রানা ইসলাম বদরগঞ্জ রংপুর
রংপুরে বদরগঞ্জে রাস্তা থেকে তরুনকে তুলে নিয়ে নিজের ১৪ বছর বয়সের মাদ্রাসা পড়ুয়া মেয়ের সঙ্গে জোরপূর্বক বাল্য বিয়ে দিলেন পাষন্ড পিতা। এঘটনায় থানায় সন্তানের সন্ধান চেয়ে ভুক্তভোগী ছেলের পিতা ছালেক মিয়া চারজনের নামে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
থানায় লিখিত অভিযোগ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা গোপিনাথপুর ইউনিয়ন শালবাড়ির খিয়ারপাড়া গ্রামে ইয়াকুব আলী মাদ্রাসা পড়ুয়া (১৪) বছর কিশোরী মেয়ের সঙ্গে দীর্ঘ দিন থেকে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন শালবাড়ি এলাকার ছালেকের ছেলে কোরবান আলী মাহিম।পরে তাদের প্রেমের সম্পর্কের বিষয়টি কিশোরী মেয়ের বাবা ইয়াকুব আলী জানতে পারে।গত ৬ জুন রাতে মাহিম তার নিজ বাড়ি যাওয়ার পথে কিশোরী মেয়ের বাবা ইয়াকুব আলী তার লোকজন নিয়ে ছেলেকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে যায় নিজ বাড়িতে। বিষয়টি জানতে পারেন মাহিমের পিতা ছালেক।পরে ছালেক ও তার স্ত্রী নিজের সন্তানকে ফেরত আনতে গেলে ইয়াকুব ও পরিবারের লোকজন ভয়ভীতি হুমকি ও অশালীন গালিগালাজ করে মাহিমকে আটকে রেখে তাদের তাড়িয়ে দেন।ঐ রাতে স্হানীয় ইউপি সদস্য নজু মিয়া ও স্হানীয় আশরাফুল নামে এক ব্যাক্তিকে ডেকে এনে নিজের কিশোরী মেয়ের সঙ্গে বাল্য বিয়ে দেন ইয়াকুব।
অভিযোগের বিষয়ে জানার জন্য ইয়াকুব আলী বাসায় গেলে তারা সাংবাদিক দেখে দৌড়ে পালিয়ে যান।এজন্য তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
খিয়ারপাড়া গ্রামে কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, ইয়াকুব এটি জঘন্য কাজ করেছেন।তার শাস্তি দাবি জানাই।
এবিষয়ে ইউপি সদস্য নজু মিয়া বলেন, মেয়টির বয়স হয়েছিল ১৫ বছর ৭ মাস।এতে বিয়ে দিতে সমস্যা হয়না।
আশরাফুল নামে স্হানীয় এক ব্যাক্তি বলেন,ছেলে মেয়েটিকে নিয়ে পালিয়েছে।তাদের খোঁজ পাচ্ছি না।তাদের কোন বিয়ে হয়নি।
বদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আন্জুমান সুলতানা বলেন,ঘটনাটি শোনার পর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুমন মিয়াকে বলেছি বিষয়টি দেখার জন্য।
বদরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ হাসান জাহিদ সরকার বলেন, অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।