নিজস্ব প্রতিবেদক:
জুলাই বিপ্লবী ছাত্রছাত্রীদের একান্ত আগ্রহে বুকে পাথর বেঁধে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে মেনে নিতে বাধ্য হয়েছিল এস্টাবলিশমেন্ট। জুলাই বিপ্লবের অন্যতম নেতা আসিফের বক্তব্যে এ ধরনের ধারণা উঠে এসেছে। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মাইক্রোক্রেডিটের ধারণা নিয়ে পাশের দেশ ভারত-পাকিস্তান-আফগানিস্তান, আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা, আমেরিকায় সফল সব প্রকল্প আমরা দেখেছি। তার সামাজিক ব্যবসা সূত্রটি জার্মানিকে কেন্দ্র করে ইউরোপের দেশে দেশে সাফল্যের মুখ দেখেছে। কিন্তু বাংলাদেশে ইউনূসের মাইক্রোক্রেডিট ও সামাজিক ব্যবসার ধারণার শতছিদ্র নিয়ে আলোচনা রয়েছে। পৃথিবীর একমাত্র অণুবীক্ষণ যন্ত্রটি খুব সম্ভবত আমাদের জনপদে রয়েছে।
বাংলাদেশে জাতীয় পার্টি, বিএনপি ও আওয়ামী লীগের আশি ও নব্বই দশকের ক্ষমতাকালে ড. ইউনূস প্রতিটি সরকারের সহযোগিতা পেয়েছেন। কিন্তু ২০০৬ সালে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পর ইউটোপিয়ান নাগরিক সমাজের উদ্দীপনায় তিনি রাজনৈতিক দল গঠনের আগ্রহ প্রকাশ করলে; রাজনৈতিক দলগুলো বিশেষ করে আওয়ামী লীগ তার শত্রু হয়ে ওঠে। আমাদের ভিলেজ পলিটিকসে গ্রামের কোনো শিক্ষক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হতে চাইলে পঞ্চায়েতের লোকরা তাকে গালি দিয়ে ভূত ছুটিয়ে দেওয়ার কালচার প্রচলিত রয়েছে। অধ্যাপক ইউনূসের ক্ষেত্রেও তার অন্যথা হয়নি। স্বয়ং শেখ হাসিনার নেতৃত্বে তার কালচারাল উইং তাকে দেড় দশক ধরে গালাগাল করেছে।
কিন্তু মানুষ যাকে ভয় পায়, তাই তার নিয়তি হয়ে দাঁড়ায়। ফলে জুলাই বিপ্লবের পর এতে নেতৃত্বদানকারী তরুণরা প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে মুহাম্মদ ইউনূসের নাম প্রস্তাব করে বসে। অন্যান্য উপদেষ্টার নাম এস্টাবলিশমেন্টের কাছ থেকেই আসে। ড. ইউনূস একটি-দুটি নাম এতে যুক্ত করে অন্তর্বর্তী সরকারের যাত্রা শুরু করেন।
পুলিশ বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থা হাসিনার নির্দেশে জুলাই বিপ্লবে স্বদেশের মানুষের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে যাওয়ায়; আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনুপস্থিতিতে সেনাবাহিনীর সাহায্য নিয়ে কাজ করতে হয়েছে ইউনূস প্রশাসনকে। ভঙ্গুর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কারণে প্রায় প্রতিদিনই প্রতিবিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে নানা রঙের লীগ রাজপথে নেমেছে। আর জুলাইয়ের মানবতাবিরোধী অপরাধে বিন্দুমাত্র অনুশোচনাহীন আওয়ামী লীগবর্তী কালচারাল উইং ইউনূসকে গালি দিয়ে ভিলেজ পলিটিকসের ধারা অব্যাহত রেখেছে।