ঢাকা , বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬ , ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কটিয়াদীতে চাঞ্চল্যকর শফিকুল হত্যার খুনি গ্রেফতার, রক্তমাখা ছুরি উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৭-০১ ১৯:০৪:৪২
কটিয়াদীতে চাঞ্চল্যকর শফিকুল হত্যার খুনি গ্রেফতার, রক্তমাখা ছুরি উদ্ধার কটিয়াদীতে চাঞ্চল্যকর শফিকুল হত্যার খুনি গ্রেফতার, রক্তমাখা ছুরি উদ্ধার
কটিয়াদী(কিশোরগঞ্জ)প্রতিনিধি :



কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে শফিকুল ইসলাম ওরফে কালা মিয়া (৩২) হত্যাকাণ্ডের মূল আসামি বাবুলকে গ্রেফতার ও রহস্য উদঘাটনে দারুণ সাফল্য দেখিয়েছে পুলিশ। কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলামের দূরদর্শী নেতৃত্বে মূল আসামি বাবুল মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়েছে।


গ্রেফতারকৃত আসামির দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা ছুরিটিও উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। সোমবার বিকেলে উপজেলার লোহাজুরী ইউনিয়নের দক্ষিণ ঝিড়ারপাড় এলাকার একটি ঝোপঝাড় থেকে খুনি বাবুল মিয়াকে সাথে নিয়ে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্রটি উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, গত শনিবার (২৭ জুন) সন্ধ্যায় লোহাজুরী ইউনিয়নের দক্ষিণ ঝিড়ারপাড় গ্রামের বৈশাকুরা ঈদগাহ-সংলগ্ন সড়কের পাশে শফিকুল ইসলামকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহত শফিকুল পেশায় একজন কৃষক এবং স্থানীয় দুলা মিয়ার ছেলে। হত্যাকাণ্ডের পর পরই কটিয়াদী মডেল থানার ওসির নির্দেশে পুলিশের একাধিক টিম অভিযানে নামে।


তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পার্শ্ববর্তী কুলিয়ারচর উপজেলা থেকে মূল অভিযুক্ত বাবুল মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়। ধৃত বাবুল মিয়া একই গ্রামের শহীদুল্লাহর ছেলে এবং সম্পর্কে সে নিহতের চাচাতো ভাগনে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাবুল হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের বড় বোন বেগম আক্তার বাদী হয়ে বাবুল মিয়ার নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত বেশ কয়েকজনকে আসামি করে কটিয়াদী মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। নিহতের বোন বলেন "বাবুল আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল করে রেখেছিল। এ নিয়ে প্রতিবাদ করায় সে প্রতিনিয়ত আমাদের হুমকি দিত। আমাদের ধারণা, আমার ভাইকে একা বাবুল মারেনি, এর পেছনে আরও অনেকেই জড়িত আছে। আমরা এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার চাই।"


বিষয়ে কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.রফিকুল ইসলাম জানান, অপরাধীকে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ অত্যন্ত তৎপর ছিল। ঘটনার পর পরই দক্ষতার সাথে অভিযান চালিয়ে আসামিকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। তিনি আরও বলেন, "হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ উদঘাটন এবং এই ঘটনার পেছনে অন্য কোনো সহযোগী বা মাস্টারমাইন্ড জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে আমাদের তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে।"

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ