ঢাকা , সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬ , ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রংপুরের তারাগঞ্জে পল্লীবিদ্যুতের কর্মীকে হত্যার পর মাটিচাপা দেওয়ার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার প্রধান আসামি র‍্যাবের অভিযানে ঢাকা থেকে গ্রেফতার।

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৬-০৮ ১৯:৪২:১১
রংপুরের তারাগঞ্জে পল্লীবিদ্যুতের কর্মীকে হত্যার পর মাটিচাপা দেওয়ার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার প্রধান  আসামি র‍্যাবের অভিযানে ঢাকা থেকে গ্রেফতার। রংপুরের তারাগঞ্জে পল্লীবিদ্যুতের কর্মীকে হত্যার পর মাটিচাপা দেওয়ার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার প্রধান আসামি র‍্যাবের অভিযানে ঢাকা থেকে গ্রেফতার।

নিজস্ব প্রতিবেদক


রংপুরের তারাগঞ্জে পল্লীবিদ্যুতের কর্মীকে হত্যার পর মাটিচাপা দেওয়ার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার প্রধান  আসামি র‍্যাবের অভিযানে ঢাকা থেকে গ্রেফতার।
 
বাংলাদেশ আমার অহংকার'- এই মূলমন্ত্রকে  ধারণ করে এলিট ফোর্স র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন চাঞ্চল্যকর হত্যা, অপহরণ, ধর্ষণ, রাহাজানি, যৌতুকসহ মারাত্মক সব সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। হত্যার মতো মারাত্মক সামাজিক অপরাধের ক্ষেত্রে র‍্যাব অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করে থাকে।
 
 বাদী মোছাঃ জান্নাতি বেগম (৩২) এর  দায়েরকৃত এজাহার থেকে জানা যায় যে, বাদীর স্বামী ভিকটিম মঞ্জুরুল হোসেন (৪৫) একজন ইলেকট্রিক মিস্ত্রি। যার সুবাদে ভিকটিম পল্লী বিদ্যুতের ঠিকাদারের অধীনে কাজ করতেন এবং সময় সুযোগ পেলে বিভিন্ন লোকের বাড়ীতে ও অফিসে ইলেকট্রিক কাজ করতেন। সেই মোতাবেক গত ২৪/০২/২০২৬ তারিখ সকাল ১০.০০ ঘটিকায় কাজের উদ্দেশ্যে বাড়ী হতে বাহির হন। সারাদিন গত হওয়ার পর ভিকটিম বাড়ীতে না আসলে বাদী তার স্বামী ভিকটিমকে ফোনের মাধ্যমে কল করলে ভিকটিমের ফোন বন্ধ পান। বাদী তার প্রতিবেশী দেবর মোঃ আব্দুর রাজ্জাককে নিয়ে ভিকটিমকে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে কোথাও না পেয়ে পরের দিন  ২৫/০২/২০২৬ তারিখ বাদী তারাগঞ্জ থানায় একটি নিখোঁজ জিডি করেন। যার জিডি নং ১০৭৬। পরবর্তীতে জিডির তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ তারাগঞ্জ থানা পুলিশ ভিকটিমকে খোঁজাখুঁজি করাকালে ২৬/০২/২০২৬ তারিখ বিকাল ০৪.০০ ঘটিকায় লোকমুখে সংবাদ পেয়ে তারাগঞ্জ থানাধীন ২নং কুর্শা ইউনিয়নের রামপুরা মৌজাস্থ জনৈক মোঃ শাহাদত হোসেন সুজন মিয়া এর আলু ক্ষেতের জমির আইলে রক্ত এবং জমির দক্ষিণ-পূর্ব কোণে মাটি সামান্য আলগা ও ভেজা দেখতে পায় এবং পরে কোদাল দিয়ে মাটি খুড়ার এক পর্যায়ে মানুষের হাত ও মাটি মাখানো একটি মৃত দেহ দেখতে পান। বাদী সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতের মুখমন্ডল দেখে বাদীর স্বামী ভিকটিমকে সনাক্ত করেন। তারাগঞ্জ থানা পুলিশ ভিকটিমকে উত্তোলন করে ভিকটিমের ডান ও বাম গালে একটি করে ক্ষত চিহ্ন, বামগালের নিচের অংশে একটি ক্ষত চিহ্ন, গলার মাঝখান হতে ডানদিকে বিস্তৃত গভীর কাটা গুরুতর জখম, পিঠের মাঝ বরাবর কালশিরা আঘাতের চিহ্ন সনাক্ত করে সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করেন। উক্ত ঘটনায় ভিকটিমের স্ত্রী বাদী হয়ে ইং ২৭/০২/২৬ তারিখ অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে ধারা- ৩০২/২০১/৩৭৯, পেনাল কোড-১৮৬০ মূলে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং-০৫।
 
৩। পরবর্তীতে তদন্তকালে জানা যায় যে, ভিকটিম এবং ধৃত আসামি ও তার সহযোগী আসামিদের মধ্যে পাওনা টাকা লেনদেনের ফলে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে ইং ২৪/০২/২০২৬ তারিখ সন্ধ্যায় ধৃত আসামি ও সহযোগী আসামিরা মিলে ভিকটিমকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও গলাকেটে নৃশংসভাবে হত্যা করে লাশ গুম করে এবং তার লাশ আলুর জমিতে মাটিচাপা দিয়ে রাখে। পরে আসামিরা ভিকটিমের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি নিয়ে ঘটনাস্থল হতে পালিয়ে যায়।


ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক হত্যাকান্ড হওয়ায় এলাকায় ব্যাপকভাবে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় আসামিদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি র‍্যাব গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে এবং আসামি গ্রেফতারে সচেষ্ট হয়। 
 
। সুনির্দিষ্ট তথ্য ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-১৩, সিপিএসসি, রংপুর এবং সিপিসি-২, র‍্যাব-৪, সাভার, ঢাকা ইং ০৭/০৬/২০২৬ তারিখ সন্ধ্যা ০৭.৩০ ঘটিকায় ঢাকা জেলার সাভার থানাধীন বৌ বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে রংপুর জেলার তারাগঞ্জ থানার পল্লীবিদ্যুতের ঠিকাদারের কর্মীকে হত্যা মামলার প্রধান আসামি ০১। মোঃ মহাব্বত আলী (৩১), পিতা- মৃত খাদেমুল ইসলাম, সাং- দক্ষিণ ঘনিরামপুর ঝাকুয়াপাতা, থানা- তারাগঞ্জ, জেলা- রংপুর’কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।  
 
পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রমের জন্য ধৃত আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়াও এই ধরণের প্রতিটি, হত্যা, অপহরণ, ধর্ষণসহ সকল অপরাধ প্রতিরোধে র‌্যাবের প্রতিটি সদস্য দৃঢ়প্রত্যয়ের সাথে কাজ করছে এবং চলমান এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। 

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ