ঢাকা , মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬ , ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়াতে শিশু বলাৎকারের ঘটনার প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৭-২১ ১৫:২১:৫৩
ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়াতে শিশু বলাৎকারের ঘটনার প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়াতে শিশু বলাৎকারের ঘটনার প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।
নিজস্ব প্রতিবেদক ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়াতে শিশু বলাৎকারের ঘটনার প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। র‌্যাব প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখার লক্ষে সব ধরনের অপরাধীকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালনসহ অপহরণ, হত্যা, ধর্ষণ, রাহাজানিসহ মারাত্মক সব সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। এছাড়াও নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতার মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলোতে র‍্যাব অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করে থাকে। ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়াতে ১২ বছরের এক শিশুকে বলাৎকারের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত মোঃ রাশেদ (৩৫) কে গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন ( র‌্যাব )। গতকাল রাতে ঠাকুরগাঁও সদর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার রাশেদ রুহিয়া থানাধীন শুখানিপাড়া আখানগর গ্রামের মইনুল ইসলামের ছেলে। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ জুন, ২০২৬ তারিখ ভুক্তভোগী ঐ শিশু তার বাবার বাইসাইকেলে করে আখানগর বাজারে যায়। বাজারে আসামি রাশেদের সাথে ঐ শিশুর বাবার দেখা হয়। শিশুটিকে বাড়ি নিয়ে আসার জন্য আসামি তার বাবাকে বলে এবং নিজের মোটরসাইকেলে করে শিশুটির বাড়ির দিকে রওনা করে। আসামি রাশেদ শিশুটিকে বাড়িতে না নিয়ে গিয়ে আখানগর বাজার সংলগ্ন রেলক্রসিং এর ১০০ গজ উত্তরে নিয়ে যায় এবং রাত ০৯.০০ ঘটিকার দিকে ঐ শিশুকে বলাৎকার করে। ঘটনার পরে আসামি রাশেদ শিশুটিকে তার নিজের বাড়িতে নিয়ে যায় এবং ঐ ঘটনার ব্যাপারে কাউকে না জানাতে ভয়ভীতি দেখায়। পরদিন শিশুটি তার নিজ বাড়িতে ফেরত আসার পর বেশ কিছুদিন অসুস্থ থাকে। গত ২৪ জুন, ২০২৬ তারিখ বেলা ১১.০০ টার দিকে ভুক্তভোগী ঐ শিশুটি তার বাড়ির পাশে খেলার সময় আসামি রাশেদ সেখানে আসে এবং ভেলারহাটে ঘোরানোর কথা বলে মোটরসাইকেলে করে নিয়ে যায়। ভেলারহাটসহ বিভিন্ন জায়গায় শিশুটিকে ঘোরানোর পরে বেলা ০২.০০ টার দিকে বোচাপুকুর এলাকায় ভুট্টা ও পাটক্ষেতের আইলে নিয়ে যায়। আসামি রাশেদ সেখানে শিশুটিকে নানারকম ভয়ভীতি দেখিয়ে বলাৎকার করে। ঘটনার পরে আসামি রাশেদ ঘনি মহেশপুর গ্রামে শিশুটিকে তার খালার বাড়িতে নিয়ে যায়। শিশুটি তার নিজের বাড়িতে ফিরে এসে মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং অস্বাভাবিক চলাফেরা করতে থাকে। পরিবারের লোকজন তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে শিশুটি বলাৎকারের ঘটনাটি তার পরিবারকে জানায়। এই ঘটনায় গত ২৮ জুন, ২০২৬ ভুক্তভোগী ঐ শিশুটির মা বাদী হয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া থানায় রাশেদ কে আসামি করে বলাৎকারের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন ( মামলা নং-১১ )। ঘটনার পরে থেকেই আসামি রাশেদ আত্মগোপনে চলে যায়। মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনায় আসামিদের গ্রেফতারে র‍্যাব-১৩ কর্তৃক গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়। এরই ধারাবহিকতায় ২০ জুলাই, ২০২৬ তারিখ রাত ১১.৪৫ ঘটিকার সময় সিপিসি-১, র‌্যাব-১৩, দিনাজপুর ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল ঠাকুরগাঁও সদর থানাধীন পৌরসভাস্থ ১০ নং ওয়ার্ড এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ঠাকুরগাঁও জেলার রুহিয়া থানার শিশু বলাৎকার মামলার প্রধান আসামি মোঃ রাশেদ (৩৫) কে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়া সমাজ থেকে হত্যা, অপহরণ, ধর্ষণের মতো মারাত্মক অপরাধ দমনে র‌্যাবের এই নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। ...মূলকপি স্বাক্ষরিত... বিপ্লব কুমার গোস্বামী অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) অধিনায়কের পক্ষে

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ