নিজস্ব প্রতিবেদক:
বিশ্বজুড়ে সংক্রামক ব্যাধির প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় প্রতিরোধ সক্ষমতা দিনে দিনে কমছে বলে সতর্ক করেছেন চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা। ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো (ডিআরসি) এবং উগান্ডায় ইবোলা প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণের চেষ্টার মধ্যেই এ সতর্কবার্তা এল।
সোমবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে গ্লোবাল প্রিপেয়ার্ডনেস মনিটরিং বোর্ড (জিপিএমবি) জানিয়েছে, ‘সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাব যেমন ঘন ঘন হচ্ছে, তেমনি এগুলো আগের চেয়ে আরো বেশি মারাত্মক বা ক্ষতিকর হয়ে উঠছে।’
সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, ‘মহামারির ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রস্তুতির পেছনে যে বিনিয়োগ করা হচ্ছে, ঝুঁকি তার চেয়ে দ্রুতগতিতে বাড়ছে এবং বিশ্ব এখনো অর্থপূর্ণভাবে নিরাপদ হয়ে ওঠেনি।’
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জলবায়ু সংকট এবং সশস্ত্র সংঘাতের কারণে রোগের প্রাদুর্ভাবের আশঙ্কা আরো বাড়ছে। অন্যদিকে, ভূ-রাজনৈতিক বিভাজন এবং বাণিজ্যিক স্বার্থপরতার কারণে সম্মিলিত বৈশ্বিক উদ্যোগ ব্যাহত হচ্ছে।
২০১৮ সালে পশ্চিম আফ্রিকায় প্রথম বড় আকারের ইবোলা প্রাদুর্ভাবের পর এবং কোভিড-১৯ মহামারির ঠিক আগে বিশ্বব্যাংক এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) যৌথভাবে এই বিশেষজ্ঞদল (জিপিএমবি) গঠন করে। ক্রুজ শিপে হান্তা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের দিকে বৈশ্বিক মনোযোগ এবং কঙ্গোতে ইবোলায় অন্তত ৮৭ জনের মৃত্যুর পর আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণার পরদিনই তাদের এই সর্বশেষ তথ্য সামনে এল।
জেনেভায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ‘ওয়ার্ল্ড হেলথ অ্যাসেম্বলি’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডব্লিউএইচও প্রধান তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস বলেন, ‘এই দুটি প্রাদুর্ভাব আমাদের সমস্যাগ্রস্ত বিশ্বের সাম্প্রতিকতম সংকট মাত্র।’
কঙ্গোতে ডব্লিউএইচও’র প্রতিনিধি অ্যান আনসিয়া রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ইবোলা প্রাদুর্ভাব মোকাবিলা করতে গিয়ে রাজধানী কিনশাসায় তাদের সুরক্ষাসামগ্রীর মজুত শেষ হয়ে গেছে। কেনিয়ার একটি ডিপো থেকে অতিরিক্ত সরঞ্জাম আনার জন্য তারা একটি কার্গো বিমানের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি এবং মেদসাঁ সঁ ফ্রোঁতিয়েরের মতো সাহায্য সংস্থাগুলো জানিয়েছে, প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় তাদের দল কাজ করছে। এই ভাইরাস সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এবং ভ্যাকসিন, পরীক্ষা ও ওষুধের গবেষণা কোন দিকে হওয়া উচিত তা নির্ধারণে আগামী শুক্রবার শীর্ষ বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি জরুরি বৈশ্বিক বৈজ্ঞানিক পরামর্শসভার আয়োজন করবে ডব্লিউএইচও।
জেনেভায় জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর গ্লোবাল হেলথ পলিসি অ্যান্ড পলিটিক্স-এর পরিচালক অধ্যাপক ম্যাথিউ কাভানাঘ বলেন, ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য খাতে সহায়তা বা অনুদান কমিয়ে দেওয়ার কারণে বিশ্বকে আজ একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক প্যাথোজেনের বিরুদ্ধে পিছিয়ে থেকে লড়াই করতে হচ্ছে।