ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬ , ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

​কেন্দুয়ায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চেংজেনায় ষাঁড়ের লড়াই, জুয়ার আসরের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৬-০২ ১৭:১৮:০৪
​কেন্দুয়ায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চেংজেনায় ষাঁড়ের লড়াই, জুয়ার আসরের অভিযোগ ​কেন্দুয়ায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চেংজেনায় ষাঁড়ের লড়াই, জুয়ার আসরের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টারঃ

নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলায় স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে সান্দিকোনা ইউনিয়নের চেংজেনা গ্রামে ষাঁড়ের লড়াই অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ লড়াইকে কেন্দ্র করে লক্ষাধিক টাকার জুয়া খেলারও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

মঙ্গলবার (২ জুন) ভোর ৫টার দিকে চেংজেনা এলাকায় এ লড়াই অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রায়জুরা ও সান্দিকোনা গ্রামের কয়েকটি ষাঁড় এতে অংশ নেয়। ভোর থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ সেখানে জড়ো হয়। লড়াইকে ঘিরে বাজি ধরা এবং লক্ষাধিক টাকার লেনদেন হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এলাকাবাসীর দাবি, স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ও রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রছায়ায় এ আয়োজন করা হয়েছে। প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও প্রকাশ্যে এমন আয়োজন হওয়ায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক নেতা বলেন, উপজেলা পর্যায়ের কিছু নেতার মদদে ইউনিয়নের কিছু নেতার সংশ্লিষ্টতায় এ আয়োজন করা হয়েছে। বিষয়টি জানাতে প্রশাসনের সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সময়মতো সাড়া পাওয়া যায়নি।

সান্দিকোনা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম বলেন, ভোরে ফোন এলেও তিনি ঘুমিয়ে থাকায় বিষয়টি জানতে পারেননি। সকাল ৯টার দিকে ষাঁড়ের লড়াইয়ের খবর পান। এ ঘটনায় বিএনপির কোনো নেতা জড়িত নন বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, লড়াইটি সান্দিকোনা, চেংজেনা ও রোয়াইলবাড়ি ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্ভাব্য লড়াইয়ের বিষয়ে রোয়াইলবাড়ি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শেখ মোস্তফা কামাল বাবলু গতরাত ৩টার দিকে তাকে ও প্রশাসনকে অবহিত করেছিলেন বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে রোয়াইলবাড়ি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শেখ মোস্তফা কামাল বাবলুর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।

কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী মাকসুদ বলেন, সকাল ৮টার দিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। ষাঁড়গুলোর মালিকদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রোয়াইলবাড়ি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রাত ৩টার দিকে তাকে ফোন করেছিলেন কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন, বিষয়টি জানার পর এসআই বাবুলকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছিল। তবে সেখানে কোনো গরু পাওয়া যায়নি। এছাড়া তাকে শুধু গরু আটকের বিষয়ে জানানো হয়েছিল, সম্ভাব্য ষাঁড়ের লড়াইয়ের বিষয়ে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ