ঢাকা , শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬ , ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

Headline: মাদকবিরোধী আন্দোলন হোক সামাজিক বিপ্লব/ মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে এখনই সম্মিলিত উদ্যোগের সময়

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৬-২৬ ২২:২২:৪৬
Headline: মাদকবিরোধী আন্দোলন হোক সামাজিক বিপ্লব/ মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে এখনই সম্মিলিত উদ্যোগের সময় Headline: মাদকবিরোধী আন্দোলন হোক সামাজিক বিপ্লব/ মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে এখনই সম্মিলিত উদ্যোগের সময়
নিজস্ব প্রতিবেদক

একটি জাতির সবচেয়ে বড় শক্তি তার তরুণ প্রজন্মতাদের স্বপ্ন, মেধা, কর্মশক্তি ও সৃজনশীলতাই একটি দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য, আমাদের সমাজের একটি অংশ আজ মাদকের ভয়াবহ ছোবলে আক্রান্ত। মাদক এমন একটি অভিশাপ, যা ধীরে ধীরে একজন মানুষের বিবেক, মূল্যবোধ, পরিবার এবং ভবিষ্যৎকে গ্রাস করে ফেলে। তাই মাদকবিরোধী সংগ্রাম কেবল একটি দিবসের কর্মসূচি নয়; এটি আমাদের সামাজিক ও নৈতিক দায়িত্ব। আমরা প্রায়ই মাদককে শুধু একটি আইনশৃঙ্খলা বিষয় হিসেবে দেখি।


কিন্তু বাস্তবে এটি আরও গভীর একটি সমস্যা। একজন তরুণ যখন মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ে, তখন তার পেছনে নানা সামাজিক ও পারিবারিক কারণ কাজ করে। অনেক সময় পারিবারিক অবহেলা, হতাশা, বেকারত্ব, খারাপ সঙ্গ কিংবা জীবনের লক্ষ্যহীনতা একজন মানুষকে ভুল পথে নিয়ে যায়। ফলে মাদক প্রতিরোধের জন্য শুধু আইন প্রয়োগ করলেই হবে না, এর সামাজিক কারণগুলোও চিহ্নিত করতে হবে। আজকের দিনে প্রযুক্তির প্রসার ঘটেছে, শিক্ষার হার বেড়েছে, কিন্তু একই সঙ্গে বেড়েছে নানা ধরনের সামাজিক চ্যালেঞ্জ। তরুণদের একটি অংশ সময়ের সঠিক ব্যবহার করতে পারছে না।


তাদের অনেকেই জীবনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা ছাড়াই বেড়ে উঠছে। এই শূন্যতার সুযোগ নিয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা তাদের টার্গেট করে। তাই পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সমাজের সচেতন মানুষদের আরও বেশি দায়িত্বশীল হতে হবে। আমার বিশ্বাস, মাদক প্রতিরোধের প্রথম এবং সবচেয়ে শক্তিশালী দুর্গ হলো পরিবার। একজন সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে, কী ভাবছে কিংবা কোন সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে— এসব বিষয়ে পরিবারের আন্তরিক নজর থাকা জরুরি। সন্তানদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করতে পারলে তারা সহজেই নিজেদের সমস্যার কথা ভাগাভাগি করতে পারে। অনেক বিপদ শুরুতেই প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকেও কেবল পাঠদানেই সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না।

একজন শিক্ষার্থীকে ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার দায়িত্বও শিক্ষকদের রয়েছে। নৈতিক শিক্ষা, সামাজিক দায়বদ্ধতা, দেশপ্রেম এবং মানবিক মূল্যবোধের চর্চা বাড়াতে হবে। পাশাপাশি খেলাধুলা, বিতর্ক, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও সমাজসেবামূলক কাজে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। ব্যস্ত ও ইতিবাচক জীবনধারা তরুণদের অনেক নেতিবাচক অভ্যাস থেকে দূরে রাখে। ধর্মীয় মূল্যবোধও মাদক প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। ধর্ম মানুষকে আত্মসংযম, শৃঙ্খলা ও নৈতিকতার শিক্ষা দেয়। যখন একজন মানুষ তার স্রষ্টার প্রতি দায়বদ্ধতার অনুভূতি ধারণ করে, তখন সে সহজে ধ্বংসের পথে পা বাড়ায় না। তাই পরিবার ও সমাজে নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষার পরিবেশ আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। মাদকমুক্ত সমাজ গঠন শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়।

এটি আমাদের সবার দায়িত্ব। জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, ইমাম, সাংবাদিক, সমাজকর্মী, অভিভাবক এবং তরুণদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে। আমাদের প্রত্যেককে নিজের অবস্থান থেকে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ যত শক্তিশালী হবে, ততই এই অভিশাপের বিস্তার কমবে। আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস আমাদের নতুন করে ভাবতে শেখায়— আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কেমন সমাজ রেখে যেতে চাই? এমন একটি সমাজ, যেখানে মাদক তরুণদের স্বপ্ন কেড়ে নেবে, নাকি এমন একটি সমাজ, যেখানে তারা শিক্ষা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ হয়ে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে? আসুন, আমরা সবাই মিলে সেই দ্বিতীয় পথটিই বেছে নিই। ব্যক্তি থেকে পরিবার, পরিবার থেকে সমাজ এবং সমাজ থেকে রাষ্ট্র— সর্বত্র মাদকের বিরুদ্ধে সচেতনতা ও প্রতিরোধ গড়ে তুলি।

আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই পারে একটি সুস্থ, সুন্দর, নিরাপদ এবং মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে। হাফিজ মাওলানা মো: ছালিম আহমদ খাঁ প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও: হাফিজ সোসিয়াল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন সভাপতি: ইউনাইটেড ইয়ুথ ব্লাড ডোনেশন সোসাইটি

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ