ঢাকা , শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬ , ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দাম কম, আলু ফেলে দিচ্ছেন গঙ্গাচড়ার কৃষক

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৫-১০ ১৩:০৮:১৫
দাম কম, আলু ফেলে দিচ্ছেন গঙ্গাচড়ার কৃষক দাম কম, আলু ফেলে দিচ্ছেন গঙ্গাচড়ার কৃষক
নিজস্ব প্রতিবেদক
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় আলুর বাজারে অস্বাভাবিক দরপতনের কারণে চাষিদের মধ্যে গভীর হতাশা দেখা দিয়েছে। উৎপাদন খরচের তুলনায় বাজারমূল্য অনেক কমে যাওয়ায় অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে তাদের উৎপাদিত আলু বিক্রি না করে ফেলে দিচ্ছেন। এতে একদিকে যেমন আর্থিক ক্ষতি বাড়ছে, অন্যদিকে নষ্ট হচ্ছে পরিশ্রমের ফসল।

সরেজমিন উপজেলার গজঘণ্টা ইউনিয়নের ছালাপাক এলাকায় দেখা যায়, কৃষক তহিজার রহমানের বাড়ির পাশের পুকুরপাড়ে স্তূপ করে রাখা হয়েছে বিপুল পরিমাণ আলু। অনেক আলু ইতোমধ্যে পচে গেছে, কিছু পুকুরে গড়িয়ে পড়েছে। চারপাশে ছড়িয়ে থাকা পচা আলুর গন্ধে এলাকাজুড়ে বিরূপ পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

তহিজার রহমান বলেন, চলতি মৌসুমে তিনি প্রায় ৪০০ বস্তা আলু উৎপাদন করেন। শুরুতে বাজারদর কম থাকায় তিনি আলুগুলো ঘরে সংরক্ষণ করেন। কিন্তু পর্যাপ্ত সংরক্ষণব্যবস্থা না থাকায় ধীরে ধীরে আলু পচতে শুরু করে।

তিনি বলেন, আমরা ভেবেছিলাম পরে হয়তো দাম বাড়বে, তাই বিক্রি করিনি। কিন্তু এখন দেখি সব নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এত কষ্ট করে চাষ করে শেষ পর্যন্ত পুকুরে ফেলে দিতে হবে—এটা সত্যিই কষ্টের।

একই এলাকার কৃষক শেফালী বেগম বলেন, আমি বর্গা আর লিজে জমি নিয়ে আলু চাষ করি। বীজ, সার, সেচ—সব মিলিয়ে অনেক খরচ হয়েছে। এখন বাজারে যে দাম, তাতে খরচই উঠছে না। কীভাবে ঋণ শোধ করব, তা ভেবে ঘুম আসে না।

স্থানীয় আরেক কৃষক আব্দুল কাদের জানান, হিমাগারে জায়গা না থাকায় বাধ্য হয়ে বাড়িতে আলু রাখছি। কিন্তু গরম আর বৃষ্টির মধ্যে আলু রাখা যায় না। প্রতিদিনই কিছু না কিছু পচে যাচ্ছে। আমরা আসলে কোনো দিকেই ভরসা পাচ্ছি না।

উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে গঙ্গাচড়ায় প্রায় পাঁচ হাজার ৩১০ হেক্টর জমিতে আলুর চাষ হয়। উৎপাদন হয়েছে প্রায় এক লাখ ৫৪ হাজার ২০৭ টন। স্থানীয় চাহিদার তুলনায় উৎপাদন বেশি হওয়ায় বাজারে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে দামে।

বর্তমানে পাইকারি বাজারে আলুর দাম কেজিপ্রতি ছয়-সাত টাকা। কৃষক পর্যায়ে তা নেমে এসেছে চার-পাঁচ টাকায়। অথচ উৎপাদন খরচ পড়েছে কেজিপ্রতি ১৮-১৯ টাকা। ফলে প্রতি কেজিতে ১০-১৫ টাকা পর্যন্ত লোকসান গুনতে হচ্ছে কৃষকদের।

উপজেলার একমাত্র হিমাগারের ধারণক্ষমতা প্রায় এক লাখ ৫০ হাজার বস্তা, যা ইতোমধ্যে প্রায় পূর্ণ। ফলে নতুন করে আলু সংরক্ষণের সুযোগ পাচ্ছেন না অনেক কৃষক। বাধ্য হয়ে তারা বাড়িতেই আলু রাখছেন। কিন্তু টানা বৃষ্টি ও আর্দ্র আবহাওয়ার কারণে দ্রুত পচে যাচ্ছে এসব আলু।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রুবেল হুসেন বলেন, এ বছর আলুর উৎপাদন তুলনামূলক বেশি হয়েছে। কিন্তু সে অনুযায়ী বাজার ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণ সুবিধা না থাকায় এ সংকট তৈরি হয়েছে। আবহাওয়াও একটি বড় কারণ। এ অবস্থায় কৃষকদের দাবি, দ্রুত ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে, হিমাগারের সংখ্যা বাড়াতে হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য প্রণোদনার ব্যবস্থা করতে হবে। তা না হলে ভবিষ্যতে অনেকেই আলু চাষ থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হবেন বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ