ঢাকা , রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬ , ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

​কালজানির করাল গ্রাসে তিন দিনে বিলীন ৭০ বসতভিটা, আতঙ্কে সীমান্তঘেঁষা দুই গ্রামের মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৬-০৭ ১৬:০৩:৩৩
​কালজানির করাল গ্রাসে তিন দিনে বিলীন ৭০ বসতভিটা, আতঙ্কে সীমান্তঘেঁষা দুই গ্রামের মানুষ ​কালজানির করাল গ্রাসে তিন দিনে বিলীন ৭০ বসতভিটা, আতঙ্কে সীমান্তঘেঁষা দুই গ্রামের মানুষ

কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি: 
মোঃ জাকারিয়া হোসেন 



 কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার শিলখুরি ইউনিয়নের উত্তর ঢলডাঙ্গা ও কাজিয়ার চর এলাকায় কালজানি নদীর তীব্র ভাঙনে গত তিন দিনে অন্তত ৭০টি বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের মুখে রয়েছে আরও অর্ধশতাধিক পরিবার। ঘরবাড়ি, গাছপালা ও ফসলি জমি রক্ষার শেষ চেষ্টায় অনেক পরিবার এখন বাড়িঘর সরিয়ে নেওয়ার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে কালজানি নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় তীরভাঙনও মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। সীমান্তঘেঁষা উত্তর ঢলডাঙ্গা ও কাজিয়ার চর এলাকায় নদীর প্রবল স্রোত সরাসরি আঘাত হানায় কয়েকটি স্থানে ভয়াবহ ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে।

শিলখুরি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ইসমাইল হোসেন ইউসুফ জানান, উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১১ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত সীমান্তসংলগ্ন এ দুটি এলাকায় গত তিন দিনে অন্তত ৭০টি বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বর্তমানে আরও ৫০টির বেশি পরিবার চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত তোফাজ্জল মিয়া বলেন, “এর আগেও কয়েকবার নদীভাঙনে সর্বস্ব হারিয়েছি। কষ্ট করে আবার ঘর তুলেছিলাম। এখন নদী আবার ঘরের খুব কাছে চলে এসেছে। পরিবার নিয়ে কীভাবে বাঁচব, বুঝতে পারছি না।”

একই এলাকার শাজাহান আলী বলেন, “দিন-রাত ঘর সরানোর কাজ করছি। নদী কখন কী নিয়ে যায়, সেই ভয়ে আছি। সন্তানদের নিয়ে কোথায় আশ্রয় নেব, কোনো উপায় খুঁজে পাচ্ছি না।”

মোজাফ্ফর আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “নদী আমাদের জমি খেয়েছে, এখন ঘরও খাচ্ছে। প্রতি বছর ভাঙনের আতঙ্কে থাকতে হয়। স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ না হলে আমরা বারবার উদ্বাস্তু হব।”

কাশেম উদ্দিন বলেন, “এক জীবনে তিন-চারবার বাড়ি সরিয়েছি। আর কতবার সরাব? ঘর বাঁচাতে যা ছিল সব শেষ হয়ে গেছে।”

সরেজমিনে দেখা গেছে, নদীপাড়জুড়ে বিরাজ করছে আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তা। কেউ টিন খুলছেন, কেউ ঘরের খুঁটি উপড়ে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন। অনেক পরিবার গবাদিপশু ও প্রয়োজনীয় মালামাল অন্যত্র স্থানান্তর করছে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের মধ্যে উদ্বেগ বেশি দেখা গেছে।

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, “ভাঙন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মুন্না হককে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভাঙন প্রতিরোধে জরুরি কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।”

তবে স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে কালজানি নদীর ভাঙন অব্যাহত থাকলেও স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়নি। ফলে প্রতি বর্ষায় নদীতীরবর্তী মানুষদের ঘরবাড়ি ও জমিজমা হারানোর আতঙ্কে দিন কাটাতে হয়। দ্রুত কার্যকর ও স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ না হলে উত্তর ঢলডাঙ্গা ও কাজিয়ার চর এলাকার আরও অনেক পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ