নবীগঞ্জে ১০ লাখ টাকা চাঁদাবাজির মামলায় বিএনপির দুই নেতা মুকিত ও রুপ কারাগারে...
নবীগঞ্জে ১০ লাখ টাকা চাঁদাবাজির মামলায় বিএনপির দুই নেতা মুকিত ও রুপ কারাগারে...
জাবেদ তালুকদার॥ হবিগঞ্জের
নবীগঞ্জে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় বিএনপির দুই নেতাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল রোববার (৯ আগস্ট) হবিগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৫-এর বিচারক তানজিনা রহমান তানিন উভয়পক্ষের শুনানি শেষে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। কারাগারে পাঠানো দুই বিএনপি নেতা হলেন নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন মুকিদ এবং একই ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি ও সাবেক মেম্বার আব্দুর রুপ।
তারা দুজনই আউশকান্দি ইউনিয়নের রুদ্রপুর গ্রামের মৃত আব্দুস ছত্তারের ছেলে। মামলার এজাহার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ এপ্রিল আউশকান্দি ইউনিয়নের মজলিশপুর গ্রামের মৃত আব্দুল গণির ছেলে আব্দুল হান্নান বাদী হয়ে আদালতে মামলাটি করেন। মামলায় ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং হুমকি দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়। বাদীর অভিযোগ, তিনি রাবেয়া খাঁন চৌধুরীর কাছ থেকে অনুমানিক ৯৫ শতক জায়গা কিনে সেখানে বাড়ি নির্মাণের উদ্যোগ নেন। এ সময় গত ২ এপ্রিল অভিযুক্ত ৭ জন আসামীসহ দুই ভাই তার কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীসহ স্থানীয় মুরব্বিদের কাছে বিচারপ্রার্থী হলে অভিযুক্তরা তাকে পুনরায় হুমকি দেন বলেও মামলায় অভিযোগ করা হয়। এ ছাড়া দলীয় প্রভাব খাটিয়ে তার কাছে চাঁদা দাবি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন বাদী আব্দুল হান্নান। মামলা দায়েরের পর নবীগঞ্জ থানা পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনে চাঁদা দাবির অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে বাদীপক্ষের আইনজীবী জানিয়েছেন। পরে আদালত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে রোববার দুই আসামি আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আজিজুল হক বলেন, মামলার পর পুলিশ তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দিয়েছে। ওই প্রতিবেদনে চাঁদা দাবির অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। পরে তাদের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি হয়। তারা আদালতে হাজির হলে উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এছাড়াও এ মামলায় আঃ রেজ্জাক লিটন (৪৬) পিতা- মৃত আজব উল্লা, নানু মিয়া (৪৮) পিতা- মৃত আছকির উদ্দিন, জিলাদ মিয়া (৪৫) পিতা- মৃত আব্দুল সুবাহান, রিপন মিয়া (৩৫) পিতা- মৃত আঃ হান্নান, বিলাল মিয়া (৩৫) পিতা- মৃত বারাম উল্লা, পলাতক রয়েছেন।
নিউজটি আপডেট করেছেন :
[email protected]
কমেন্ট বক্স