ঢাকা , শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬ , ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে শহীদদের কবর জিয়ারত করলেন জামায়াত নেতৃবৃন্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৭-০২ ১১:৫৭:৩৯
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে শহীদদের কবর জিয়ারত করলেন জামায়াত নেতৃবৃন্দ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে শহীদদের কবর জিয়ারত করলেন জামায়াত নেতৃবৃন্দ
নিজস্ব প্রতিবেদক


জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে শহীদদের কবর জিয়ারত করলেন জামায়াত নেতৃবৃন্দ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের উদ্যোগে মাসব্যাপী ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে জুলাই শহীদদের কবর জিয়ারত করেছেন জামায়াত নেতৃবৃন্দ। সংগঠনের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর শিক্ষাবিদ আব্দুস সবুর ফকিরের নেতৃত্বে আজ বৃহস্পতিবার (০২ জুলাই) সকালে রায়ের বাজার বধ্যভূমি কবরস্থানে গিয়ে নেতৃবৃন্দ শহীদদের কবর জিয়ারত করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর এডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ দেলাওয়া হোসেন, মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য যথাক্রমে অধ্যাপক নুর নবী মানিক, ড. মোবারক হোসাইন, আবদুর রহমান, কামরুল আহসান হাসান, সৈয়দ সিরাজুল হক, মহানগরীর সহকারী প্রচার সম্পাদক আবদুস সাত্তার সুমন। এছাড়াও মহানগরীর সকল সাংগঠনিক থানা ও বিভাগের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দসহ জুলাই যোদ্ধারা উপস্থিত ছিলেন। পরে উপস্থিত সাংবাদিক প্রেস ব্রিফিংয়ে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর আব্দুস সবুর ফকির বলেন, যাদের রক্তের ওপর দিয়ে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় বসেছে তাদের স্মরণে সরকারের কোনো কর্মসূচি নেই!


এটি শুধু দুঃখজনক নয়, বরং পরিতাপের বিষয়, উদ্বেগের বিষয়। জুলাই-গণ-অভ্যুত্থানের মাত্র দ্বিতীয় বর্ষে এসেই রাষ্ট্র জুলাই আন্দোলনের স্বীকৃতি দিচ্ছে না, জুলাইকে স্মরণ করছে না! এটি কোনো ছোটখাটো বিষয় নয়। সরকার যদি জুলাই চেতনাকে স্বীকার করতো তবে জুলাই-আগস্টের সেই ৩৬ দিনের স্মরণে রাষ্ট্রীয়ভাবে কর্মসূচি ঘোষণা করতো। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন, রেডিও এমনকি সংবাদ সংস্থায় জুলাইয়ের স্মৃতি নিয়ে কোনো ডকুমেন্টারি কিংবা ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ কর্তৃক পরিচালিত গণহত্যার চিত্র প্রকাশ করা হচ্ছে না। অথচ চব্বিশের ৩৬ জুলাইয়ের সকল তথ্যই রাষ্ট্রের কাছে রয়েছে। জুলাই নিয়ে সরকারের কোনো কর্মসূচি না থাকায় জনমনে সংশয় সৃষ্টি হয়েছে সরকার ৩৬ জুলাইয়ের সকল তথ্য মুছে দিয়ে পতিত পরাশক্তি আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক স্পেস তৈরি করে দেওয়ার পথে হাঁটছে।


তিনি আরও বলেন, যারা জীবন দিয়ে গেলে রাষ্ট্রীয়ভাবে তাদের কোনো সম্মান করা হচ্ছে না। হবেই বা কেন যেহেতু সরকারের পক্ষ থেকে সংসদে দাঁড়িয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্বীকারোক্তি দিয়েছেন একটি প্রতারণা মাধ্যমে বিএনপি জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছে। শেখ হাসিনার চেয়েও এক ধাপ বেশি এগিয়ে গিয়ে বিএনপি মানুষকে ধোঁকা দিয়েছে, বিশ্বাসঘাতকতা করেছে দাবি করে আব্দুস সবুর ফকির বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যখন সংসদে দাঁড়িয়ে বলেন, আমরা যদি সংষ্কারের পক্ষে না যাই তবে যদি নির্বাচন না হয়! এজন্য আমরা সবকিছুতে হ্যাঁ বলেছি! এরচেয়ে বড় প্রতারণা আর ধোঁকাবাজি কিছুই হয় না। বিএনপি ক্ষমতায় গিয়ে জুলাইয়ের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তারা রাষ্ট্র সংস্কার চায় না, তাঁরা গণহত্যার বিচার চায় না। ন্যায় বিচারকে যখন প্রধানমন্ত্রী প্রতিশোধ মনে করেন তখন আবারো বিচারহীনতার সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনার ইঙ্গিত বহন করে। তিনি বলেন, প্রতিশোধ নয় জনগণ ন্যায় বিচার চায়। জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতার স্লোগান ছিল উই্ ওয়ান্ট জাস্টিস (আমরা ন্যায় বিচার চাই)। কিন্তু সরকার সেসব জানে না কারণ সরকার প্রধান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ওনারা দেশে ছিলেন না।


কেউ ছিলেন লন্ডন, কেউ ছিলেন শিলিং। এমনকি সরকারের অনেক মন্ত্রী-এমপিরাও দেশে ছিলেন না। জুলাই আন্দোলনকালীন সরকারের মন্ত্রী-এমপিরা দেশে না থাকায় ছাত্র-জনতার আন্দোলনের দাবি এবং জুলাই চেতনা বিএনপি সরকারের জানা নাই। যারা দেশে ছিল তারা আন্দোলনকালীন মিডিয়ার সামনে দাঁড়িয়ে ঘোষণা দিয়েছিল জুলাই আন্দোলনের সাথে বিএনপির কোনো সম্পর্ক নেই! এজন্য সরকারের আগাগোড়া কেউ জুলাই চেতনা ধারণ করে না। যার ফলে সরকার জুলাই সনদ উপেক্ষা করছে। তবে ‍জুলাই উপেক্ষা করে পার পাওয়া যাবে না।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে বিএনপি সরকার যেভাবে বাধ্য হয়েছে জুলাই সনদ বাস্তবায়নেও বিএনপি সরকারকে বাধ্য করা হবে। কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর ড. হেলাল উদ্দিন বলেন, অত্যন্ত দুঃখ ও ভারাক্রান্ত হৃদয়ে আজকে আমরা শহীদদের গণকবরের পাশে এসেছি। এই গণকবরে শুয়ে থাকা অনেক শহীদের পরিবার জানে না তাদের সন্তান কিংবা পিতা-মাতার এবং ভাই-বোনের কবর কোথায়! একটি পরিবারের জন্য একজন মানুষের জন্য এটি কতটা হৃদয় বিদারক তা বলে বুঝানো যায় না। তিনি বলেন, যারা রাষ্ট্রীয় শক্তি ব্যবহার করে ছাত্র-জনতাকে গুলি করে হত্যা করেছে, মানুষের লাশ আর রক্ত দেখে উল্লাস করেছে; তাদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। গণহত্যার নির্দেশদাতা, গণহত্যার উসকানিদাতা, গণহত্যার নির্দেশ পালনকারী প্রত্যেকে বিচারের আওতায় আনতে হবে। ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে ২০০৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের ন্যায় বিচার নিশ্চিত করে হত্যার সঙ্গে জড়িতদের ফাঁসি দিতে হবে। হত্যার বদলে হত্যাই হবে ন্যায় বিচার। জাসদ সভাপতি হাসনুল হক ইনুর ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ প্রসঙ্গে ড. হেলাল উদ্দিন বলেন, এই রায় শহীদ ও আহত-পঙ্গুত্ব বরণকারীদের সাথে উপহাস করার শামিল। যেই ইনু গণহত্যা চালাতে পুলিশকে নির্দেশ দিতে শেখ হাসিনাকে পরামর্শ দিয়ে উসকানি দিয়েছে সেই ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়ার অর্থ হচ্ছে ১০ বছর পর আবারো ফ্যাসিবাদ ফিরিয়ে এনে এদেশের জনগণের ওপর আরো ভয়াবহ গণহত্যা পরিচালনার ‍সুযোগ করা।

যেই বিচারিক বেঞ্চ খুনি ইনুকে ফাঁসির দণ্ডের পরিবর্তে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে ঐ বিচারিক বেঞ্চের বিচারককেরা ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসর কি-না তদন্ত করে দেখার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, এই রায়ের বিরুদ্ধে সরকারকে আপিল করে খুনি ইনুর ফাঁসির রায় নিশ্চিত করতে হবে। কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ দেলাওয়ার হোসেন বলেন, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বন্ধ! এটি অত্যন্ত দুঃখজনক, লজ্জাজনক ঘটনা। জুলাই স্মৃতি জাদুঘর আজ পর্যন্ত উদ্বোধন হয়নি। জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ এবং দ্রুত জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করে জনগণের জন্য উন্মুক্ত করে দিতে তিনি সরকারের কাছে দাবি জানান। বার্তা প্রেরক (মুহাম্মদ দেলাওয়ার হোসেন) কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সহকারী সেক্রেটারি ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ।

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ