ঢাকা , রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬ , ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টানা ভারী বর্ষণে কটিয়াদী পৌর এলাকায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতা: অচল সড়ক, চরম জনভোগান্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৭-১২ ১৭:১৮:৩৪
টানা ভারী বর্ষণে কটিয়াদী পৌর এলাকায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতা: অচল সড়ক, চরম জনভোগান্তি টানা ভারী বর্ষণে কটিয়াদী পৌর এলাকায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতা: অচল সড়ক, চরম জনভোগান্তি
কটিয়াদী(কিশোরগঞ্জ)প্রতিনিধি :


টানা অতি বর্ষণের ফলে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। পৌর এলাকার প্রধান সড়ক, অলিগলি, স্কুল-কলেজ, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং অসংখ্য বসতবাড়ি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। অনেক পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছে।কটিয়াদী সরকারি বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ, অফিস কক্ষ ও একাধিক শ্রেণিকক্ষে পানি প্রবেশ করায় চলমান অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা ও পাঠদান সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। জলাবদ্ধতার কারণে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীসহ সর্বস্তরের মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।


বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।অনেক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়ায় স্থবির হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। কটিয়াদী পৌরশহরে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে পুকুরে পরিণত হয়। যে কারণে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই। প্রভাবশালীরা খাল ভরাট করে বিভিন্ন পাকা স্থাপনা তৈরি করায় পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই সৃষ্টি হয় চরম জলাবদ্ধতা । অনেকেই পৌরসভার পাকা রাস্তার ওপর প্রাচীর নির্মাণ করেছে।


কটিয়াদী পৌরশহরের ড্রেনের ৮৫ শতাংশই রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অকেজো ও ভরাট অবস্থায় রয়েছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই পানির নিচে তলিয়ে যায় অধিকাংশ আবাসিক এলাকা। পানি নিস্কাশনের খাল ভরাট ও তপাই খাল দখল করে স্থানীয় প্রভাবশালীরা পাকা স্থাপনা তৈরি করে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করে দিয়েছেন। ফলে পৌরসভার পানি নিষ্কাশনের বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, ডাস্টবিন ও ড্রেনের ময়লাযুক্ত পানি উপচে সড়কে জমে হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি তৈরি করেছে। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন জরুরি প্রয়োজনে ঘরের বাইরে বের হওয়া শিক্ষাথী, সাধারণ মানুষ, চাকুরিজীবী এবং দিনমজুরেরা। গণপরিবহন চলাচল সীমিত হয়ে পড়ায় গন্তব্যে পৌঁছাতে মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে এবং গুণতে হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে জানান, অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং পানি নিষ্কাশনের সঠিক পথ না থাকায় কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতেই পুরো পৌর এলাকা অচল হয়ে পড়ে। ক্ষতিগ্রস্ত শফিক জানান, সকালে ঘুম থেকে উঠে তিনি দেখেন ঘরের ভেতরে পানি ঢুকে গেছে। ফ্রিজ, আসবাবপত্র, চাল-ডালসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পানিতে ডুবে নষ্ট হয়েছে। কিছুই সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাননি। অনেক পরিবারের রান্নাবান্না ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে। শুধু বাসাবাড়িই নয়, অনেক দোকানপাটেও পানি ঢুকে নষ্ট হয়েছে মালামাল। এতে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ীরাও। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুম এলেই একই ধরনের জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। স্থায়ী ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়ন না হওয়ায় এ সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে ভোগাচ্ছে তাদের।


বিষয়ে কটিয়াদী পৌর প্রশাসক উপজেলা সহকারি কমিশনার ভূমি(এসিল্যান্ড)লাবনী আক্তার তারানা বলেন, অল্প সময়ে অধিক বৃষ্টিপাত হওয়ার কারণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় পৌরসভার সকল ইউনিট কাজ করছে। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। এম এ কুদ্দুস

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ