ঢাকা , বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬ , ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টেন্ডার ছাড়াই জরুরি তেল আমদানির উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৫-১৬ ১৩:১০:৩৮
টেন্ডার ছাড়াই জরুরি তেল আমদানির উদ্যোগ টেন্ডার ছাড়াই জরুরি তেল আমদানির উদ্যোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক
জ্বালানি তেলের সংকট সমাধান ও জরুরি ভিত্তিতে তেলের মজুত বৃদ্ধি করতে বাংলাদেশ সরকার প্রথাগত ব্যবস্থার বাইরে ডিপিএম (ডিরেক্ট পারচেজ মেথড) পদ্ধতিতে ১২টি কোম্পানিকে তেল সরবরাহের অনুমতি দিয়েছিল, যাদের কোনোটি মে মাসের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত তেল দিতে পারেনি।

বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, কার্যাদেশ পাওয়া কোম্পানিগুলো যুক্তরাষ্ট্র, দুবাই, নেদারল্যান্ড, হংকং, কাজাখস্তান, মালয়েশিয়া ও জাপানের। জরুরিভাবে এসব কোম্পানির ডিজেল, অকটেন ও ক্রুড অয়েল সরবরাহের কথা ছিল।

সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে কার্যাদেশ পাওয়া মাত্র দুটি কোম্পানি পিজি (পারফরম্যান্স গ্যারান্টি) বা জামানত দিয়েছে। একটি কোম্পানি পিজি দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

ইরান যুদ্ধের কারণে মার্চ মাসে তেল সংকটের সময় দরপত্র ছাড়াই তেল কেনার উদ্যোগ নিয়েছিল সরকার।

জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, যুদ্ধের কারণে সংকট সমাধানে সরকার এই উদ্যোগ নেয়। মানুষ যাতে আতঙ্কিত হয়ে তেল কিনে সংকট সৃষ্টি করতে না পারে সেজন্য মজুত বৃদ্ধির লক্ষ্যেই সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে তেল আমদানির অনুমোদন দেয়া হয়।

তিনি বলেন, ‘আমার জিটুজি ছিল কাতারের সাথে তারাতো ফোর্স মেজর দিয়ে বসে গেছে। সৌদি আরব বসে গেছে। আমাকে তো আনতে হচ্ছে অন্য জায়গা থেকে তেলগুলো। যখন যেটা প্রয়োজন হবে ন্যাচারালি আমাদের স্পটে যেতে হবে। আমরা জানি, কয়টা আসবে না বা আসবে, সেজন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। ফেয়ার একটা চান্স সবাইকে দিচ্ছি। তারমধ্যে যে কয়টা আসবে, সে কয়টাতে আমাদের তেলের মজুত বাড়বে।’

মার্চ মাসে তেল সংকটের সময় বিপিসির কাছে অর্ধশতাধিক কোম্পানি তেল সরবরাহের প্রস্তাব দেয়। এর মধ্যে কার্যাদেশ পাওয়া কোম্পানিগুলোর প্রস্তাবে তেলের দরে পার্থক্য রয়েছে। যেমন ডিজেল সরবরাহে দুবাই ভিত্তিক পেট্রোগ্যাসের প্রস্তাব ছিল ব্যারেলপ্রতি ১৭৫ ডলার, নেদারল্যান্ড ভিত্তিক এপি এনার্জি ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেডের প্রস্তাব ২২১ ডলার। আবার এ এন্ড এ এনার্জি নামে মার্কিন একটি কোম্পানি মাত্র ৭৫ ডলারে ডিজেল সরবরাহের প্রস্তাব দিয়ে অনুমোদন পায়। সংকটকালে বিশ্ববাজারে তেলের দর বিবেচনায় এই দর প্রস্তাব ছিল অস্বাভাবিক।

জ্বালানি মন্ত্রী বলেন, যাচাই বাছাই করেই প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, তারপরে আপনারা বলবেন, এত কম দাম ছিল, সেটা গ্রহণ না করে বেশি দামেরটা গ্রহণ করা হচ্ছে। সেজন্য কম দামও গ্রহণ করলাম, কিন্তু পিজি দিতে পারতেছে না। ন্যাচারালি আমাদের সবদিকে রক্ষা করতে হয়।’

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন বিপিসি জানায়, যে দামে প্রস্তাব পাস হয়েছে সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়, কারণ তেল সরবরাহ দিতে পারলে মূল্য নির্ধারণ হবে বিধিবদ্ধ ফর্মুলায়।

বিপিসির চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান বলেন, ‘এটা হলো টেনটেটিভ প্রাইস। মূল হলো যখন তারা সাপ্লাইটা দেবে, তখন যে ভ্যালুয়েশনটা হবে। অথাৎ যেদিন লোডিংটা হবে সেই লোডিং ডেটের দুই দিন আগে এবং দুই দিন পরে এই পাঁচ দিনের প্ল্যাটস রেটের (প্ল্যাটস আরব গালফ) এই পাঁচ দিনের যে দর, তার গড় যেটা সেটাই হবে মূল প্রাইস।’

ডিপিএম পদ্ধতিতে আমদানির উদ্যোগ নিয়ে বিপিসির চেয়ারম্যান বলেন, যুদ্ধের মূল সময়টা বলা যায় মার্চে আমাদের একটু অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। তখন ১৭টা পার্সেল ছিল, তার মধ্যে সাতটা পার্সেল ডেফারড হয়। সেই সাতটা পার্সেল আমরা এপ্রিল এবং মে’তে কনফার্ম করেছি।

তিনি বলেন, মার্চে সংকট শুরুর পর যেহেতু আমাদের বেশ কিছু কার্গো ডেফার করা হয়েছিল এবং ফোর্স মেজর ঘোষণা করা হয়েছিল, তার প্রেক্ষাপটে আমরা সোর্স ডাইভারসিফিকেশনে হাত দিয়েছিলাম। তারই পার্ট হিসেবে আমরা কিছু সময়ের জন্য ডিপিএমএর একটা উদ্যোগ নিয়েছি। যেটা অলরেডি ক্লোজ হয়েছে।










 


নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ