্বারের বাড়ি ও দোকানে হামলা  হয় এবং নয়ন শেখের বাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়ার পেছনে ছিলো বিগত দিনের আক্ষেপ। এছাড়া এলাকার স্কুল-কলেজের প্রতিটি ম্যানেজিং কমিটি গঠনে তার অর্থের প্রভাব ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। তার বাবা ও স্ত্রীর দুই নির্বাচনী প্রচারে ১০ কোটি টাকারও বেশি খরচের উৎস নিয়ে রয়েছে কৌতূহল নানা প্রশ্ন।

‎দুদকের প্রাথমিক তথ্যে দেখা যায়, ২০১৫ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত তার বৈধ আয় মাত্র ৩৪ লাখ টাকা। অথচ এই সময়ে তিনি ও তার স্ত্রী প্রায় ৫ কোটি টাকার সম্পদ গড়েছেন যা দুদকের নজরে । পিরোজপুরে ২ কোটি টাকা ব্যয়ে ডুপ্লেক্স বাড়ি, মেজো বোনের নামে ৫০ লাখ টাকার বাড়ি, বাবার নামে ৩৫ লাখ টাকায় জমি এবং শ্যালকের নামে বসুন্ধরায় প্লট—সবই অবৈধ আয়ের ফসল। এর ওপর নিজেকে ‘ভূমিহীন’ সাজিয়ে সরকারি জমি বন্দোবস্ত নেওয়া যা রাজবাড়ি লন্চঘাটে পার্কের পরিকল্পিত এবং ৭৫ লাখ টাকার হ্যারিয়ার গাড়ি ব্যবহারের মতো গুরুতর অনিয়ম তো রয়েছেই।

‎২০২৫-২৬ করবর্ষের রিটার্নে তার ও তার স্ত্রীর নিট সম্পদের পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে দেখানো হয়েছে। অথচ উভয় রিটার্নেই ৫০ ভরি স্বর্ণের আর্থিক মূল্য ‘শূন্য’ দেখানো হয়েছে, যা কর ফাঁকির একটি কৌশল হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। এছাড়া রাজউকে নকশা অনুমোদন ও ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র প্রদানে ঘুষ গ্রহণ এবং বহুতল ভবনের নকশা জালিয়াতির পৃথক অনুসন্ধানও চলছে।

‎দুদক যখন তার এসব অনৈতিক কর্মকাণ্ডের জাল গুটিয়ে আনছে, তখন পলাশ সিকদারের মন্তব্য ছিল রীতিমতো বিস্ময়কর। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি নির্লজ্জের মতো বলেন, আমি কোন অনিয়ম বা অবৈধভাবে অর্থ সম্পদ করি নায়। যা করেছি নিজের উপার্জিত অর্থ দিয়ে। 

তাহলে ত প্রশ্ন ওঠে এতো অর্থ সম্পদ উপার্জিত অর্থে কিভাবে করা সম্ভব। পলাশ শিকদার কি তাহলে আলাদিনের চেরাগ পেয়েছেন। 

‎সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, তৎকালীন সরকারের সাবেক মুখ্য সচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা কাজে লাগিয়ে তিনি কুমিল্লার মেঘনা আবাসন প্রকল্পে বিনিয়োগ ও অন্য কর্মকর্তাদের উৎসাহিত করেছিলেন। ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর নিজেকে বাঁচাতে তিনি এখন মন্ত্রণালয়ে নানা তদবির চালাচ্ছেন। তবে পিরোজপুরের ভুক্তভোগী এলাকাবাসী ও রাজউকের ক্ষতিগ্রস্ত সেবাগ্রহীতারা তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছেন।

দুদকের অনুসন্ধানে এখন স্পষ্ট হচ্ছে, পলাশ সিকদার শুধু একজন দুর্নীতিবাজ প্রকৌশলী নন; তিনি ক্ষমতার অপব্যবহারের এক অনন্য উদাহরণ। এখন দেখার বিষয়, আইন তাকে তার অপকর্মের জন্য কতদূর পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

‎পলাশ সিকদার এর বক্তব্য জন্য একাধিক বার কল ও এসএমএস করা হয়েছে তিনি কোন উত্তর দেন নায় এবং কল রিসিভও করেন নায় তাই তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয় নায়।

পলাশ সিকদার এর দুর্নীতি ও  অবৈধ অর্থ সম্পদের আরোও তথ্যসহ আসছে দ্বিতীয় পর্বে।


 


নিউজটি আপডেট করেছেন : News Room 3

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ