নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
পাকিস্তান ও ভারতজুড়ে ছড়িয়ে পড়া তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী দাবদাহে লাখ লাখ মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। এপ্রিল ও মে মাসজুড়ে পাকিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক ওপরে রয়েছে। সিন্ধু প্রদেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায়ই ৪৪ থেকে ৪৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করছে। ফলে দুপুরের তীব্র গরমে বাসিন্দারা ঘরের ভেতরে থাকতে বাধ্য হচ্ছে। এতে দিনমজুর, পরিবহনশ্রমিক এবং কৃষক সম্প্রদায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
পাশাপাশি ভারতের রাজস্থান, গুজরাট, মহারাষ্ট্র এবং উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে তীব্র দাবদাহ চলছে। বেশ কয়েকটি শহরে তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গেছে। চরম তাপমাত্রার কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকি বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতি এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ায় বিভিন্ন রাজ্যে সতর্কতা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ।
জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে এই বারবার ফিরে আসা দাবদাহ মূলত জলবায়ু সংকটের কারণে তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং আবহাওয়ার চরম রূপেরই বহিঃপ্রকাশ।
সাধারণত আরব সাগরের লঘু বাতাসের কারণে পাকিস্তানের করাচি শহরের তাপমাত্রা কিছুটা সহনীয় থাকলেও, এবার চরম আবহাওয়া থেকে রেহাই পাচ্ছে না শহরটি। মে মাসের প্রথমার্ধে করাচির তাপমাত্রা একাধিকবার ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করেছে।
পাকিস্তান আবহাওয়া অধিদপ্তরের (পিএমডি) তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি করাচিতে সর্বোচ্চ ৪৪ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে, যা ২০১৮ সালের ৩১ মে’র (৪৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস) পর শহরটির সর্বোচ্চ তাপমাত্রা।