উদ্বোধনে যাচ্ছেননা প্রধানমন্ত্রী : বিএডিসির ব্যর্থতায় ক্ষুব্ধ চরকাউয়াবাসী
উদ্বোধনে যাচ্ছেননা প্রধানমন্ত্রী : বিএডিসির ব্যর্থতায় ক্ষুব্ধ চরকাউয়াবাসী
স্টাফ রিপোর্টার:
বরিশালের চরকাউয়া ইউনিয়নের ঐতিহাসিক স্বনির্ভর খাল পুনঃখনন প্রকল্পটি উদ্বোধনে যাচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ১৩ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর বরিশাল সফর ঘিরে খালটি উদ্বোধনের আলোচনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত সেটি হচ্ছে না। বিএডিসির ব্যর্থতায় প্রকল্পে নানা দুর্নীতি অনিয়মের অভিযোগ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশের পর উদ্বোধনের পরিকল্পনায় পরিবর্তন আসে বলে স্থানীয়দের দাবি।
প্রায় ৪৮ বছর পর বরিশাল সদর উপজেলার চরকাউয়া ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী স্বনির্ভর খাল পুনঃখনন করা হয়। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে গত ২ ডিসেম্বর তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. খায়রুল আলম সুমন প্রকল্পের কাজ উদ্বোধন করেন। পরে বর্তমান সরকারের আমলে পুনরায় খনন কার্যক্রম শুরু হয়। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) বাস্তবায়নাধীন ক্ষুদ্র সেচ প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৪ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন এবং কালভার্ট নির্মাণের কাজ করা হয়। দীর্ঘদিন ভরাট হয়ে থাকা খাল পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং সেচব্যবস্থার উন্নয়নই ছিল প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।
স্থানীয় ভূমি মালিক শহিদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, খাল খননের নামে তাদের রেকর্ডভুক্ত জমি কেটে নেওয়া হয়েছে এবং এতে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। একজনের ব্যক্তিগত ঘেরে যাওয়ার জন্য ১৪ ফুট রাস্তা করা হয়েছে। এত টাকা ব্যয়ে খাল খনন হলেও আমাদের কোনো উপকার হয়নি। বরং যথাযথ প্রক্রিয়া না মানায় জলাবদ্ধতা বেড়েছে।
কৃষক কাওছার হোসেন বলেন, খালের দুই পাশে রাস্তা নির্মাণ করা হলেও পানি চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় নালা বা কালভার্ট নির্মাণ না করায় জমিতে পানি আটকে রয়েছে। ১০০ মিটার পর পর পানির নালা দেওয়ার কথা থাকলেও তা দেওয়া হয়নি। ফলে চলতি মৌসুমে ইরি ধানের চাষাবাদ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তার ভাষ্য, "সরকারের উদ্দেশ্য ভালো ছিল, কিন্তু বাস্তবায়নের দুর্নীতি ও ত্রুটির কারণে কৃষকরা কোনো সুফল পাননি।"
সরেজমিনে দেখা গেছে, পূর্ব পাশে প্রায় ৩০০ একর এবং পশ্চিম পাশে প্রায় ৪০০ একর জমিতে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় বিস্তীর্ণ এলাকা জলাবদ্ধ হয়ে রয়েছে। অনেক জমি এ মৌসুমে অনাবাদি পড়ে আছে। বোরো চাষ ব্যাহত হওয়ার পরে এখন আমন চাষেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার উপক্রম হয়েছে। এছাড়া অপরিকল্পিতভাবে ভেকু দিয়ে খনন করায় বিভিন্ন স্থানে ইটের রাস্তা ভেঙ্গে পড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী একজন স্থানীয় ব্যক্তি অধিকাংশ সিদ্ধান্ত এককভাবে নিয়েছেন এবং এলাকাবাসীর মতামত ও আপত্তি আমলে নেননি।
প্রকল্পের প্রথম উদ্যোক্তা মতিউল ইসলাম রানা বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রক্রিয়াগত ত্রুটি ও পর্যাপ্ত তদারকির অভাব ছিল। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এবং বিএডিসি উভয়ের দায়িত্ব যথাযথভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী সরেজমিনে আসলে শুধু খাল উদ্বোধনই নয়, এলাকার সার্বিক উন্নয়নে এলাকা উপকৃত হতো।
স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এখানে আসার কথা ছিল। ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশের পর তিনি হয়তো সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছেন। এতে উন্নয়নবঞ্চিত হবে আমাদের এলাকা। এই বিষয়ে অনিয়মকারী স্থানীয় সাব কন্ট্রাক্টর, মূল ঠিকাদার এবং বিএডিসির সংস্লিষ্ট ব্যক্তিদের কঠোর শাস্তি হওয়া উচিৎ।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Banglar Alo News Admin
কমেন্ট বক্স