ঢাকা , বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬ , ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৭ শিক্ষার্থীর বিপরীতে ৪ শিক্ষক, প্রধান শিক্ষক নেই-কাউখালীর জব্দকাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সংকট চরমে


আপডেট সময় : ২০২৬-০৭-২২ ১৫:৩০:২২
৭ শিক্ষার্থীর বিপরীতে ৪ শিক্ষক, প্রধান শিক্ষক নেই-কাউখালীর জব্দকাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সংকট চরমে ৭ শিক্ষার্থীর বিপরীতে ৪ শিক্ষক, প্রধান শিক্ষক নেই-কাউখালীর জব্দকাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সংকট চরমে
 
 
কাউখালী প্রতিনিধি:
পিরোজপুরের কাউখালীতে উপজেলার সয়না রঘুনাথপুর ইউনিয়নের ৬ নং জব্দকাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে মোট শিক্ষার্থী মাত্র ৭ জন, বিপরীতে কর্মরত শিক্ষক রয়েছেন ৪ জন। দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সহকারী শিক্ষক দীপঙ্কর শিকদার।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে কোনো শিক্ষার্থী নেই। তৃতীয় শ্রেণিতে ২ জন, চতুর্থ শ্রেণিতে ১ জন এবং পঞ্চম শ্রেণিতে ৪ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। সব মিলিয়ে বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে মাত্র ৭ জন শিক্ষার্থী পাঠদান করছে।

এলাকাবাসী জানান, বিদ্যালয়টির ক্যাচমেন্ট এরিয়া ছোট হওয়ায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা তুলনামূলক কম। এছাড়া বিদ্যালয়টির চারপাশে আরও চারটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকায় অধিকাংশ অভিভাবক তাদের সন্তানদের পাশের বিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি করিয়েছেন।

স্থানীয় অভিভাবকরা বলেন, বিদ্যালয়টিতে আগে অনেক শিক্ষার্থী ছিল। কিন্তু এখন লেখাপড়ার মান আগের মতো নেই বলে অনেকেই সন্তানদের অন্য স্কুলে ভর্তি করছেন। ভালো শিক্ষা নিশ্চিত করা গেলে আবার শিক্ষার্থী বাড়বে। বিদ্যালয়টি উপজেলার শেষ প্রান্তে হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই খারাপ। অনেক পরিবার শহরমুখী হওয়ায় এখানেও শিক্ষার্থী কমে গেছে।

বিদ্যালয়ের সাবেক ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি প্রভাতী রানী বলেন, আমাদের সময় বিদ্যালয়টিতে অনেক শিক্ষার্থী ছিল। শিক্ষকদের আরও আন্তরিক হতে হবে। লেখাপড়ার মান উন্নত হলে এবং অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখলে শিক্ষার্থী সংখ্যা আবার বাড়বে বলে আমি মনে করি।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দীপঙ্কর শিকদার বলেন, আমরা নিয়মিত পাঠদান পরিচালনা করছি। শিক্ষার্থী কম থাকলেও প্রত্যেকের প্রতি আলাদা নজর দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। নতুন শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য অভিভাবকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। প্রধান শিক্ষকের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। পদটি পূরণ হলে প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে আশা করছি।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার অহিদুর রহমান বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে রয়েছে। শিক্ষার্থী সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এলাকাভিত্তিক সচেতনতা বৃদ্ধি, মানসম্মত পাঠদান এবং অভিভাবকদের সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে বিদ্যালয়টিকে পুনরায় শিক্ষার্থীমুখী করার চেষ্টা চলছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, "প্রাথমিক শিক্ষা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের বিষয়। বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থী কম থাকার কারণগুলো খতিয়ে দেখা হবে। শিক্ষা অফিসের সঙ্গে সমন্বয় করে শিক্ষার মান উন্নয়ন, প্রধান শিক্ষকের পদ পূরণ এবং শিক্ষার্থী বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে অভিভাবকদেরও নিজ নিজ এলাকার বিদ্যালয়ে সন্তানদের ভর্তি করাতে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।


 

নিউজটি আপডেট করেছেন : Banglar Alo News Admin

কমেন্ট বক্স

প্রতিবেদকের তথ্য

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ