কালো টাকা সাদা করার প্রস্তাব অর্থনৈতিক দুর্বৃত্তায়নকে নতুন করে উৎসাহ দেবে’
কালো টাকা সাদা করার প্রস্তাব অর্থনৈতিক দুর্বৃত্তায়নকে নতুন করে উৎসাহ দেবে’
নিজস্ব প্রতিবেদক
কালো টাকা সাদা করার প্রস্তাব অর্থনৈতিক দুর্বৃত্তায়নকে নতুন করে উৎসাহ দেবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। বৃহস্পতিবার নতুন বাজেট সম্পর্কে প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া জানিয়ে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সাইফুল হক বলেন, নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ‘সামর্থ্যের মধ্যে জনপ্রত্যাশা পূরণের আধাআধি প্রচেষ্টা রয়েছে’। সমাজের বিভিন্ন অংশকে তুষ্ট করার চেষ্টা আছে। তবে বিশাল অঙ্কের ঘাটতি বাজেটের চাপ শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের ওপরই বর্তাবে। তিনি বলেন, ঘাটতি মেটাতে ব্যাংকঋণের ওপর নির্ভরতাও বেড়ে যাবে।
টাকার অঙ্কে বাজেটের আকারে বড় উল্লম্ফন ঘটলেও এর বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকে যাচ্ছে। কারণ, ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব সংগ্রহের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, তা অর্জনের ওপরই প্রধানত বাজেট বাস্তবায়নের সাফল্য নির্ভর করবে। সরকারের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, করদাতার আওতা বৃদ্ধি এবং রাজস্ব সংগ্রহে দক্ষতা দেখাতে পারলে এই রাজস্ব আদায় করা অসম্ভব নয়।
‘ইরানে মার্কিন হামলায় যুদ্ধবিরতি বাতিল হয়ে গেছে’‘ইরানে মার্কিন হামলায় যুদ্ধবিরতি বাতিল হয়ে গেছে’ বিবৃতিতে তিনি বিদ্যমান অর্থনৈতিক কাঠামোয় জিডিপি প্রবৃদ্ধির ৬ দশমিক ৫ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রাকে তেমন উচ্চাভিলাষী নয় বলে মন্তব্য করেন এবং মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যকে বাস্তবানুগ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতির লাগাম টেনে ধরতে না পারলে প্রবৃদ্ধির কোনো হিসাবই জনকল্যাণে কাজে আসবে না।
বাজেটে সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হচ্ছে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি। এর জন্য অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগে যথাসম্ভব প্রণোদনা দেওয়া প্রয়োজন। বন্ধ কলকারখানা চালু করা এবং উৎপাদনমুখী শ্রমঘন নতুন শিল্পোদ্যোগ গড়ে তোলা বাজেটের মনোযোগের উল্লেখযোগ্য ক্ষেত্র হওয়া উচিত। তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ডসহ সামাজিক সুরক্ষাবেষ্টনীসংক্রান্ত বাজেট প্রস্তাবনা ইতিবাচক হলেও এসব প্রকল্প আখেরে দারিদ্র্য বিমোচন ঘটাবে না। এর জন্য প্রয়োজন আত্মকর্মসংস্থানের উৎপাদনশীল ও বহুমুখী উদ্যোগ।
বাজেট প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, খাদ্যপণ্যসহ নিত্যব্যবহার্য জিনিসপত্রের বাজার নিয়ন্ত্রণে বাজেটে আশাব্যঞ্জক কোনো প্রস্তাবনা দেখা যাচ্ছে না। এবারও বিনা প্রশ্নে কালো টাকা সাদা করার পুরোনো ধারা অব্যাহত রাখা হয়েছে। এসব তৎপরতা প্রকারান্তরে অর্থনৈতিক দুর্বৃত্তায়নকে নতুন করে উৎসাহ জোগাবে।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক খাতে বরাদ্দ অপ্রতুল। তিনি শিল্প ও কৃষির মতো মৌলিক খাতগুলোতে বর্ধিত বরাদ্দ প্রদানের আহ্বান জানান।
নিউজটি আপডেট করেছেন :
[email protected]
কমেন্ট বক্স