ঢাকা , রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬ , ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুড়িগ্রামে পুকুরে ভাসছে মামলার বাদীনির লাশ, গলায় ওরনা পেঁচানো কংক্রিটের ব্লক

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৮-০১ ১৪:৫০:৩৪
কুড়িগ্রামে পুকুরে ভাসছে মামলার বাদীনির লাশ, গলায় ওরনা পেঁচানো কংক্রিটের ব্লক কুড়িগ্রামে পুকুরে ভাসছে মামলার বাদীনির লাশ, গলায় ওরনা পেঁচানো কংক্রিটের ব্লক
আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:-


শনিবার, ০১ আগষ্ট ২০২৬ ইং ০৫:৫৫ এএম. কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলায়তিন দিন ধরে নিখোঁজ থাকা এক গৃহবধূর ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মরদেহের গলায় ওড়না দিয়ে পেঁচানো একটি কংক্রিটের ব্লকের খণ্ডিত অংশ বাঁধা ছিল। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলার যাদুরচর ইউনিয়নের পুরাতন যাদুরচর নামক এলাকার একটি ডোবার পানি থেকে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতের স্বামীর মামাতো ভাইদের সঙ্গে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে দায়ের করা একটি মামলার বাদী ছিলেন ওই গৃহবধূ। মামলা প্রত্যাহার করার জন্য আসামি পক্ষ থেকে চাপ দেওয়া হচ্ছিল বলে দাবি করেছেন নিহতের স্বামী এবং বাবার বাড়ির লোকজন। রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ কাওছার আলী এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। নিহত গৃহবধূর নাম মোছাঃ গোলাপি খাতুন (২৬)। তিনি কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাওয়াইর গ্রামের প্রবাস ফেরত সৈয়দ মোহাম্মদ আলীর স্ত্রী। স্বামীর মামাতো ভাইদের সঙ্গে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে গোলাপিকে হত্যা করে লাশ ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন নিহতের স্বামী এবং বাবার বাড়ির লোকজন। এ ঘটনায় নিহতের ভাই মোঃ বেলাল হোসেন বাদী হয়ে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করে রৌমারী থানায় মামলা করেছেন। নিহতের স্বামী সৈয়দ মোহাম্মদ আলী ও ভাই মোঃ বেলাল হোসেন দাবি করেন, সৈয়দ মোহাম্মদ আলীর মামাতো ভাই মতিন, হাসিনুর, মহর, আছমত ও সাহার আলী গংদের সাথে ক্রয়কৃত একটি জমির মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। সৈয়দ মোহাম্মদ আলী প্রবাসে থাকায় এ ঘটনায় মোছাঃ গোলাপি খাতুন বাদী হয়ে হাসিনুর-মতিন গংদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।



সৈয়দ মোহাম্মদ আলী দেশে ফেরার পরনিয়ে দফায় দফায় সালিশ হয়। স্থানীয় মাতুব্বররা মোছাঃ গোলাপি খাতুনকে মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত দেন। সৈয়দ মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘ মামলা প্রত্যাহারে বিলম্ব হওয়ায় গত কয়েকদিন ধরে হাসিনুর-মতিন গং আমাদের বাড়িতে তালা ঝুলিয়ে দেয়। মামলা প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত আমাদেরকে নিজ বাড়িতে উঠতে বাধা দেয়। তাদের ভয়ে আমরা বারবান্দা গ্রামে আমার বোনের বাড়িতে আশ্রয় নেই। গত মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) তারা গোলাপিকে বাড়িতে ওঠার কথা বলে ফোনে ডেকে নেয়। পরে হাসিনুরের বাড়িতে জিম্মি করে রাখে। সন্ধ্যায় আমি স্ত্রীর খোঁজ করলে গোলাপি তাদের কাছে নেই বলে জানায় হাসিনুর-মতিন গং। এরপর বিভিন্ন জায়গা ও আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে খোঁজ করেও স্ত্রীর সন্ধান পাইনি। দুই দিন পর বৃহস্পতিবার সকালে শুনতে পাই যে গোলাপির লাশ পাওয়া গেছে।’ সৈয়দ মোহাম্মদ আলীর আরও বলেন, ‘গোলাপি খাতুনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।


জড়িতদের গ্রেফতারকঠোর শাস্তি দাবি করছি। কেউ যেন পার না পায়।’ নিহতের ভাই মোঃ বেলাল হোসেন বলেন, ‘আমার বোনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে লাশ গুম করার জন্য পানিতে ফেলা হয়েছিল। আমি মামলা করেছি। জড়িত সকলের দ্রুত গ্রেফতার ও কঠোর শাস্তি চাই।’ রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ কাওছার আলী বলেন, ‘ নিহতের ভাই বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।’

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ