ঢাকা , সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬ , ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

র‍্যাব-১৩ এর অভিযানে শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী থানার চাঞ্চল্যকর ক্লুলেস হত্যা মামলার তদন্তে প্রাপ্ত প্রধান আসামি কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার।

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৬-০২ ১৮:৫২:৪৩
র‍্যাব-১৩ এর অভিযানে শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী থানার চাঞ্চল্যকর ক্লুলেস হত্যা মামলার তদন্তে প্রাপ্ত প্রধান আসামি কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার। র‍্যাব-১৩ এর অভিযানে শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী থানার চাঞ্চল্যকর ক্লুলেস হত্যা মামলার তদন্তে প্রাপ্ত প্রধান আসামি কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার।
নিজস্ব প্রতিবেদক


র‍্যাব-১৩ এর অভিযানে শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী থানার চাঞ্চল্যকর ক্লুলেস হত্যা মামলার তদন্তে প্রাপ্ত প্রধান আসামি কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার।
 
| বাংলাদেশ আমার অহংকার'- এই মূলমন্ত্রকে  ধারণ করে এলিট ফোর্স র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন চাঞ্চল্যকর হত্যা, অপহরণ, ধর্ষণ, রাহাজানি, যৌতুকসহ মারাত্মক সব সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। হত্যার মতো মারাত্মক সামাজিক অপরাধের ক্ষেত্রে র‍্যাব অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করে থাকে।
 
বাদীর দায়েরকৃত এজাহার থেকে জানা যায় যে, বাদী জরুরী ডিউটি করা কালে জাতীয় জরুরী সেবা ৯৯৯ এর মাধ্যমে জানতে পারেন যে, শেরপুরের ঝিনাইগাতী থানাধীন গান্দিগাঁও সাকিনস্থ রাস্তার পাশে ঝোঁপের ভিতর একজন অজ্ঞাতনামা  মহিলার মৃত দেহ পড়ে আছে। বাদী উক্ত সংবাদ প্রাপ্ত হয়ে ঝিনাইগাতী থানার অফিসার ইনচার্জকে অবগত করে সঙ্গীয় ফোর্স সহ ইং ১৯/১১/২০২৫ তারিখ সকাল ০৯.৩৫ ঘটিকায় বর্ণিত স্থানে উপস্থিত হয়ে বাদী সঙ্গীয় ফোর্স ও স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় অজ্ঞাতনামা মহিলার মৃত দেহ ঝোঁপ থেকে রাস্তার উপরে নিয়ে আসেন। বাদী উপস্থিত স্থানীয় লোকজন এবং নারী পুলিশের সহযোগীতায় শালীনতা বজায় রেখে ভিকটিমের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করেন। উক্ত ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে শেরপুর জেলা, ঝিনাইগাতী থানায় ধৃত আসামি ও সহযোগী আসামিগণের বিরুদ্ধে ইং ১৯/১১/২০২৫ তারিখ ধারা-৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোড, ১৮৬০ মূলে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং-১৫।
 
পরবর্তীতে তদন্তকালে জানা যায় যে, ভিকটিমের নাম মোছাঃ এলিজা বেগম (৩৫)। ভিকটিম ধৃত আসামি মোঃ আলমগীর গাজী (৩৬) এর দ্বিতীয় স্ত্রী। বিবাহের পর থেকে সাংসারিক জীবনে  ভিকটিম ও ধৃত আসামির মধ্যে প্রায়ই ছোট খাটো বিষয় নিয়ে ঝগড়া লেগেই থাকতো এবং প্রায় সময়ই ধৃত আসামি ভিকটিমকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিলো। এরই ধারাবাহিকতায় ধৃত আসামি ভিকটিমের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে ইং ১৩-১১-২০২৫ তারিখ বিকাল ০৪.০০ ঘটিকায় তার সহযোগীসহ ভিকটিমকে হত্যা করে লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে ঝোঁপের ভিতরে ফেলে ঘটনাস্থল হতে পালিয়ে যায়। 
 
 
ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক হত্যাকান্ড হওয়ায় এলাকায় ব্যাপকভাবে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় আসামিদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি র‍্যাব গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে এবং আসামি গ্রেফতারে সচেষ্ট হয়। 
 
সুনির্দিষ্ট তথ্য ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-১৩, সিপিএসসি, রংপুর ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল ইং ০১/০৬/২০২৬ তারিখ দুপুর ০২ .১০ ঘটিকায় কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট থানাধীন উমর মজিদ ইউপির অন্তর্গত ০৬ নং ওয়ার্ডস্থ আনন্দ বাজার মোঃ আলতাফ হোসেন এর বসতবাড়ির উত্তর দুয়ারী ঘরে অভিযান পরিচালনা করে চাঞ্চল্যকর ক্লুলেস হত্যা মামলার তদন্তে প্রাপ্ত প্রধান পলাতক আসামি ০১। মোঃ আলমগীর গাজী (৩৬), পিতা মুনসুর রহমান গাজী, সাং- জায়গীর মহল আমাদী, থানা-কয়রা, জেলা- খুলনা, এপি সাং- মৎস্য খামার, থানা- কুড়িগ্রাম সদর, জেলা-কুড়িগ্রাম'কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
 
পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রমের জন্য ধৃত আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়াও এই ধরণের প্রতিটি, হত্যা, অপহরণ, ধর্ষণসহ সকল অপরাধ প্রতিরোধে র‌্যাবের প্রতিটি সদস্য দৃঢ়প্রত্যয়ের সাথে কাজ করছে এবং চলমান এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। 

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ