নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
যুক্তরাষ্ট্রে হামলা পরিকল্পনার অভিযোগে এক ইরাকি নাগরিকের বিরুদ্ধে মার্কিন আদালতে আনীত অভিযোগপত্র প্রকাশ্যে আসার পর নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ইরান মধ্যপ্রাচ্যের সীমানা ছাড়িয়ে দূরবর্তী পশ্চিমা স্বার্থে আঘাত হানতে ক্রমেই তাদের প্রক্সি বা মিত্র বাহিনীকে ব্যবহার করছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর আগেও ইরানের শক্তিশালী ইরানের বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) আমেরিকার মাটিতে তাদের বিরোধীদের হত্যার চেষ্টা করেছিল। তাদের লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প থেকে শুরু করে নিউইয়র্কে নির্বাসিত ইরানি সরকারের সমালোচক মাসিহ আলিনেজাদও ছিলেন।
মোহাম্মদ আল-সাদি নামের ওই ইরাকি নাগরিকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগে তাকে ইরান-সমর্থিত ইরাকি মিলিশিয়া গোষ্ঠী ‘কাতায়িব হিজবুল্লাহ’-এর একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। ইউরোপে ধারাবাহিক কিছু হামলার সঙ্গে আল-সাদি জড়িত ছিলেন বলে প্রসিকিউটরদের দাবির পর এই উদ্বেগ আরো বৃদ্ধি পেয়েছে।
ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউট ফর নিয়ার ইস্ট পলিসির বিশেষজ্ঞ অ্যারন ওয়াই জেলিন কাতায়িব হিজবুল্লাহর প্রসঙ্গে বলেন, ‘তারা এখন কেবল যুদ্ধক্ষেত্রের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং প্রকৃত পশ্চিমা দেশগুলোতে তাদের পরিধি বিস্তার করেছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘এটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ কারণ এর মাধ্যমে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, ইরানের বিস্তৃত ‘অক্ষশক্তি’ বা ‘প্রতিরোধের অক্ষ’-এর আরো বেশি শাখা এখন পশ্চিমে হামলায় জড়িয়ে পড়ছে।’
অভিযোগপত্র অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরাইলি অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে আল-সাদি ইউরোপ ও কানাডায় অন্তত ২০টি হামলার পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এছাড়া তিনি ইহুদি প্রতিষ্ঠানসহ মার্কিন মাটিতেও হামলার ছক কষছিলেন।
আল-সাদির আইনজীবীর দেওয়া তথ্যমতে, সম্প্রতি সাদিকে তুরস্কে আটক করে মার্কিন কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। শুক্রবার ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালতে তাকে হাজির করা হলেও তিনি কোনো স্বীকারোক্তি দেননি।