সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি ::
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায় বন্যা পুনর্বাসন প্রকল্পের আওতায় ১১ কোটি টাকারও বেশি ব্যয়ে দুটি সেতু পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছিল মহাসমারোহে। সরকারি চুক্তি অনুযায়ী, গত ৩০ জুন, ২০২৬ তারিখের মধ্যে প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ শেষ করে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আজ ৭ জুলাই, ২০২৬ তারিখে এসে দেখা যাচ্ছে, অফিশিয়াল মেয়াদ পার হয়ে গেলেও কাজের অগ্রগতি সন্তোষজনক নয়। উল্টো কোনো বিকল্প রাস্তার ব্যবস্থা না করেই মূল সেতু ভেঙে কাজ শুরু করায় বর্তমানে উপজেলার লাখ লাখ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান 'বাসেত প্রকৌশলী লিমিটেড ও মেসার্স আনোয়ারা এন্টারপ্রাইজ (জেভি)' এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (LGED) চরম উদাসীনতার কারণেই আজ এই অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।বিকল্প পথ ছাড়াই সেতু ভাঙার খেসারত দিচ্ছে লাখো মানুষ
সরেজমিনে দেখা গেছে, দোয়ারা উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের মহব্বতপুর বাজার সংলগ্ন সেতু নির্মাণের কাজ চলছে ধীরগতিতে। কোনো ধরনের টেকসই ডাইভারশন বা বিকল্প রাস্তা নির্মাণ না করেই পুরনো সেতু ভেঙে ফেলায় কুমারকান্দি, বোগলা বাজার, হরিণাপটিসহ আশেপাশের ডজনখানেক গ্রামের কয়েক লাখ মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে।
বিকল্প পথ না থাকায় প্রতিদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী এবং জরুরি মুমূর্ষু রোগীদের যাতায়াত করতে হচ্ছে চরম ঝুঁকি নিয়ে। বর্ষা মৌসুমে এই ভোগান্তি এখন রূপ নিয়েছে মরণফাঁদে।
মেয়াদ শেষ, কিন্তু কাজ বাকি সিংহভাগ সাইনবোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (ADB) ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে ১১,০৪,৪৬,৭১৭ টাকা বাজেটের এই মেগা প্রকল্পটি গত বছরের ১৩ এপ্রিল, ২০২৫ তারিখে শুরু হয়। চুক্তি অনুযায়ী, গত ৩০ জুন, ২০২৬-এর মধ্যে কাজ বুঝিয়ে দেওয়ার কথা থাকলেও প্রকল্প এলাকার বর্তমান চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন।
স্থানীয় ক্ষুব্ধ জনতা জানান, "কাজে হাত দেওয়ার পর থেকেই ঠিকাদারের গাফিলতি ছিল চোখে পড়ার মতো। এখন তো চুক্তির মেয়াদও শেষ, কিন্তু এখনো কাজ কমপ্লিট হয়নি। আমাদের দুর্ভোগ দেখার যেন কেউ নেই।
এ বিষয়ে দোয়ার উপজেলার এলজিডি কর্মকর্তা আব্দুল হামিদ জানান, আমরা আগামী সাপ্তাহে একটি বিকল্প রাস্তা করে দিবো।