ঢাকা , বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬ , ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বরিশালে অন্ডকোষ চেঁপে চেকে স্বাক্ষর আদায়

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৭-০৫ ০৬:০৭:২৬
বরিশালে অন্ডকোষ চেঁপে চেকে স্বাক্ষর আদায় বরিশালে অন্ডকোষ চেঁপে চেকে স্বাক্ষর আদায়
রাহাদ সুমন

বরিশাল
, ব্যুরো :


বরিশাল নগরীতে অগ্রণী (আবাসন) হাউজিং লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল আজিজ হাওলাদারকে মারধর করে অন্ডকোষ চেঁপে ধরে চেক ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর গ্রহণ করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত একটি সিসি টিভির ফুটেজ শনিবার (৪ জুলাই) রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পরলে বরিশালজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। এনিয়ে রবিবার (৫ জুলাই) দুপুরে বরিশাল জেলা ও মহানগর যুবদলের নেতৃবৃন্দরা বরিশাল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে দাবি করেছেন অভিযুক্তরা যুবদলের কেউ নয়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নগরীর সদর রোডের অগ্রণী হাউজিং অফিসে গত ২৭ জুন সন্ধ্যার পর আব্দুল আজিজের রুমে চারজন যুবক প্রবেশ করেন।


তারা ওই কক্ষে অবস্থানরত অন্যান্যদের বের করে দিয়ে মোস্তাফিজুর রহমান লিটু নামের এক ব্যক্তি আজিজকে মারধর করেন। একপর্যায়ে তার অন্ডকোষ চেঁপে ধরে দুটি চেক ও একটি সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। ঘটনার সময় আজিজকে ‘বাচ্চু বাচ্চু’ বলে কাউকে ডাকতে শোনা যায়। পরে আরও একজন কক্ষে প্রবেশ করলে তাকে কিছুক্ষণ আটকে রেখে ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয় হামলাকারীরা। সিসিটিভির ফুটেজে আরও দেখা গেছে, পরবর্তীতে চেক ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর আদায়ের পর সেটি হস্তান্তরের সময় জোরপূর্বক হাসিমুখ করে সেই দৃশ্য হামলাকারী লিটুর সাথে থাকা এক সহযোগি মোবাইল ফোনে ধারণ করছে। স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত লিটু অগ্রণী হাউজিংয়ের কাছাকাছি কাঠপট্টি সড়কের বাসিন্দা। তিনি যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তার বড় ভাই মাহবুবুর রহমান পিন্টু মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি।


ভুক্তভোগী আব্দুল আজিজ বলেন, লিটু একসময় তাদের আবাসন ব্যবসার অংশীদার ছিলেন। পরবর্তী সময়ে বিনিয়োগের বিপরীতে জমি হস্তান্তরের মাধ্যমে হিসেব নিস্পত্তি করা হয়, বর্তমানে লিটুর কোনো পাওনা নেই। এমন অঙ্গীকারনামাও রয়েছে। তারপরেও তিনি দীর্ঘদিন থেকে এক কোটি টাকা দাবি করে আসছিলো। ২৭ জুন সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে অফিসে ঢুকে তাকে (আজিজ) মারধর করে জোরপূর্বক ৭০ লাখ টাকার একটি চেক, একটি সাদা চেক ও দুটি সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। আব্দুল আজিজ আরও বলেন, ঘটনার পর তিনি ব্যাংকে অভিযোগ করায় ওই চেক থেকে টাকা উত্তোলন করা সম্ভব হয়নি। এই ঘটনায় তিনি আদালতে নালিশী মামলা দায়ের করেছেন।

আদালত মামলাটি এফআইআর হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। সিসিটিভির ফুটেজ আব্দুল আজিজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন বলেও স্বীকার করেছেন। অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমান লিটু বলেন, আমি ওই প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ছিলাম। আব্দুল আজিজ আমার বিপুল পরিমান অর্থ আত্মসাত করেছেন। এ বিষয়ে পরে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানানো হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।



কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মো. আল মামুন উল ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগী আব্দুল আজিজ থানায় এসে বিষয়টি মৌখিকভাবে জানিয়েছেন। আদালতের আদেশের কাগজ এখনও থানায় এসে পৌঁছায়নি। আদালতের নির্দেশের কপি হাতে পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অপরদিকে পুরো বিষয়টি নিয়ে রবিবার দুপুরে বরিশাল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন জেলা ও মহানগর যুবদলের নেতৃবৃন্দরা।


তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, মোস্তাফিজুর রহমান লিটু নিজেকে যুবদল নেতা হিসেবে পরিচয় দিলেও সে যুবদলের কেউ নয়। তারা আরও বলেছেন, কেউ অপরাধ করলে তার বিরুদ্ধে আইনের আশ্রয় নেওয়া যেতে পারে। তবে প্রকাশ্যে এভাবে লাঞ্ছিত করার বিষয়টি কোন অবস্থাতেই কাম্য নয়।



 

নিউজটি আপডেট করেছেন : Banglar Alo News Admin

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ