গোদাগাড়ীতে জমি দখলের চেষ্টা ও সেচে বাধার অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলনে অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য
গোদাগাড়ীতে জমি দখলের চেষ্টা ও সেচে বাধার অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলনে অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী:
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় বৈধভাবে ক্রয় করা জমি দখলের চেষ্টা, সেচের পানি বন্ধ করে কৃষিকাজে বাধা, আমগাছ উপড়ে ফেলা, প্রাণনাশের হুমকি ও মিথ্যা মামলায় হয়রানির অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য রিয়াজুল ইসলাম। তবে অভিযোগ অস্বীকার না করলেও এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি অভিযুক্তদের একজন, আর অপর অভিযুক্তের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলা তদন্তাধীন রয়েছে।
শনিবার (১২ জুলাই) দুপুরে রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়ন (আরইউজে) কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে রিয়াজুল ইসলাম এসব অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, গোদাগাড়ী উপজেলার রাজাবাড়ী ইউনিয়নের গোগ্রাম মৌজার আরএস-২০ খতিয়ানের ১০১ নম্বর দাগসহ কয়েকটি দাগের জমি নিয়ে ১৯৮১ সালে আদালতের রায়ের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি হয়। পরবর্তীতে ১৯৮৭ সালে নিবন্ধিত দুটি দলিলের মাধ্যমে তিনি ও তার পরিবার ১ দশমিক ৬৬ একর জমি ক্রয় করেন। বর্তমানে জমিটি তাদের নামে নামজারি করা হয়েছে এবং নিয়মিত খাজনাও পরিশোধ করা হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে ভয়ভীতি প্রদর্শন, মিথ্যা মামলা এবং হামলার হুমকি দিয়ে তাদের জমি থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের গভীর নলকূপ (ডিপ) ও পাশের একটি সেমি-ডিপ থেকে তাদের জমিতে সেচের পানি সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অথচ একই ডিপ থেকে দূরের জমিতে নিয়মিত পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। এমনকি অন্য কোনো বর্গাদারকেও তাদের জমি চাষ করতে দেওয়া হচ্ছে না বলেও দাবি করেন তিনি। রিয়াজুল ইসলাম আরও অভিযোগ করেন, কানাইকুন্ড-৩ নম্বর ডিপ থেকে ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের জমিতে সেচ দেওয়া হচ্ছে না। ডিপের চালক তাকে জানিয়েছেন, ডিপ স্কিমের সভাপতি ও পূর্বের বর্গাদারের নিষেধাজ্ঞার কারণে তিনি পানি দিতে পারছেন না। সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, স্থানীয় আইনজীবী মোঃ জিয়াউল হকের ওই জমিতে কোনো বৈধ মালিকানা নেই। তবুও তিনি ও তার সহযোগীরা মব সৃষ্টি করে জমি দখলের চেষ্টা এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন। গত দুই বছর ধরে তাকে গুম, খুন, বাড়িতে আগুন দেওয়া এবং ফসল নষ্ট করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। রিয়াজুল ইসলামের ভাষ্য, গত ৩ জুলাই রাতে সংঘবদ্ধভাবে তার আমবাগানে প্রবেশ করে ১০১টি আমগাছ উপড়ে ফেলা হয় এবং কয়েকটি গাছ কেটে নিয়ে যাওয়া হয়। এতে প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। এ ঘটনায় ৫ জুলাই গোদাগাড়ী মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় আইনজীবী মোঃ জিয়াউল হক, মোঃ সামায়নসহ নয়জনকে আসামি করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তিনি আরও জানান, রাজাবাড়ী ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত ভূমি সহকারী কর্মকর্তার তদন্ত প্রতিবেদনে তাদের নামে নামজারি, জমির ভোগদখল এবং সেচের পানিতে প্রতিবন্ধকতার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। এরপরও তাদের জমিতে সেচের পানি সরবরাহ করা হচ্ছে না। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে মোঃ সামায়ন বলেন, আমার সঙ্গে কথা বলে কোনো লাভ নেই।
জিয়া উকিলের সঙ্গেই কথা বলেন। এ জমি নিয়ে আমি কিছু বলতে পারব না। ডিপের চালক আসাদুল ইসলাম বলেন, ডিপ স্কিমের সভাপতি ও কমিটির সিদ্ধান্ত না থাকায় পানি দিতে পারছি না। এছাড়া আগের মতো ডিপে পর্যাপ্ত পানি না ওঠায় সবাইকে পানি সরবরাহ করাও সম্ভব হচ্ছে না। অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে আইনজীবী মোঃ জিয়াউল হকের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। রাজশাহী জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, এ ঘটনায় গোদাগাড়ী মডেল থানায় একটি মামলা হয়েছে। মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নন। সংবাদ সম্মেলনে রিয়াজুল ইসলাম তার উপস্থাপিত দলিল, আদালতের রায় ও ভূমি অফিসের তদন্ত প্রতিবেদন নিরপেক্ষভাবে যাচাই, বৈধ জমির দখল নিশ্চিত করা, সেচের পানি সরবরাহ চালু, মামলার সুষ্ঠু তদন্ত জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।#
নিউজটি আপডেট করেছেন :
[email protected]
কমেন্ট বক্স