নীলফামারী জেলার থানার চাঞ্চল্যকর হ'ত্যা মামলায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ০৩ জন আ'সামিকে গ্রে'ফতার করেছে র্যাব।
নীলফামারী জেলার থানার চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ০৩ জন আসামিকে গ্রেফতার করেছে র্যাব।
নিজস্ব প্রতিবেদক
নীলফামারী জেলার থানার চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ০৩ জন আসামিকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। “বাংলাদেশ আমার অহংকার”—এই মূলমন্ত্রকে ধারণ করে এলিট ফোর্স র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) চাঞ্চল্যকর হত্যা, ডাকাতি, অপহরণ, ধর্ষণ, রাহাজানিসহ বিভিন্ন মারাত্মক সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। হত্যার মতো গুরুতর সামাজিক অপরাধের ক্ষেত্রে র্যাব অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে থাকে। নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে পারিবারিক কলহের জেরে হত্যার ঘটনায় ৩জন আসামিকে গাজীপুর মহানগরীর কাশিমপুর থানা হতে গ্রেফতার করেছে র্যাব।
গ্রেফতারকৃত আকাশ রায়, শ্যামল রায় এবং ববিতা রানী রায় নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জ থানাধীন দক্ষিন বাহাগিলী সন্ন্যাসীপাড়া (ঘাটেরপাড়) গ্রামের বাসিন্দা। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে আসামিদের দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জের ধরে গত ০৭ আগস্ট ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ১১.০০ ঘটিকায় আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে সংঘবদ্ধ হয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের বাড়ির উঠানে অনধিকার প্রবেশ করে। এ সময় তারা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হুমকি প্রদান করতে থাকে।বাদী আসামিদের এ ধরনের কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করলে তারা বাদীকে মারধর করে। বাদীর ডাকচিৎকার শুনে তার পিতা-মাতা ঘটনাস্থলে এগিয়ে এলে আসামিরা বাদীর মাকে চুল ধরে টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানি করে এবং তার পিতাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করে। একপর্যায়ে আসামিরা হত্যার উদ্দেশ্যে বাদীর পিতার মাথায় আঘাত করে গুরুতর ফাটা রক্তাক্ত জখম করে এবং তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করে। ভুক্তভোগী পরিবারের ডাকচিৎকারে স্থানীয় আত্মীয়স্বজন ও আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে আসামিরা তাদের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে বাদীর পিতার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৬ আগস্ট ২০২৬ তারিখ বিকাল ০৩.৩৯ ঘটিকায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। উক্ত ঘটনায় নিহতের ছেলে কাজল গীর (২৬) বাদী হয়ে গত ১৬ আগস্ট ২০২৬ তারিখে ০৮ জনের নাম উল্লেখ করে নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-১৩)। মামলা দায়েরের পর থেকেই এজাহারনামীয় আসামিরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গ্রেফতার এড়াতে এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যায়। মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনায় আসামিদের গ্রেফতারে র্যাব-১৩ কর্তৃক গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-১, সিপিএসসি, পোড়াবাড়ী, গাজীপুর এবং র্যাব-১৩, সিপিসি-২, নীলফামারী র্যাব ক্যাম্পের যৌথ আভিযানিক দল গত ১৮ আগস্ট ২০২৬ তারিখ বিকাল ০৪.৪৫ ঘটিকায় গাজীপুর মহানগরীর কাশিমপুর থানাধীন ডেল্টা গার্মেন্টসের বিপরীত পাশে ডেল্টার মোড় এলাকায় আলালের ভাড়া বাসায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে উল্লিখিত হত্যা মামলার এজাহারনামীয় আসামি ১। আকাশ রায় (২২), পিতা- শ্যামল রায় ২। শ্যামল রায় (৪৫), পিতা- তারনী রায় ৩। ববিতা রানী রায় (৪২), স্বামী- শ্যামল রায় সর্বসাং- দক্ষিণ বাহাগিলী সন্ন্যাসীপাড়া (ঘাটেরপাড়), থানা- কিশোরগঞ্জ, জেলা- নীলফামারী‘দের গ্রেফতার সক্ষম হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। সমাজ থেকে হত্যা, অপহরণ, ধর্ষণসহ বিভিন্ন গুরুতর অপরাধ নির্মূল এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে র্যাবের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। ...মূলকপি স্বাক্ষরিত... বিপ্লব কুমার গোস্বামী অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) অধিনায়কের পক্ষে মোবাইল: ০১৭৭৭৭১১৩০৩ তারিখ: ১৯/০৮/২০২৬ খ্রিঃ
নিউজটি আপডেট করেছেন :
[email protected]
কমেন্ট বক্স