ঢাকা , শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬ , ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মির্জাগঞ্জে জমজমাট প্রাইভেট-কোচিং বাণিজ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৫-৩০ ১৬:৪৫:৪১
মির্জাগঞ্জে জমজমাট প্রাইভেট-কোচিং বাণিজ্য মির্জাগঞ্জে জমজমাট প্রাইভেট-কোচিং বাণিজ্য
মির্জাগঞ্জ ( পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক কোচিং বাণিজ্য দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে অধিকাংশ কলেজ, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, দাখিল মাদ্রাসা, প্রাইভেট স্কুল ও মাদ্রাসার শিক্ষকরা নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট- কোচিংয়ে বাধ্য করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মির্জাগঞ্জ উপজেলার সর্বত্র কোচিং বানিজ্য জমজমাট, এমনকি শিক্ষকরা ছুটির পরে বিকেলে কিংবা রাতে নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্লাশ রুমে কোচিং করিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।  সরেজমিনে দেখা যায়: উপজেলার সরকারী  র,ই পাইলট হাইস্কুলও এই বাণিজ্যের আওতামুক্ত নয়।  সুবিদখালী বাজারের আশপাশে অন্তত ১০টি বাণিজ্যিক কোচিং সেন্টার সক্রিয় রয়েছে। সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে এসব সেন্টারে ভিড় জমায় হাইস্কুলের কোমল মতি ছাত্রছাত্রীরা। এ ছাড়াও  এসএসসি,  দাখিল, এইচএসসি পরীক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীরা। যাহা সম্পূর্ণ নীতিমালা বিরোধী। শিক্ষা নীতিমালা ২০১২ অনুযায়ী কোনো শিক্ষক নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীকে কোচিং করাতে পারবেন না। নীতিমালা পর্যালোচনা করে দেখা যাচ্ছে যে, প্রতিষ্ঠানের ভবন ব্যবহার করে বা আলাদাভাবে কোচিং চালানো নিষিদ্ধ।  শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সন্ধ্যার পরে কোচিং করানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।  সন্ধ্যার পরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখলে ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা এবং ভবন ব্যবহারের ঝুঁকি থাকে। তাই জেলা প্রশাসন ও শিক্ষা অফিস থেকেও রাতে প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়। কিন্তু মির্জাগঞ্জে এর উল্টো চিত্র। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অভিভাবক জানান, কোচিং না করলে ক্লাসে শিক্ষার্থীদের অবহেলা করা হয়। পরীক্ষায় নম্বর কম দেওয়ার ভয়ও দেখানো হয়। একজন অভিভাবক বলেন, ‘আমার দুই সন্তানের জন্য শুধু কোচিং বাবদ মাসে ১০ হাজারের বেশি খরচ হয়। প্রতিষ্ঠানে পড়ানোর পরও কেন বাইরে পড়াতে হবে, বুঝতে পারি না।’ অন্যদিকে কিছু অভিভাবক বলছেন, ‘স্কুল-মাদ্রাসায় দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়ে কোচিংয়ে দিতে হচ্ছে।’ মির্জাগঞ্জ উপজেলার সুবিদখালী বন্দরে প্রাইভেট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এখন কয়েক গজ পরপরই। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার একমাত্র লক্ষ্যই হচ্ছে কোচিং বাণিজ্য। এরা ছুটির পরে কিংবা রাতে অভিভাবকদের জিম্মি করে নিজেদের মতো কোচিং বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন। এক প্রতিষ্ঠানের দেখাদেখি অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো উদ্বুদ্ধ হয়ে তাদের প্রতিষ্ঠানেও কোচিং বাধ্যতামূলক করার পাঁয়তারা চালাচ্ছেন। শিক্ষাবিদদের মতে, কোচিং নির্ভরতা কমাতে হলে প্রথমে স্কুল-মাদ্রাসায় মানসম্মত ক্লাস নিশ্চিত করতে হবে। দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে রেমিডিয়াল ক্লাস চালু করা জরুরি। পাশাপাশি অভিভাবক ও শিক্ষকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে। মির্জাগঞ্জের সচেতন মহল, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা চাচ্ছেন, দ্রুত মনিটারিং কার্যকর এবং নীতিমালার বাস্তবায়ন। অন্যথায় কোচিং বাণিজ্য বন্ধ হওয়ার বদলে আরও বিস্তৃত হবে বলে মনে করেন তারা। এ ব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন, মাঝে মাঝে অভিযান চালানো হলেও জনবল সংকটের কারণে নিয়মিত মনিটরিং সম্ভব হয় না।

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ