সন্তানের কুকর্মের লোকলজ্জা ঢাকতে ১৮ দিন থেকে মাদ্রাসা যাচ্ছেনা এক শিক্ষক।
সন্তানের কুকর্মের লোকলজ্জা ঢাকতে ১৮ দিন থেকে মাদ্রাসা যাচ্ছেনা এক শিক্ষক।
রানা ইসলাম বদরগঞ্জ রংপুর
রংপুরে বদরগঞ্জে বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন লালবাড়ি দাখিল মাদ্রাসা সহকারী শিক্ষক আব্দুল আজিজ ১৮ দিন থেকে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ উঠেছে।বিষয়টি জানার পরও ঐ মাদ্রাসা সুপার আবু মুসা ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।গত বৃহস্পতিবার ঐ মাদ্রাসা সরজমিন যেয়ে শিক্ষক অনুপস্থিত বিষয়টি জানতে সুপার কে পাওয়া যায় নি।মাদ্রাসা অন্য শিক্ষক কাছে হাজিরা খাতা দেখতে চাইলে তারা বলেন সুপার অনুমতি ছাড়া দেখা যাবেনা।নাম প্রকাশ না করার শর্তে কচুবাড়ি এলাকার কয়েকজন ব্যাক্তি বলেন,১৮ দিন না। আব্দুল আজিজ ২ মাস থেকে মাদ্রাসা আসেননা।কারন তার ছেলে শাকিল একজন বিবাহিত মেয়েকে নিয়ে দুইমাস থেকে নিখোঁজ।
এজন্য লোকলজ্জা ভয়ে ঐ শিক্ষক মাদ্রাসা আসছেননা।এবিষয়ে কচুবাড়ি মাদ্রাসা সুপার আবু মুসা,মুঠোফোনে সাংবাদিককে বলেন,আব্দুল আজিজ নামে একজন আরবি শিক্ষক দুই দফায় মানুষের মাধ্যমে ছুটির আবেদন পাঠিয়েছিলেন।এবিষয়ে বদরগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক একাডেমিক সুপারভাইজার, শামীম আরা ইয়াসমিন বলেন,ঐ শিক্ষকের মাদ্রাসা অনুপস্থিত বিষয়ে ইউএনও মহোদয় আমাকে তদন্ত দায়িত্ব দিয়েছেন।
জানতে চাইলে বদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আন্জুমান সুলতানা,বলেন,১৮ দিন থেকে একজন শিক্ষক মাদ্রাসা আসছেন না।বিষয়টি আমাকে কেউ জানায়নি।আপনার কাছে প্রথম শুনলাম। বিষয় গুরুত্বসহকারে দেখার জন্য মাধ্যমিক একাডেমিক সুপারভাইজারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য গত ১৪ মে বদরগঞ্জ পৌরশহরে আম্বিয়ার মোড় এলাকা থেকে ফিল্মী স্টাইলে বিবাহিত এক ছাত্রীকে রাস্তা থেকে অপহরন করে নিয়ে যান শাকিল শুভ নামে এক যুবক।শাকিল শুভ পিতার নাম আব্দুল আজিজ।তিনি কচুবাড়ি দাখিল মাদ্রাসা আরবি শিক্ষক। ঘটনার একমাস ২০দিন অতিবাহিত হলেও পুলিশ অপহৃত ছাত্রীকে উদ্ধার করতে পারেনি।।
এ ঘটনায় অপহৃত ছাত্রীর মা বাদী হয়ে থানায় তিনজনে নামে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।তারা হলেন,শাকিল শুভ,আবদুল আজিজ,শাহানাজ বেগম।পরবর্তীতে শাকিল শুভ নামে থানায় অপহরণ অভিযোগ এনে মামলা হয়। ভুক্তভোগী মায়ের লিখিত অভিযোগে ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, শাকিল শুভ নামে এক যুবক প্রায় সময় আমার বিবাহিত মেয়েটিকে প্রাইভেট যাওয়া আসার সময় উত্ত্যক্ত করত এবং বিভিন্ন প্রলোভন দেখাতো।তাকে একাধিকবার বললে সে কোন কথা শুনত না।এমনকি শাকিল শুভ পিতা,মাদ্রাসা শিক্ষক আব্দুল আজিজকে বললেও তিনি তার ছেলেকে শাসন করতেনা। গত ১৪ মে আমার মেয়ে বাড়ি থেকে বদরগঞ্জ পৌরশহরে আম্বিয়ার মোড়ে প্রাইভেট পড়া উদ্দেশ্য বের হয়। সেখানে পথ রোধ করে শাকিল শুভ আমার মেয়েটিকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে তুলে নিয়ে যায়। পরে আমার মেয়ে প্রাইভেট পড়ে বাড়িতে না আসলে আমি খোঁজ নিয়ে জানতে পারি শাকিল আমার মেয়েকে রাস্তায় আটকিয়ে অপহরণ করে নিয়ে যায়।আমি বিষয়টি শাকিল শুভ বাসায় যেয়ে তার বাবা আজিজকে বললে তিনি ও তার স্ত্রী শাহনাজ আমাকে চুলের মুঠি ধরে মারধর করে বের করে দেয়।পরে আমি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করি। কিন্তু পুলিশ ৭ দিন হলেও আমার বিবাহিত মেয়েকে এখনো উদ্ধার করতে পারিনি।
আরিফুল নামে এক ব্যাক্তি জানান,মাদ্রাসা শিক্ষক আজিজের ছেলে একজন খারাপ প্রকৃত ছেলে।একজন বিবাহিত মেয়েকে কিভাবে জোরপূর্বক নিয়ে যায়।এ ঘটনায় সুস্থ বিচার চাই। নাম প্রকাশ না করার শর্তে,কচুবাড়ি এলাকায় কয়েকজন ব্যাক্তি বলেন,শাকিল শুভ একজন লম্পট স্বভাবের ছেলে।তার বাবা স্হানীয় কচুবাড়ি মাদ্রাসা শিক্ষক। শিক্ষক হয়েও তিনি ছেলেকে শাসন করতেননা।এজন্য সে বেপরোয়া ছিলেন। স্হানীয় ইউপি সদস্য মেরাজ বলেন,বিষয়টি অত্যন্ত অমানবিক ঘটনা। মেয়েটি বিয়ে হয়েছে পাশের দলুয়া গ্রামের এক ব্যক্তি সঙ্গে।
শাকিল শুভ মেয়েটি বিবাহিত জেনেও তাকে প্রায় সময় বিরক্ত করতো।তাকে পুলিশ আটক করলে সব সমস্যা সমাধানহবে। বদরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ হাসান জাহিদ সরকার বলেন, মেয়েটিকে উদ্ধারের সবরকম চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
নিউজটি আপডেট করেছেন :
[email protected]
কমেন্ট বক্স