ঢাকা , সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬ , ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘ঘরটা চোখের সামনে নদীতে চলে গেল। এখন কোথায় যাব, কীভাবে বাঁচব, কিছুই জানি না।’

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৬-০৮ ০০:৩১:৫০
‘ঘরটা চোখের সামনে নদীতে চলে গেল। এখন কোথায় যাব, কীভাবে বাঁচব, কিছুই জানি না।’ ‘ঘরটা চোখের সামনে নদীতে চলে গেল। এখন কোথায় যাব, কীভাবে বাঁচব, কিছুই জানি না।’
 
আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:-
 
 
কথাগুলো বলছিলেন কুড়িগ্রাম জেলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলার শিলখুরি ইউনিয়নের উত্তর ধলডাঙ্গা গ্রামের মোছাঃ মোমেনা বেগম ( ৫৫)। তার মতো শত শত মানুষ এখন কালজানি নদীর ভাঙনের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। কেউ বসতভিটা হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন। কেউবা স্বজনদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। কালজানি নদীর তীব্র ভাঙনে শিলখুরি ইউনিয়নের ভারতীয় সীমান্তঘেঁষা উত্তর ধলডাঙ্গা ও দক্ষিণ ধলডাঙ্গা গ্রামে ক্ষয়ক্ষতি দেখা দিয়েছে।
 
স্থানীয়রা জানান, গত চার দিনে দুই গ্রামের অন্তত প্রায় ২০০ পরিবারের বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এর মধ্যে উত্তর ধলডাঙ্গায় ৮০টি এবং দক্ষিণ ধলডাঙ্গায় ৩৫টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উত্তর ধলডাঙ্গা এলাকায় প্রায় ১ হাজার ৪০০ মিটার এবং দক্ষিণ ধলডাঙ্গায় ১ হাজার ৬০ মিটার এলাকাজুড়ে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। নদীর প্রবল স্রোতে প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা বিলীন হচ্ছে।
 
শনিবার (৬ জুন) বিকেলে ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) কুদরত-এ-খুদা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জাকির হোসেন, কুড়িগ্রাম জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রাকিবুল হাসান, কুড়িগ্রাম জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা বেনজীর রহমান, ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেবনাথ।
 
কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, যতটুকু ভাঙন হওয়ার হয়েছে। এরপর যেন কালজানি নদী মানুষের বসতভিটা কেড়ে নিতে না পারে, সে জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। রোববার থেকে ভাঙন প্রতিরোধে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু হবে। প্রাথমিকভাবে ২ হাজার বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হবে। প্রয়োজনে আরও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
 
কুড়িগ্রাম জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রাকিবুল হাসান বলেন, প্রথম ধাপে ২ হাজার জিও ব্যাগ ফেলা হবে। পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনে আরও ব্যাগ সরবরাহ করা হবে।
 
চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক মোঃ শফিকুল ইসলাম বেবু বলেন, নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ বাংলাদেশের একটি দীর্ঘদিনের বাস্তবতা। কিন্তু ভাঙনের শিকার পরিবারগুলো অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কোনো ক্ষতিপূরণ পায় না। পৃথিবীর অনেক দেশে, বিশেষ করে নেদারল্যান্ডসসহ নদীবিধৌত দেশগুলোতে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে দ্রুত ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন সহায়তা দেওয়া হয়। অথচ আমাদের দেশে মানুষ সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যায়। প্রয়োজনে সংসদে আইন পাস করে নদীভাঙনকবলিত মানুষের জন্য ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের স্থায়ী ব্যবস্থা করতে হবে।
 
কুড়িগ্রাম জেলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলার শিলখুরি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ ইউসুফ হোসেন বলেন, গত এক বছরে কালজানি নদী বাম তীর থেকে গড়ে প্রায় ১০০ মিটার ভেতরে ঢুকে পড়েছে। এই বছরে প্রায় এক হাজার পরিবার তাদের ঘরবাড়ি হারিয়ে অন্যত্র চলে গেছে। বর্তমানে ঐতিহ্যবাহী উত্তর ধলডাঙ্গা উচ্চবিদ্যালয় ও এলাকার বউবাজারও নদীভাঙনের হুমকির মুখে রয়েছে।
 
উত্তর ধলডাঙ্গা গ্রামের মোঃ তোজাম্মেল হক, মোঃ ময়েন উদ্দিন, মোঃ সাহেজ উদ্দিন, মোঃ মনির হোসেনসহ অনেকেই বলেন, প্রতিদিন নদী আমাদের জীবনের নিরাপত্তা কেড়ে নিচ্ছে। ভিটেমাটি হারিয়ে অনেকেই বাধ্য হয়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছেন।

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ