গঙ্গাচড়ায় গেদী বাহিনীর মাদকের থাবায় অতিষ্ঠ গ্রামবাসী, ২৫ বোতল মাদকসহ গ্রেফতার ১
গঙ্গাচড়ায় গেদী বাহিনীর মাদকের থাবায় অতিষ্ঠ গ্রামবাসী, ২৫ বোতল মাদকসহ গ্রেফতার ১
রংপুর প্রতিনিধিঃ
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার ৮ নং মর্নেয়া ইউনিয়নে চিহ্নিত ‘মাদকসম্রাজ্ঞী’ সালমা বেগম ওরফে গেদী ও তার পরিবারের মাদকের ভয়াল থাবায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ইউনিয়নের ভাঙাগড়া ‘ভাই ভাই বাজার’-এর পেছনে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত, ভূমিহীন ও গৃহহীন দরিদ্র জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসনের জন্য নির্মিত সরকারি গুচ্ছগ্রামে এই মাদক চক্র গড়ে তুলেছে এক বিশাল সাম্রাজ্য। সরকারের দেওয়া ঘরের চারপাশে অতিরিক্ত জায়গা নিয়ে টিনের বেড়া দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সেখানে মাদকের আস্তানা ও রমরমা ইয়াবা ব্যবসা চালিয়ে আসছিল গেদীর মেয়ের জামাই ও অন্যতম মাদক কারবারি শুভ।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ৩০ জুন (মঙ্গলবার) বিকেলে একাধিক মাদক মামলার আসামি এবং শুভর বাবা জাহাঙ্গীর মিয়াকে ২৫ বোতল ‘এস্কেপ’ (ফেনসিডিল সদৃশ মাদক) সহ নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে গঙ্গাচড়া থানা পুলিশ। এই ঘটনার পর মাদক আতঙ্কে থাকা গ্রামবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং মর্নেয়া ইউনিয়নের সচেতন সর্বস্তরের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে ওই মাদকের আস্তানায় হামলা চালিয়ে তা গুঁড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এই সামাজিক প্রতিরোধ ও অভিযানের সময় এলাকাবাসী দেখতে পান, গুচ্ছগ্রামের ওই ঘরের চারপাশে গাঁজার গাছ লাগানো রয়েছে এবং ঘরের ভেতরে ১০-১২ জনের একটি দল ইয়াবা সেবনের রমরমা আসর বসিয়েছে। তবে এলাকাবাসীর উপস্থিতি টের পেয়ে মাদকসেবী ও কারবারিরা ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মর্নেয়া ইউনিয়নের চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী সালমা বেগম (গেদী), শুভ মিয়া, বাবু মিয়া, মোঃ পাশান মিয়া, আরিফুল মিয়া, আশিকুল মিয়া ও জাহাঙ্গীর মিয়া দীর্ঘদিন ধরে ভাঙাগড়া বাজারের পাশের আমবাগান এলাকাসহ গুচ্ছগ্রামের ঘরে মাদকের আসর বসিয়ে আসছিল। এই ‘গেদী পরিবারের’ প্রতিটি সদস্যের পরিচালিত মাদকের আখড়ার কারণে এলাকায় বখাটে ও মাদকসেবীদের আনাগোনা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে স্থানীয় নারী এবং স্কুল-কলেজগামী মেয়েদের স্বাভাবিক চলাচল চরমভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। এর আগে বিভিন্ন সময় স্থানীয় সচেতন মহল প্রতিবাদ জানালেও কোনো লাভ হয়নি; উল্টো প্রভাবশালী মহলের ইন্ধন থাকায় প্রতিবাদকারীদের নানাভাবে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিত এই ‘গেদী বাহিনী’। এলাকাবাসীর পক্ষে স্থানীয় বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম জানান, এই গেদী পরিবারের একাধিক মাদকের আস্তানার কারণে এই গ্রামে পরিবার নিয়ে শান্তিতে বসবাস করার কোনো পরিবেশ নেই। দিন-রাত বখাটে আর মাদকসেবীদের আড্ডা চলছে এবং প্রতিবাদ করতে গেলে তারা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও দোকানপাট বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেয়।
অটোচালক মোতালেব বলেন, বাজারে গাড়ি পার্কিং করে রাখা দায় হয়ে পড়েছে এবং মাদকসেবীরা প্রায়ই যাত্রীদের সাথে খারাপ ব্যবহার করে ও চড়াও হয়, যার ফলে নারী যাত্রীরা এই পথ দিয়ে যাতায়াত করতে ভয় পায়। মাছ ব্যবসায়ী নাজমুল ইসলাম অভিযোগ করেন, সালমা বেগম গেদী, তার স্বামী, বোন, দুলাভাই বাবু, মেয়ের জামাই শুভ এবং বিয়াই জাহাঙ্গীর কোনো এক অদৃশ্য শক্তির প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এখানে মাদকের সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে। একই ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় বাসিন্দা আক্কাস ও মুদি দোকানদার একাব্বর আলী বলেন, তারা দিন থেকে শুরু করে মধ্যরাত পর্যন্ত ভাঙাগড়া আমবাগান এলাকায় মাদকের মজমা বসায়। ঘরের মা-বোনদের নিরাপদে বাজারেও পাঠানো যায় না। তবে এলাকার সবাই মিলে যে মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছে, তাতে সাধারণ মানুষ খুব খুশি।
বাসিন্দাদের দাবি, এখনই যদি এই মাদক কারবারিদের কঠোর হস্তে দমন করা না যায়, তবে পুরো এলাকা অচিরেই মাদকের এক অভয়ারণ্যে পরিণত হবে। এদিকে, ২৫ বোতল মাদকসহ জাহাঙ্গীর গ্রেপ্তার হওয়া এবং গুচ্ছগ্রামের আস্তানায় গাঁজার গাছ পাওয়ার সার্বিক বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত সালমা বেগম গেদীর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি এবং তার মেয়ের জামাই শুভ কলটি কেটে দেওয়ায় তাদের কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে গঙ্গাচড়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান, মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং অপরাধের সাথে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
নিউজটি আপডেট করেছেন :
[email protected]
কমেন্ট বক্স