ঢাকা , শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬ , ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আদালতের নির্দেশনার পরও বিদ্যালয়ে ঢুকতে পারছেন না প্রধান শিক্ষিকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৭-২৫ ০৮:৪২:১২
আদালতের নির্দেশনার পরও বিদ্যালয়ে ঢুকতে পারছেন না প্রধান শিক্ষিকা আদালতের নির্দেশনার পরও বিদ্যালয়ে ঢুকতে পারছেন না প্রধান শিক্ষিকা
নিজস্ব প্রতিবেদক


আদালতের নির্দেশনা থাকার পরও বিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে না পারার অভিযোগ করেছেন কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার বেড়াখলা আবদুল মতিন খসরু বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হাছিনা ইসলাম। শুক্রবার কুমিল্লা নগরীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন। হাছিনা ইসলাম বলেন, প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালনে আদালতের নির্দেশনা থাকলেও তিনি এখনও বিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে পারছেন না। তার অভিযোগ, বোর্ড কর্তৃক বহিষ্কৃত শিক্ষক আমিনুল ইসলাম সুজন বহিরাগতদের নিয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কক্ষ দখল করে রেখেছেন এবং তাকে দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রাখতে হুমকি, ভয়ভীতি ও অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে প্রাণনাশের আশঙ্কায় তিনি বিদ্যালয়ে যেতে সাহস পাচ্ছেন না।



তিনি আরও অভিযোগ করেন, বহিরাগতদের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দিয়ে তার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক মানববন্ধন করানো হয়েছে। অনেক শিক্ষার্থী এতে অংশ নিতে না চাইলে তাদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে হাছিনা ইসলাম জানান, ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার সাবেক ইউএনও সোহেল রানার নেতৃত্বে দুই দফা তদন্তে স্বাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে আমিনুল ইসলাম সুজনের অবৈধ নিয়োগের বিষয়টি উঠে আসে। পরে শিক্ষা বোর্ড তাকে বহিষ্কার করে। এরপর থেকে বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।


তার ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২০ নভেম্বর বহিষ্কৃত শিক্ষক সুজন হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। পরে ১৩ মে হাইকোর্ট সুজনের যোগদানে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে হাছিনা ইসলামকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন। ওই আদেশ বাস্তবায়নে ১৫ জুলাই আদালত অবমাননার (কনটেম্পট) নোটিশও জারি করা হয়। তবে আদালতের নির্দেশনা সত্ত্বেও সুজন এখনও জোরপূর্বক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কক্ষ দখল করে রেখেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। শিক্ষা বোর্ড ও স্থানীয় সংসদ সদস্য জসিম উদ্দিনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে হাছিনা ইসলাম বলেন, “আমাদের বিদ্যালয়টিকে বাঁচান। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করা হচ্ছে। আমাকে নিয়ে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্যও ছড়ানো হচ্ছে।



উল্লেখ্য, এর আগে প্রধান শিক্ষিকা হাছিনা ইসলামকে চেয়ার থেকে লাথি মেরে ফেলে দেওয়ার একটি ঘটনা দেশজুড়ে আলোচনার সৃষ্টি করে। ওই ঘটনায় অভিযুক্ত আমিনুল ইসলাম সুজন গ্রেপ্তার হয়ে পরে জামিনে মুক্তি পান।


এদিকে, সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে আমিনুল ইসলাম সুজনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তাই এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ