কুড়িগ্রামে ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুতে নেই সংযোগ সড়ক
কুড়িগ্রামে ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুতে নেই সংযোগ সড়ক
আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:-
প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলার যাদুরচর ইউনিয়নের কাশিয়াবাড়ি গ্রাম-সংলগ্ন খালের ওপর সেতুটির সংযোগ সড়ক না থাকায় যানবাহন চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের।
চলতি বর্ষা মৌসুমে এ সেতুতে চলাচলে ভোগান্তি বাড়ার কথা জানান স্থানীয় বাসিন্দারা। এর মধ্যে বৃষ্টির কারণে কাদা-মাটিতে মিশে চলাচলের একেবারেই অনুপযুক্ত হয়ে পড়েছে সেতুটি। ফলে ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ সেতু উপযুক্ত কাজে ব্যবহার প্রায় অসম্ভব।
স্থানীয়রা জানান, সেতুর দুদিকে বস্তা ও মাটি দিয়ে কোনো রকম হাঁটা চলার জন্য রাস্তা বানালেও বৃষ্টির কারণে সেই অংশ ভেঙে পড়েছে। এতে চরম দুর্ভোগের সৃষ্টি হচ্ছে।
শনিবার সরেজমিন দেখা যায়, কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলার যাদুরচর ইউনিয়নের কাশিয়াবাড়ি গ্রাম-সংলগ্ন খালের ওপর একটি পাঁকা ব্রিজ নির্মাণ করা হয়। ৯৬ মিটার পাঁকা ব্রিজ নির্মাণের জন্য লটারির মাধ্যমে কাজটি পায় জামালপুর জেলার এমইএম এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. সামসুদ্দিন দিলিপ। কাজের বরাদ্দ ছিল প্রায় ১১ কোটি টাকা।
ব্রিজের কাজ শেষ হলেও ঠিকাদারির গাফলতির কারণে সংযোগ সড়কের মাটি ভরাটের কাজ শেষ করা হয়নি। এ ছাড়াও ব্রিজের দুই মাথার রিটার্নিং ওয়াল নির্মাণ না করেই ঠিকাদার চলে যান। এর ফলে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয়দের।
স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ সাজেদুল ইসলাম বলেন, সেতুর কাজ শেষ হলেও রাস্তার কাজ বাকি রয়েছে। বৃষ্টির পানিতে রাস্তা ভেঙে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। পথচারীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে। দ্রুত মাটি ভরাটের কাজ করলে সমস্যা সমাধান হবে।
অন্য বাসিন্দা মোঃ মাইদুল ইসলাম বলেন, প্রায় ১১ কোটি টাকা খরচ করে এ ব্রিজটি বানানো হয়েছে। আমরা জনগণ যদি এটা ব্যবহারই করতে না পারি, তাহলে এটা বানিয়ে কি লাভ? গত সপ্তাহে এক বৃদ্ধ গর্তে পড়ে গিয়ে পা ও কোমড় ভেঙে যায়। এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী মোঃ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘জমির মালিকদের জায়গা নিয়ে সমস্যার কারণে ব্রিজের দুপাশের শেষ মাথায় রিটার্নিং ওয়ালের কাজ করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ আলাউদ্দিন বলেন, সমস্যার কথা জেনেছি এবং প্রকৌশলীকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নিউজটি আপডেট করেছেন :
[email protected]
কমেন্ট বক্স