ঢাকা , রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬ , ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রানীনগর বালুমহাল দখলের অভিযোগ, সাড়ে ১১ কোটি টাকা ফেরত চাইলেন ইজারাদার

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৬-০৭ ১৭:১৪:২৮
রানীনগর বালুমহাল দখলের অভিযোগ, সাড়ে ১১ কোটি টাকা ফেরত চাইলেন ইজারাদার রানীনগর বালুমহাল দখলের অভিযোগ, সাড়ে ১১ কোটি টাকা ফেরত চাইলেন ইজারাদার
নিজস্ব প্রতিবেদক                                                                                                   


চাঁপাইনবাবগঞ্জের পদ্মা নদীর রানীনগর বালুমহাল ইজারা নিয়ে বিপাকে পড়েছেন ইজারাদার অহেদুল নবী। ভ্যাট-ট্যাক্সসহ প্রায় সাড়ে ১১ কোটি টাকা পরিশোধ করেও দুই মাস ধরে এক ছটাক বালুও উত্তোলন করতে না পারায় ক্ষতিপূরণসহ পরিশোধিত অর্থ ফেরতের আবেদন করেছেন তিনি। তার অভিযোগ, সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী চক্রের দখল ও চাঁদাবাজির কারণে বালুমহাল পরিচালনা সম্ভব হচ্ছে না, অথচ প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

ইজারাদার অহেদুল নবী জানান, বাংলা নববর্ষ শুরুর আগেই তিনি সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ইজারার অর্থ পরিশোধ করেন। তবে শুরু থেকেই একটি চক্র তার কাছে ৪০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা না দেওয়ায় তারা বালুমহাল দখলে নিয়ে তাকে বালু উত্তোলন করতে বাধা দিচ্ছে।

তার দাবি, গত ১৪ মে বালুমহালে গেলে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সামনেই তার শ্রমিকদের ওপর হামলা চালানো হয়| এতে কয়েকজন গুরুতর আহত হন এবং বালু উত্তোলনের সরঞ্জাম ভাঙচুর করা হয়| পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এনে প্রশাসনের সদস্যরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

অহেদুল নবী আরও জানান, ১৫ মে ২৬ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ১৫ জনকে আসামি করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। তবে মামলার পরও কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে তার অভিযোগ। উল্টো বালুমহালে গেলে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।

ইজারাদারের ভাষ্য, বালুমহালের আশপাশে সংঘবদ্ধ একটি চক্র অবৈধভাবে নদীর পাড় কেটে পলিমাটি উত্তোলন করছে। কিন্তু প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারছে না। গত বছরও একই কারণে রানীনগর বালুমহাল ইজারা দেওয়া সম্ভব হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি জানান, গত ১৪ এপ্রিল থেকে ৫ জুন পর্যন্ত প্রায় এক মাস ২০ দিনে তার আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। প্রতিদিন গড়ে ৩ থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

এদিকে, গত ২ জুন রাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর সহকারী কমিশনার (ভূমি) পুলিশ নিয়ে তাকে বাড়ি থেকে নিয়ে গিয়ে বালুমহাল বুঝে পাওয়ার কাগজে সই করতে চাপ দেন বলে অভিযোগ করেন ইজারাদার| তবে সই করতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে মামলার ভয় দেখানো হয় বলেও দাবি তার| পরে বিভিন্ন মহলের হস্তক্ষেপে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইকরামুল হক নাহিদ। তিনি বলেন, জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী বালুমহালের সীমানা নির্ধারণ করে ইজারাদারকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাকে জোর করে বাড়ি থেকে আনা হয়নি; বরং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে স্বাক্ষরের জন্য ডেকে পাঠানো হয়েছিল।

ইজারাদার অর্থ ফেরতের আবেদন করেছেন কি না, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন বলেও জানান।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ