ঢাকা , শনিবার, ২০ জুন ২০২৬ , ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুড়িগ্রামে সরকারি চাল আত্মসাত মামলায় ৪২ বছর পর মিল মালিকের ১০ বছরের কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৬-১৯ ২৩:০১:২০
কুড়িগ্রামে সরকারি চাল আত্মসাত মামলায় ৪২ বছর পর মিল মালিকের ১০ বছরের কারাদণ্ড কুড়িগ্রামে সরকারি চাল আত্মসাত মামলায় ৪২ বছর পর মিল মালিকের ১০ বছরের কারাদণ্ড
আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:- সরকারি খাদ্য গুদামে সরবরাহের চুক্তি ভঙ্গ করে প্রায় ৪০ দশমিক ৯৫২ মেট্রিক টন চাল এবং ১ হাজার ১২৫টি বস্তা আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় কুড়িগ্রামের এক মিল-চাতাল মালিককে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) কুড়িগ্রাম জেলা জজ আদালতের অতিরিক্ত দায়রা জজ মোঃ জয়নাল আবেদীন এ রায় দেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) মোঃ তারিকুর রহমান তারিক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সাজাপ্রাপ্ত মিল-চাতাল মালিকের নাম মোঃ সিরাজুল ইসলাম। তিনি হরিশ্বর কালুয়া গ্রামের মৃত আব্দুল লতিফের ছেলে। তিনি ওই এলাকার ‘লতিফ চাল ও অটোকলের’ মালিক। ৪২ বছর ধরে চলা এই মামলার রায় ঘোষণার সময় আসামি মোঃ সিরাজুল ইসলাম আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। আসামিপক্ষে কোনও আইনজীবীও ছিলেন না। আসামি বর্তমানে জীবিত আছেন কিনা তাও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মামলা সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৪ সালে মিলার মোঃ সিরাজুল ইসলাম তৎকালীন কুড়িগ্রাম সরকারি লোকাল সাপ্লাই ডিপোতে (এলএসডি গোডাউন) চাল সরবরাহের জন্য জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক, রংপুরের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হন। চুক্তি অনুযায়ী তিনি ছাঁটাইয়ের উদ্দেশে গুদাম থেকে ৮৬ দশমিক ৩২১ মেট্রিক টন ধান উত্তোলন করেন। সে অনুযায়ী একই বছর ৩০ জুনের মধ্যে এলএসডি কর্তৃপক্ষের কাছে তার প্রায় ৫৬ মেট্রিক টন ছাঁটাইকৃত চাল জমা দেওয়ার কথা থাকলেও তিনি মাত্র ১৫ মেট্রিক টন চাল জমা দেন। অবশিষ্ট প্রায় ৪১ মেট্রিক টন চাল তিনি আত্মসাত করেন। সে সময় এলএসডি কর্তৃপক্ষ মিলারের মিল পরিদর্শন করে কোনও চাল মজুত পাননি। মামলার বরাতে আরও জানা যায়, এ ঘটনায় ১৯৮৪ সালে তৎকালীন খাদ্য নিয়ন্ত্রক বাদী হয়ে মিলার মোঃ সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে চুক্তি ভঙ্গ ও চাল আত্মসাতের অভিযোগে কুড়িগ্রাম সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটি প্রথমে রংপুর বিশেষ ট্রাইব্যুনাল ও পরে রাজশাহী আদালতে বিচারধীন থাকলেও উচ্চ আদালতের নির্দেশে পরে কুড়িগ্রাম জেলা জজ আদালতে বদলি হয়। দীর্ঘ ৪২ বছরের বিচারকার্য শেষে গতকাল বৃহস্পতিবার আদালত মামলার রায় ঘোষণা করেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) মোঃ তারিকুর রহমান তারিক জানান, আসামি সিরাজুল ইসলাম জামিনে থাকার পর আর আদালতে হাজিরা দেননি। পরে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হলেও তা তামিল হয়নি। ফলে আদালত আসামির অনুপস্থিতিতে রায় ঘোষণা করেন। অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) বলেন, ‘প্রায় ৪২ বছর পর মামলার রায় ঘোষণা হলো। সরকারি সম্পদ আত্মসাত করে যে পার পাওয়া যায় না এটা তার একটা নজির। আসামি পলাতক। তিনি বেঁচে আছেন কিনা সে বিষয়ে আদালতে তথ্য নেই। রায় ঘোষণার সাথে আদালত আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন।’

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ