ঠাকুগাঁওয়ে স্বামী-স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
ঠাকুগাঁওয়ে স্বামী-স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
ঠাকুগাঁওয়ে স্বামী-স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা রুবেল ইসলাম ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি :
ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক শহিদুল ইসলাম ও তার স্ত্রী কামরুন নাহারের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করেছে দুদক| আর সেই মামলার কার্যক্রম আটকে থাকায় দুদকের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন বিষয়ে জানতে চেয়েছেন আদালত| এমন নির্দেশনার প্রেক্ষিতে আদালতে লিখিতভাবে ব্যাখা দিয়েছেন মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা| দূর্নীতি দমন কমিশন সমšি^ত জেলা কার্যালয় ঠাকুরগাঁওয়ের উপ সহকারি পরিচালক ও মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা মোঃ জাহাঙ্গীর আলমের জমা দেয়া কপি থেকে জানা গেছে, অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক শহিদুল ইসলাম ও তার স্ত্রী কামরুন নাহারের বিরুদ্ধে সম্পদের তথ্য গোপন ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পৃথক দুটি মামলা করে দুদক | তবে মামলার ˆবধতা চ্যালেঞ্জ করে আসামিদের করা পৃথক দুটি রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট বিভাগ সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর সব কার্যক্রমের ওপর ¯’গিতাদেশ দিয়েছেন| সে কারনে তদন্ত কার্যক্রম ¯’গিত রয়েছে এবং আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা সম্ভব হয়নি| আদালত সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ৩০ মার্চ সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত শহিদুল ও তার স্ত্রী বিরুদ্ধে করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল না হওয়ায়, তদন্তকারী কর্মকর্তাকে কারণ ব্যাখ্যা করার নির্দেশ দেন| যার মামলা ন¤^র-০৩/২০২৩ ও মামলা ন¤^র-০৬/২০২৪| আদালতের ওই নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৭ জুন বিস্তারিত লিখিত ব্যাখ্যা দাখিল করা হয়| লিখিত ব্যাখ্যায় আরো বলা হয়, প্রথম মামলাটি ২০২৩ সালের ১৯ অক্টোবর দুদকের সমšি^ত জেলা কার্যালয়, ঠাকুরগাঁও থেকে দুদক আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারায় দায়ের করা হয়| মামলায় ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অফিস সহকারি এবং বর্তমানে হরিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে একই পদে কর্মরত রয়েছেন| মামলার দায়িত্ব পাওয়ার পর তদন্তকারি কর্মকর্তা বিভিন্ন সরকারি দপ্তর থেকে প্রয়োজনীয় রেকর্ডপত্র সংগ্রহ, নথি যাচাই এবং সাক্ষীদের জবানবন্দি গ্রহণের মাধ্যমে তদন্ত এগিয়ে নি”িছলেন| তবে তদন্ত চলাকালে শহীদুল ইসলাম মামলার ˆবধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০২৪ সালের ৩ জানুয়ারি হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন ন¤^র-৩১০/২০২৪ দায়ের করেন|
ওই রিটের শুনানি শেষে একই বছরের ১৬ জানুয়ারি হাইকোর্ট বিভাগ রুল জারি করেন এবং দুদকের নোটিশসহ স্পেশাল মামলা ন¤^র-০৩/২০২৩-এর সব কার্যক্রমের ওপর ¯’গিতাদেশ দেন| পরে দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি এবং ৩১ জুলাই ২০২৪ তারিখে পৃথক নির্দেশনায় তদন্তকারী কর্মকর্তাকে হাইকোর্টের আদেশ অনুসরণ করে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়| এরপর থেকে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম ¯’গিত রয়েছে| অপরদিকে দ্বিতীয় মামলাটি ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর একই আইনে দায়ের করা হয়| যার মামলা ন¤^র-০৬/২০২৪ হিসেবে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে| দ্বিতীয় মামলার তদন্তও ¯^াভাবিক নিয়মে চলছিল| পরে কামরুন নাহারও মামলার ˆবধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন ন¤^র-১৫০৫৮/২০২৪ দায়ের করেন| এরপর থেকে দ্বিতীয় মামলার তদন্ত কার্যক্রমও বন্ধ রয়েছে| ব্যাখ্যায় আরও উল্লেখ করেন, দুটি মামলার বর্তমান অব¯’া নিয়মিতভাবে মাসিক অগ্রগতি প্রতিবেদনের মাধ্যমে দুদকের প্রধান কার্যালয়কে জানানো হ”েছ| পাশাপাশি চলতি বছরের ৩১ মার্চ মহাপরিচালক (লিগ্যাল অ্যান্ড প্রসিকিউশন), দুদক প্রধান কার্যালয় বরাবর পাঠানো এক চিঠিতে হাইকোর্টে বিচার কার্যক্রম ¯’গিত থাকা মামলাগুলোর ¯’গিতাদেশ প্রত্যাহারে প্রয়োজনীয় আইনগত উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে|
হাইকোর্ট বিভাগে দায়ের করা রিটগুলোর নিষ্পত্তি এবং কমিশনের অনুমোদন পাওয়া সাপেক্ষে দ্রুত তদন্ত শেষ করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে| ¯’ানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, ডিসি অফিসের শহিদুল সহজ সরল মানুষকে ভুল বুঝিয়ে সরকারি কাজের জমি অধিগ্রহনে কমদামে জমি ক্রয় করেন| আর সেই জমি সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে উ”চমূল্যে বিক্রি করেন| এছাড়াও টিসিবির পণ্যের টাকা লুটপাট ও অনিয়ম দুর্নীতির ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে| এভাবেই মাত্র এক বছরের ব্যবধানে কয়েক কোটি টাকার মালিক বনে যান কর্মচারি শহিদুল| শহরে গড়ে তোলেন আলিসান বাড়ি| হঠাৎ করেই এত সম্পদের মালিক হওয়ায় শহরজুড়ে চলছে আলোচনা ও সমালোচনা| তারপরেও শাস্তি না হওয়ায় এখনো দাপিয়ে বেড়া”েছ| এই দুই মামলার আসামি শহীদুল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রী কামরুন নাহারের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি|
আর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আসামিপক্ষের করা রিটের কারণে তদন্ত কার্যক্রমও ¯’গিত আছে| ¯’গিতাদেশ প্রত্যাহার হলে কমিশনের অনুমোদন সাপেক্ষে দ্রুত তদন্ত শেষ করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে| দুদকের আইনজীবী এমএম অ্যাডভোকেট সফিউজ্জামান সুমন বলেন, মামলা দুটির ফাইনাল রিপোর্ট আদালতে জমা হলেই কার্যক্রম চালানো যাবে|
নিউজটি আপডেট করেছেন :
[email protected]
কমেন্ট বক্স