প্রবাসে মৃত্যু, দুই মাস পর কফিনবন্দি হয়ে ফিরলেন মানিক অবৈধ প্রক্রিয়ায় বিদেশ যাওয়ায় মেলেনি সরকারি সহায়তা
প্রবাসে মৃত্যু, দুই মাস পর কফিনবন্দি হয়ে ফিরলেন মানিক অবৈধ প্রক্রিয়ায় বিদেশ যাওয়ায় মেলেনি সরকারি সহায়তা
স্বপন রবি দাশ, হবিগঞ্জ প্রতিনিধি।।
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার প্রবাসী মো. মানিক মিয়া ওরফে জুয়েলের মরদেহ মৃত্যুর প্রায় দুই মাস পর দেশে পৌঁছেছে। প্রবাসে দুর্ঘটনায় মৃত্যুর পর আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে মরদেহ দেশে আনতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে পরিবারকে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বাঘাসুরা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম হরিতলা গ্রামের মৃত ধনু মিয়ার বড় ছেলে মানিক মিয়া ২০২২ সালে জীবিকার সন্ধানে সংযুক্ত আরব আমিরাতে যান। তিনি দেশটির শারজাহ শহরে কর্মরত ছিলেন।
স্বজনদের ভাষ্য, প্রবাস জীবনে পরিবারটির প্রধান উপার্জনকারী ছিলেন মানিক মিয়া। কয়েক মাস আগে তার বাবা মারা যান। বাবার মৃত্যুর অল্প সময়ের মধ্যেই প্রবাসে এক দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়। পরে মরদেহ দেশে পাঠাতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, আইনি প্রক্রিয়া ও অন্যান্য জটিলতার কারণে বিলম্ব ঘটে। অবশেষে বৃহস্পতিবার তার মরদেহ দেশে পৌঁছায়।
পরিবার সূত্রে আরও জানা গেছে, মানিক মিয়া সরকারি অনুমোদিত জনশক্তি রপ্তানি প্রক্রিয়ার বাইরে ভ্রমণ ভিসায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে গিয়েছিলেন। ফলে তিনি বৈধ জনশক্তি কর্মী হিসেবে নিবন্ধিত ছিলেন না। এ কারণে মৃত্যুর পর বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রবাসী কল্যাণ তহবিল থেকে কোনো ধরনের আর্থিক সহায়তা পায়নি তার পরিবার।
বর্তমানে তার পরিবারে রয়েছেন বৃদ্ধ মা ও দুই ছোট ভাই-বোন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তির মৃত্যুতে পরিবারটি আর্থিক সংকটে পড়েছে বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈধ প্রক্রিয়ায় এবং অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে বিদেশে গেলে কর্মীরা বিভিন্ন সরকারি সুযোগ-সুবিধা ও কল্যাণ তহবিলের আওতায় থাকেন।
দুর্ঘটনা বা মৃত্যুর ঘটনায় এসব সহায়তা পরিবারকে আর্থিকভাবে কিছুটা সুরক্ষা দিতে পারে। তাই বিদেশগামীদের বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণ করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
নিউজটি আপডেট করেছেন :
[email protected]
কমেন্ট বক্স