কুড়িগ্রামে সড়ক নির্মাণে অনিয়মের সংবাদ প্রকাশ, সাংবাদিককে হুমকির অভিযোগ উপজেলা প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে
কুড়িগ্রামে সড়ক নির্মাণে অনিয়মের সংবাদ প্রকাশ, সাংবাদিককে হুমকির অভিযোগ উপজেলা প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে
আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:-
কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার তবকপুর ইউনিয়নে সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন একটি সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর এক সাংবাদিককে হুমকি ও অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ উঠেছে উলিপুর উপজেলা প্রকৌশলী প্রদীপ কুমারের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সাংবাদিক মহল, সচেতন নাগরিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি তবকপুর ইউনিয়নের একটি সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, রাতের আঁধারে কার্পেটিং কাজ সম্পন্ন করা এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়।
প্রতিবেদনে স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রকল্পের কাজের মান ও তদারকি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। অভিযোগ রয়েছে, সংবাদ প্রকাশের পর উলিপুর উপজেলা প্রেসক্লাবের তথ্যবিষয়ক সম্পাদক ও সাংবাদিক মোঃ সোহেল রানার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করেন উলিপুর উপজেলা প্রকৌশলী প্রদীপ কুমার।
কথোপকথনের একপর্যায়ে তিনি সংবাদ প্রকাশ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। সাংবাদিক মোঃ সোহেল রানার দাবি, এর আগেও সড়ক নির্মাণকাজে অনিয়মের বিষয়টি প্রকৌশলীকে অবহিত করা হয়েছিল। সে সময় প্রকৌশলী বলেন, “কাজ বন্ধ না করলে আমি কি মারামারি করে কাজ বন্ধ করব?” পাশাপাশি তিনি দাবি করেছিলেন, অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষিতে কাজ বন্ধের জন্য সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগ উঠেছে, ওই বক্তব্যের পরও রাতের বেলায় সড়কে কার্পেটিংয়ের কাজ চলতে দেখা যায়। বিষয়টি পুনরায় জানানো হলে উপজেলা প্রকৌশলী পূর্বের বক্তব্য অস্বীকার করেন বলেও দাবি করেন সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক। এ সময় প্রকৌশলী সাংবাদিককে উদ্দেশ করে বলেন, “আপনি এমন ভাব নিচ্ছেন যে ভাজা মাছ উল্টে খেতে জানেন না?”—যা সাংবাদিক সমাজের অনেকেই পেশাগত মর্যাদা ও স্বাধীন গণমাধ্যমের প্রতি অসম্মানজনক মন্তব্য হিসেবে দেখছেন।
উলিপুর উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ ফিরোজ কবির কাজলসহ স্থানীয় সাংবাদিকরা বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম, দুর্নীতি বা জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট যেকোনো বিষয় তুলে ধরা গণমাধ্যমের দায়িত্ব। সংবাদ প্রকাশের কারণে কোনো সরকারি কর্মকর্তা যদি সাংবাদিককে হুমকি দেন বা হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করেন, তবে তা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও জবাবদিহিতার পরিপন্থী।
সচেতন নাগরিকদের মতে, তবকপুর সড়ক প্রকল্পে উত্থাপিত অনিয়মের অভিযোগ, রাতের আঁধারে নির্মাণকাজ পরিচালনা এবং সাংবাদিককে হুমকির অভিযোগ—সব বিষয়েই নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তাদের আচরণবিধি অনুসরণ এবং গণমাধ্যমের সঙ্গে পেশাদার সম্পর্ক বজায় রাখার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন তারা। এ বিষয়ে উলিপুর উপজেলা প্রকৌশলী প্রদীপ কুমারের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার
যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। কুড়িগ্রাম এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, “একজন উপজেলা প্রকৌশলীর পক্ষ থেকে এ ধরনের আচরণ বা বক্তব্য দেওয়া মোটেও কাম্য নয়। গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে এলজিইডির কর্মকর্তাদের সুসম্পর্ক থাকা উচিত। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে।”
এদিকে স্থানীয়দের প্রশ্ন, যদি উলিপুর উপজেলা প্রকৌশলী অনিয়মের বিষয়টি সম্পর্কে অবগত থেকে কাজ বন্ধে চিঠি দিয়ে থাকেন, তাহলে অভিযোগের পরও কেন নির্মাণকাজ চলমান ছিল?
আর যদি অনিয়ম না হয়ে থাকে, তাহলে সংবাদ প্রকাশের পর সাংবাদিকের সঙ্গে এমন উত্তপ্ত প্রতিক্রিয়ার প্রয়োজনই বা কেন? ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী, সাংবাদিক সমাজ ও সচেতন নাগরিকরা।
নিউজটি আপডেট করেছেন :
[email protected]
কমেন্ট বক্স