ঢাকা , সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬ , ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হিন্দুত্ববাদীরা তাজমহল ভেঙে কবে মন্দির বানাবে

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৫-২০ ১০:২১:৪৫
হিন্দুত্ববাদীরা তাজমহল ভেঙে কবে মন্দির বানাবে হিন্দুত্ববাদীরা তাজমহল ভেঙে কবে মন্দির বানাবে
নিজস্ব প্রতিবেদক:
বিজেপির শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে হাজার হাজার হিন্দু সন্ত্রাসীর ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ ভেঙে ফেলার সময় ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভূমিকা কী ছিল সেটা নিয়ে তিনি পরবর্তী সময়ে মুখ খোলেননি। বিশ্বের কাছে আধুনিক ভারতের কট্টর হিন্দু সাম্প্রদায়িক চেহারা উন্মোচনের গুরুত্বপূর্ণ তারিখটি ছিল ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর।

সেদিন মোগল সম্রাট বাবরের আমলে নির্মিত মুসলমানদের উপাসনালয় ধ্বংসের নেতৃত্বে ছিলেন নরেন্দ্র মোদির একসময়ের রাজনৈতিক গুরু এল কে আদভানি। ঐতিহাসিক মসজিদটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার চরম নিন্দনীয় কাজে এল কে আদভানি ছাড়াও বিজেপির অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় নেতার মধ্যে অংশ নিয়েছিলেন মুরলি মনোহর যোশী, উমা ভারতী এবং উত্তর প্রদেশের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী কল্যাণ সিং। সে সময় দিল্লিতে কংগ্রেসের সরকার ক্ষমতায় ছিল এবং প্রধানমন্ত্রী ছিলেন কথিত ধর্মনিরপেক্ষ দলটির কট্টর হিন্দু নেতা নরসিমা রাও।

নিরপেক্ষ রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বাবরি মসজিদ ভাঙার পেছনে নরসিমা রাওয়ের মৌন সম্মতি ছিল বলে ধারণা করে থাকেন। এর কিছুদিন আগে ১৯৯১ সালে ভারতের লোকসভা এই মর্মে একটি আইন পাস করেছিল যে, ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন থেকে ভারতের স্বাধীনতা প্রাপ্তির দিনে রাষ্ট্রের সর্বত্র বিভিন্ন ধর্মের যে উপাসনালয়সমূহ ছিল, সেগুলো অবিকৃত অবস্থায় সেসব ধর্মের জনগণের উপাসনার সম্পূর্ণ অধিকার দিয়ে বজায় রাখতে হবে।

অর্থাৎ, বিশ্ব হিন্দু পরিষদের মতো উগ্রবাদী গোষ্ঠীর দাবি অনুযায়ী সংখ্যালঘু নাগরিকের অধিকার হরণ করে কোনো মসজিদ কিংবা গির্জাকে মন্দিরে রূপান্তর করা যাবে না। বলাই বাহুল্য, বাবরি মসজিদের ক্ষেত্রে হিন্দুত্ববাদীরা ভারত নামক রাষ্ট্রের প্রণীত আইন মানেনি। ভারতের কট্টর হিন্দুদের আইন ভাঙার উদাহরণ কেবল ১৯৯২ সালের ধ্বংসযজ্ঞের মধ্য দিয়েই সমাপ্ত হয়নি; বরং সন্ত্রাসী কায়দায় বাবরি মসজিদ ভাঙার সাফল্যে উৎসাহিত হয়ে উগ্র হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠী মুসলমানদের একের পর এক উপাসনালয় বিভিন্ন উপায়ে কবজা করতে চেয়েছে। তাদের এই অন্যায় কাজে ভারতের আদালতসমূহ সর্বপ্রকারে সহায়তা প্রদান করেছে।

ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের ফুল বেঞ্চ ২০১৯ সালে অযোধ্যায় বাবরি মসজিদের সম্পূর্ণ জমি রামমন্দির নির্মাণের জন্য বিশ্ব হিন্দু পরিষদের কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়ে সংখ্যালঘু মুসলমানদের ধর্মীয় অধিকার হরণকারী এক বিতর্কিত রায় দিলেও দৃশ্যত ভবিষ্যতে সংখ্যালঘুদের অন্য উপাসনালয় নিয়ে একই ধরনের বিতর্ক এড়ানোর উদ্দেশ্যে রায়ে নিম্নোক্ত ধারাসমূহ সংযুক্ত করেছিলেন :

১. দেশের সব ধর্মীয় উপাসনালয়ে ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্টের স্থিতাবস্থা বজায় রেখে ১৯৯১ সালে ভারত সরকার যে আইন প্রণয়ণ করেছিল, বাবরি মসজিদ ব্যতীত অন্য কোনো উপাসনালয়ের ক্ষেত্রে তার কোনোরূপ ব্যত্যয় ঘটানো যাবে না।

২. ১৯৯২ সালে বাবরি মসজিদ ধ্বংস করা একটি চরম নিন্দনীয় এবং আইন ভঙ্গকারী ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড ছিল।

৩. যেহেতু বাবরি মসজিদ বেআইনিভাবে ভাঙা হয়েছিল, তাই ভারত সরকার অযোধ্যায় নতুন একটি মসজিদ নির্মাণের জন্য মুসলমান জনগোষ্ঠীকে পাঁচ একর জায়গা বরাদ্দ করবে।

বাবরি মসজিদের জায়গায় রামমন্দির ২০২৪ সালে নির্মিত হয়ে গেলেও আজ পর্যন্ত অযোধ্যায় নতুন মসজিদ নির্মাণের কোনোরকম অগ্রগতি হয়নি। উপরন্তু ভারতের বিপুলসংখ্যক হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠী, দেশটির চরম সাম্প্রদায়িক সরকার, এমনকি হাইকোর্টের ইসলামবিদ্বেষী বিচারপতিরাও সংসদে প্রণীত আইন কিংবা সুপ্রিম কোর্টের কোনো রায়ের তোয়াক্কা যে করে না, সেটা কদিন আগে পুনরায় প্রমাণিত হয়েছে। ভারতের মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের হাইকোর্ট ১৯৯১ সালের আইন এবং ২০১৯ সালে প্রদত্ত সুপ্রিম কোর্টের ফুল বেঞ্চের নির্দেশ উপেক্ষা করে রাজ্যের পাঁচশ বছর পুরোনো ঐতিহাসিক কামাল মওলা মসজিদে মুসলমানদের নামাজ পড়ার অধিকার কেড়ে নিয়েছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ