নিজস্ব প্রতিবেদক:
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানীর পশুর হাটুগুলো জমজমাট হতে শুরু করেছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে খামারি ও ব্যবসায়ীরা তাদের গরু, ছাগল ও মহিষ নিয়ে এসেছেন রাজধানীর হাটগুলোতে। কুষ্টিয়া, রাজশাহী, ঝিনাইদহ, পাবনা, চুয়াডাঙ্গাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে প্রত্যাশিত দামে বিক্রির আশায় পশু নিয়ে এসেছেন বিক্রেতারা।
সরেজমিন রাজধানীর বিভিন্ন পশুর হাটে এ বছর দেশি গরুর আধিক্য দেখা গেছে। অন্যান্য বছরের ন্যায় এবার ভারতীয় গরু-মহিষের আধিক্য তেমন লক্ষ করা যায়নি।
ব্যবসায়ী ও ইজারাদারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত কয়েক দিন হাটগুলোয় ক্রেতাসমাগম তুলনামূলক কম ছিল। তবে আজ সোমবার থেকে সরকারি-বেসরকারি অফিস ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ছুটি হওয়ায় কেনাবেচা পুরোদমে জমে উঠবে বলে আশা করছেন তারা।
গতকাল রোববার রাজধানীর অন্যতম বড় পশুর হাট উত্তরার দিয়াবাড়ি ও গাবতলী হাটে দেখা যায়, হাজার হাজার দেশি গরু আনা হয়েছে বিক্রির জন্য। কিছুসংখ্যক বিদেশি গরু থাকলেও এসব গরু দীর্ঘদিন ধরে লালন-পালন করছেন দেশি খামারিরাই।
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থেকে জিয়াউর রহমান তার ২২টি দেশি গরু নিয়ে এসেছেন উত্তরার দিয়াবাড়ি হাটে। তিনি জানান, গত শনিবার থেকে হাটে অবস্থান করলেও এখন পর্যন্ত কোনো গরু বিক্রি হয়নি। তার মতে, মূলত সোমবার (আজ) থেকে অফিস-আদালত ছুটি শুরু হওয়ার পরই মানুষ পশুর হাটে আসা শুরু করবেন এবং কেনাবেচা শুরু হবে।
একই প্রত্যাশা রাজশাহীর বাঘা থেকে আটটি গরু নিয়ে আসা আনোয়ার মোল্লার। তিনি বলেন, অফিস ও কর্মস্থল থেকে ছুটি পাওয়ার পরই মানুষ মূলত কোরবানির পশু কিনতে আসেন। আমরা প্রতিবারই আসি। এবারও গরু বিক্রি করে বাড়ি ফিরব ইনশাল্লাহ।
ঝিনাইদহের শৈলকুপা থেকে ৩৭টি দেশি গরু নিয়ে আসা বকুল হোসেন জানান, হাটে জায়গা পাওয়ার জন্য কয়েক দিন আগেই চলে এসেছেন তারা।
আজ থেকে পুরোদমে বিক্রি শুরু হবে জানিয়ে তিনি বলেন, এবার ভালো ব্যবসা হবে বলে আমরা আশাবাদী। আমাদেরও লস হবে না আবার ক্রেতারাও খুব ঠকবেন না।
চুয়াডাঙ্গার ফুলবাড়ী থেকে ১৬টি গরু নিয়ে আসা মো. ফারুক হোসেন অবশ্য এরই মধ্যে দুটি গরু বিক্রি করেছেন। তিনি জানান, নিজেদের খরচ তোলার জন্য ১৫ হাজার টাকা লাভে গরু দুটি ছেড়ে দিয়েছেন। তবে মূল ক্রেতাদের ঢল আজ থেকেই শুরু হবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা থেকে ২১টি দেশি গরু নিয়ে এসেছেন জাহিদুল ইসলাম। তিনিও আশাবাদী, আজ থেকেই পুরোদমে বিক্রি শুরু হয়ে হাট জমে উঠবে।