আওয়ামী দোসরকে পুনর্বাসনের অভিযোগ: ভুয়া সনদ, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে অভিযুক্ত বিআরটিসি কর্মকর্তা জামিল হোসেনকে চট্টগ্রাম ট্রাক ডিপোতে পদায়ন
আওয়ামী দোসরকে পুনর্বাসনের অভিযোগ: ভুয়া সনদ, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে অভিযুক্ত বিআরটিসি কর্মকর্তা জামিল হোসেনকে চট্টগ্রাম ট্রাক ডিপোতে পদায়ন
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন হলেও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি)-এ কমেনি আওয়ামী দোসরদের দাপট—এমন অভিযোগ তুলেছেন প্রতিষ্ঠানটির একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী। এবার ভুয়া শিক্ষাসনদে চাকরি গ্রহণ, ক্ষমতার অপব্যবহার, আর্থিক অনিয়ম, ঘুষ ও অবৈধ সুবিধা গ্রহণের অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কিত কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত জামিল হোসেনকে চট্টগ্রাম ট্রাক ডিপোর মতো গুরুত্বপূর্ণ ও লাভজনক স্থানে পদায়নকে কেন্দ্র করে
বিআরটিসির অভ্যন্তরে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ জুন বিআরটিসির মহাব্যবস্থাপক (জিএম) দীনেশ সরকার স্বাক্ষরিত এক আদেশে জামিল হোসেনকে চট্টগ্রাম ট্রাক ডিপোতে বদলি করা হয়। তবে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা -কর্মচারীদের একাংশের দাবি, অতীতে নানা অভিযোগে অভিযুক্ত একজন কর্মকর্তাকে গুরুত্বপূর্ণ ও লাভজনক ডিপোতে পদায়ন কার্যত তাকে পুরস্কৃত করার শামিল।
তাদের অভিযোগ, বড় অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে প্রধান কার্যালয়ের একটি প্রভাবশালী চক্রকে ম্যানেজ করেই তিনি এই পদায়ন বাগিয়ে নিয়েছেন। অনুসন্ধানে জানা যায়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নিজেকে গোপালগঞ্জের সন্তান এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ একজন প্রভাবশালী ব্যক্তির আত্মীয় পরিচয় দিয়ে বিআরটিসিতে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করেন জামিল হোসেন।
সূত্রের দাবি, তিনি ভুয়া শিক্ষাসনদ ব্যবহার করে বিআরটিসিতে চাকরি নেন। চাকরি পাওয়ার পর থেকেই রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবকে পুঁজি করে প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ, পদায়ন বাণিজ্য এবং ব্যক্তিগত সুবিধা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বিআরটিসির বিভিন্ন সূত্রের অভিযোগ, বরিশাল, গোপালগঞ্জ, বগুড়া এবং অন্যান্য ডিপোতে দায়িত্ব পালনকালে তিনি সীমাহীন অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন। গাড়ি মেরামতের নামে ভুয়া ভাউচার তৈরি করে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ, বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী বাস থেকে প্রতি ট্রিপে নির্দিষ্ট হারে অবৈধ অর্থ আদায়, যাত্রীসেবার নামে বরাদ্দকৃত অর্থের অপব্যবহার এবং এসি বাসে ইন্টারনেট ও ওয়াইফাই সুবিধা চালু না করেই ভুয়া বিলের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
বরিশাল বিআরটিসি বাস ডিপোর একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, জামিল হোসেন সেখানে ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করে সম্পন্ন করেন এবং সরকারি অর্থ আত্মসাতের মাধ্যমে বিপুল অবৈধ সম্পদের মালিক হন। অভিযোগ রয়েছে, বিগত কয়েক বছরে তিনি নিজ এলাকায় বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণসহ বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন, যার উৎস নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এছাড়া একাধিক কর্মচারী অভিযোগ করেছেন, তার অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে চাকরিচ্যুতি, বদলি কিংবা প্রশাসনিক হয়রানির ভয় দেখানো হতো। অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী ভীতির কারণে প্রকাশ্যে কথা বলতে রাজি হননি। সূত্রের আরও দাবি, গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর বরিশাল বাস ডিপো থেকে তাকে গোপালগঞ্জের বাগডিভূত ডিপোতে বদলি করা হয়েছিল। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী দোসর ও দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জোরালো হলেও জামিল হোসেন তার অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ ও প্রভাব কাজে লাগিয়ে আবারও চট্টগ্রামের মতো গুরুত্বপূর্ণ ডিপোতে পদায়ন নিতে সক্ষম হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে তার বিরুদ্ধে মাদক সেবনের সঙ্গেও সম্পৃক্ত আছেন তার ভিডিও রয়েছে। অভিযোগ করেছেন একাধিক কর্মচারী। তবে এ অভিযোগের পক্ষেও এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন বা আদালতের সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি। তবে তার বিরুদ্ধে একাধিক পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ গুলো মোটা অংকের টাকা দিয়ে সমঝোতা করেছেন। তাহলে বুঝতে আর বাকি থাকে না জামিল কি পরিমাণ অবৈধ অর্থ সম্পদের মালিক। বিআরটিসির কর্মকর্তা- কর্মচারীদের একাংশের দাবি, জামিল হোসেনের বিরুদ্ধে ওঠা ভুয়া সনদ, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, অবৈধ সম্পদ অর্জন, চাঁদাবাজি, আর্থিক অনিয়ম এবং মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগগুলো নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
তাদের মতে, এসব অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি বিআরটিসির অভ্যন্তরে দীর্ঘদিন ধরে চলমান দুর্নীতির চক্রও উন্মোচিত হবে। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, আমার দপ্তরে কোন দুর্নীতিবাজের জায়গা হবে না। যদি কোন তথ্য প্রমাণ দিতে পারেন। তাহলে তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আমি ব্যবস্থা নেব এবং আমি দপ্তরের সংশ্লিষ্ট সবাইকে এই নির্দেশনা দেওয়া রয়েছে। আমার দপ্তরে কোন দুর্নীতিবাজদের জায়গা হবে না। সড়ক পরিবহন ও সেতু প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেন, আপনি তো জানেন আমি কখনো অন্যায়ের সাথে আপোষ করি না। আপনি যদি আমাকে তথ্য প্রমান দিতে পারেন আমি তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেব দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ কোনো দুর্নীতিবাজদের সুযোগ দেয়া হবে না। বিআরটিসির (বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন)- এর বর্তমান চেয়ারম্যান অতিরক্ত সচিব আব্দুল লতিফ মোল্লা বলেন, কোন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যদি তথ্য প্রমাণ দিতে পারেন তাহলে তার বিরুদ্ধে আমি ব্যবস্থা নিতে বাধ্য এবং আমি সেই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দাপ্তরিক আইনগত পদক্ষেপ নেব কথা দিলাম।
এ বিষয়ে জামিল হোসেনের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, আপনি নিউজ টা করবেন না আমি বিষয় টা দেখছি। জামিল হোসেনের অবৈধ অর্থ সম্পদে তথ্য নিয়ে আসছে ২য় পর্বে ভিডিও নিউজ।
নিউজটি আপডেট করেছেন :
[email protected]
কমেন্ট বক্স