ঢাকা , রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬ , ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

​কুষ্টিয়ায় দুই যুবককে অপহরণ করে মারধর-চাঁদা দাবী, গ্রেফতার-০৩

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৫-১৭ ২০:০৩:০৯
​কুষ্টিয়ায় দুই যুবককে অপহরণ করে মারধর-চাঁদা দাবী, গ্রেফতার-০৩ ​কুষ্টিয়ায় দুই যুবককে অপহরণ করে মারধর-চাঁদা দাবী, গ্রেফতার-০৩

 
রফিকুল ইসলাম, কুষ্টিয়া প্রতিনিধি :

কুষ্টিয়ায় সোহাগ (২৪) ও সাইফুল (৩৫) নামের দুই যুবককে অপহরণ করে একটি বাসায় আটকে রেখে মারধর ও মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।


রবিবার (১৭ মে) এ বিষয়ে ভিকটিম সোহাগের পিতা আবু হানিফ বাদী হয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেছেন।


শনিবার (১৬ মে) বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে শহরের কালিশংকরপুর সোনার বাংলা রোড এলাকায় একটি বাসা থেকে দুই ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয় এবং একই সঙ্গে অপহরণের ঘটনায় জড়িত তিনজনকে গ্রেফতার করেছে কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশ।


গ্রেফতারকৃতরা হলেন—
গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী থানার ঘোনাপাড়া এলাকার মোসলেম মোল্লার ছেলে এনামুল মোল্লা (৩২), কুষ্টিয়া কুমারখালী থানার বেড় কালোয়া এলাকার মিজানুর রহমানের ছেলে ইমরান হোসেন ওরফে রাসেল (৩১) ও কুষ্টিয়া শহরের কালিশংকরপুর এলাকার ইউনুস আলীর ছেলে নুহাশ হাসান (২০)।



এ বিষয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন মাতুব্বরের নেতৃত্বে এস.আই কামরুল ইসলাম, এস.আই মো. সামসুল আলম, এস.আই আব্দুল আলিমসহ পুলিশের একটি দল অভিযান পরিচালনা করে।

জানা গেছে, ভিকটিম সোহাগ ও তার বন্ধু সাইফুল শনিবার বিকেলের দিকে পটুয়াখালী থেকে বাসযোগে কুষ্টিয়া মজমপুর গেটে পৌঁছলে পূর্ব-পরিকল্পিতভাবে আসামিরা ও তাদের সহযোগীরা তাদের অপহরণ করে নুহাশ হাসানের কালিশংকরপুরের বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে তাদের মারধর করে পরিবারের কাছে ফোনের মাধ্যমে ২০ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।


এ সময় সোহাগের বিকাশ নম্বর থেকে ১৭ হাজার টাকা ক্যাশ আউট করা হয় ও পরিবারের কাছ থেকে আরও ১০ হাজার টাকা বিকাশের মাধ্যমে গ্রহণ করে আসামিরা। এরপর আরও টাকা দাবি করে দুই ভিকটিমকে মারধর অব্যাহত রাখা হয়।

এমতাবস্থায় ভিকটিমদের পরিবার বাধ্য হয়ে পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। ওই জিডির ভিত্তিতে মির্জাগঞ্জ থানা পুলিশ কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশকে বিষয়টি জানায়। পরে কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশ মোবাইল নম্বর ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে অভিযান চালিয়ে দুই ভিকটিমকে উদ্ধার ও তিনজন অপহরণকারীকে গ্রেপ্তার করে।

এ ঘটনায় আরও কয়েকজন জড়িত থাকলেও তারা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ বিষয়ে ভিকটিম সোহাগের পিতা আবু হানিফ বাদী হয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেছেন। যার মামলা নম্বর ৩১, তারিখ ১৭/০৫/২০২৬ ইং।


এ বিষয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন মাতুব্বর জানান, মির্জাগঞ্জ থানার সংবাদের ভিত্তিতে তারা অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির বিষয়টি জানতে পারেন। পরে মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে অভিযান চালিয়ে ভিকটিমদের উদ্ধার এবং তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনায় জড়িত পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ