উজিরপুরে মন্দিরের কমিটি ও আর্থিক হিসাব নিয়ে বিরোধ, দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
উজিরপুরে মন্দিরের কমিটি ও আর্থিক হিসাব নিয়ে বিরোধ, দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
কে এম সোহেব জুয়েল ঃ
বরিশালের উজিরপুর,গৌরনদী ও বাবুগঞ্জ উপজেলার সিমান্তবর্তি এলাকার উজিরপুরের বামরাইল ইউনিয়নের ঘন্টেশ্বর গ্রামে ঐতিহ্যবাহী সার্বজনীন শ্রী শ্রী গঙ্গা-বিষ্ণু, শিব, কালী, নারায়ণ ও অন্নপূর্ণা মন্দিরের পরিচালনা কমিটি, আর্থিক হিসাব এবং ভোগদখলীয় জমি নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে । এ ঘটনায় এক পক্ষ উজিরপুর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। অভিযোগের বিরুদ্ধে বর্তমান পরিচালনা কমিটি অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে। অভিযোগকারী ও মন্দির পরিচালনা কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বরুণ দাস অভিযোগ করেন, বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) সকাল ৯টার দিকে বাবুগঞ্জ উপজেলার আগরপুর গ্রামের তপন মিত্র, সমীর দাস ও উজিরপুরের পলাশ কুণ্ডসহ কয়েকজন মন্দিরের ভোগদখলীয় জমিতে থাকা বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা করেন। এ ঘটনায় তিনি উজিরপুর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অন্যদিকে বর্তমান মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি পলাশ কুণ্ড ও সাধারণ সম্পাদক তপন মিত্র অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মন্দিরের জমি দখল বা গাছ কাটার কোনো ঘটনা ঘটেনি। তাদের দাবি, দায়িত্ব গ্রহণের পর পূর্ববর্তী কমিটির আয়-ব্যয়ের হিসাব এবং বিভিন্ন সময়ে মন্দিরের জন্য প্রাপ্ত সরকারি অনুদানের হিসাব চাইলে একটি পক্ষ পরিকল্পিতভাবে তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার শুরু করে। সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, মন্দিরসংলগ্ন সরকারি রাস্তা ও সরকারি খালের মাঝখানে একটি খালি জমি রয়েছে। ওই জমিতে বহু বছর আগে পাশের গ্রামের ব্যবসায়ী মো. সান্টু বেপারী বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রোপণ করেন। সান্টু বেপারী সাংবাদিকদের বলেন, “আমি বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগিয়েছি।
আমার রোপণ করা দুটি চাম্বুল গাছ বর্তমান মন্দির কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে বিক্রি করা হয়েছে। বিক্রির অর্থের একটি অংশ মন্দিরে দেওয়া হয়েছে।” তিনি আরও জানান, গাছ কাটার পর সেখানে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ গাছও রোপণ করেছেন। তিনি দাবি করেন, সাবেক চেয়ারম্যান ও মন্দির পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি প্রয়াত গৌরাঙ্গ লাল কর্মকারের সময় তার লাগানো গাছ বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থের অর্ধেক মন্দিরে দেওয়া হয়েছিল। স্থানীয় বাসিন্দা বিপ্লব কর্মকার, সাধু দাস, দুলাল দাস, সমীর দাস, সঞ্জয়সহ একাধিক ব্যক্তি বলেন, পূর্ববর্তী কমিটির আর্থিক কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আয়-ব্যয়ের হিসাব চাওয়াকে কেন্দ্র করেই মূলত এ বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে। হিন্দু বৈদ্য খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের বরিশাল জেলা শাখার সভাপতি মন্টু চন্দ্র বৈদ্য বলেন, পূর্ববর্তী কমিটির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের উপস্থিতিতে আগের কমিটি বিলুপ্ত করে পলাশ কুণ্ডকে সভাপতি ও তপন মিত্রকে সাধারণ সম্পাদক করে নতুন পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়। তার দাবি, আগের কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এখনো আয়-ব্যয়ের হিসাব বুঝিয়ে না দিয়ে নতুন কমিটির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন।
এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন, অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
নিউজটি আপডেট করেছেন :
[email protected]
কমেন্ট বক্স