ঢাকা , রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬ , ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৩ বছর ধরে ইউনিয়ন পরিষদে তালা; নেই বিদ্যুৎ, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৫-১০ ০০:৫২:০৬
৩ বছর ধরে ইউনিয়ন পরিষদে তালা; নেই বিদ্যুৎ, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ ৩ বছর ধরে ইউনিয়ন পরিষদে তালা; নেই বিদ্যুৎ, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ
‎ 
‎আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:-
কুড়িগ্রাম জেলার ‎উলিপুর উপজেলার বেগমগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদটি ‎সরকারি অর্থে প্রায় ৮৯ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত অত্যাধুনিক ইউনিয়ন পরিষদ ভবন। উদ্দেশ্য ছিল সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়া। কিন্তু বাস্তবে সেই ভবনে ঝুলছে তালা। নেই বিদ্যুৎ সংযোগ, নেই নিয়মিত দাপ্তরিক কার্যক্রম। গত তিন বছর ধরে কার্যত অচল হয়ে পড়ে আছে বেগমগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ। ফলে জন্মনিবন্ধন, প্রত্যয়নপত্র, ভিজিএফ, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিসহ নানা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন ইউনিয়নের হাজারো মানুষ।
‎স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম এখন ভবনে নয়, পরিচালিত হচ্ছে চেয়ারম্যানের বাড়ি ও হাটের চায়ের দোকানে বসে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ সেবাগ্রহীতারা। বহু দূর থেকে এসে পরিষদে তালা ঝুলতে দেখে হতাশ হয়ে ফিরতে হচ্ছে মানুষকে।
 
‎কোটি টাকার সরকারি ভবন দীর্ঘদিন বন্ধ রেখে জনগণকে হয়রানির মধ্যে রাখা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দ্রুত ইউনিয়ন পরিষদ সচল করে নিয়মিত জনসেবা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ও জনপ্রতিনিধিরা।
‎সরেজমিনে দেখা যায়, কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার বেগমগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় ভবনের চারপাশে আগাছা জন্মেছে। ভবনের ভেতরে নেই বিদ্যুৎ সংযোগ। পরিষদের নির্ধারিত কক্ষে বসতে পারেন না ইউপি সদস্যরাও। স্থানীয় মোল্লারহাট বাজারের একটি চায়ের দোকানে বসেই অনেক সময় সাধারণ মানুষের কাজ সারতে হয় জনপ্রতিনিধিদের। অন্যদিকে তথ্যসেবা কেন্দ্র পরিচালিত হচ্ছে বাজারের একটি বিকাশ ও ফ্লেক্সিলোডের দোকানে।ইউপি সদস্যদের মাসিক মিটিংও হয় মোল্লারহাট চা দোকানে বলে জানান জনপ্রতিনিধিরা।
‎স্থানীয় ইউপি সদস্য মোঃ নজরুল ইসলাম জানান, পরিষদের মাঠ ভরাট ও বিদ্যুৎ বিলের জন্য একাধিকবার সরকারি টাকা উত্তোলন করা হলেও সেই অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় হয়নি। দীর্ঘদিন বিল বকেয়া থাকায় বিদ্যুৎ বিভাগ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এরপর আর সংযোগ চালু হয়নি।এ ব্যাপারে চেয়্যারম্যান টালবাহানা করে ৩ বছর কাটালো।জানি না কবে বিদ্যুত পাবো।
‎ইউপি সদস্য মোঃ শফিকুল ইসলাম ও মোঃ আব্দুল হামিদ শেখ বলেন,‎“পরিষদে বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য আমরা টাকা তুলে চেয়ারম্যানকে দিয়েছি। কিন্তু তিন বছরেও সংযোগ চালু হয়নি। সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। আমরা দ্রুত পরিষদ সচল করার দাবি জানাই।”
‎স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ আলতাফ হোসেন বলেন,
‎“এত বড় ভবন করে কোনো লাভ হয়নি। মানুষ সেবা পায় না। পরিষদে গেলে তালা ঝুলতে দেখা যায়।”
‎রসুলপুর এলাকার বাসিন্দা মোঃ আব্দুল মালেক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,“জন্মনিবন্ধন কিংবা অন্যান্য জরুরি কাজে মানুষ দূর-দূরান্ত থেকে আসে। কিন্তু পরিষদ বন্ধ দেখে ফিরে যেতে হয়। চেয়ারম্যানের বাড়িই এখন ইউনিয়ন পরিষদে পরিণত হয়েছে। অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার মেলে না।”
‎অভিযোগের বিষয়ে বেগমগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ বাবলু মিয়া বলেন,“এলাকার পরিবেশ ভালো না হওয়ায় নিয়মিত পরিষদে বসা হয় না। হাট-বাজার ও বাড়িতে বসেই কাজ করি। বিশেষ প্রয়োজন হলে পরিষদ খোলা হয়। ইউনিয়ন সচিবও নিয়মিত আসে না।”
‎বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার বিষয়ে তিনি বলেন,
‎“বকেয়া বিলের কারণে বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দেওয়া হয়েছে। দ্রুত বকেয়া পরিশোধ করে এক মাসের মধ্যে সংযোগ চালু করা হবে।”
‎এ বিষয়ে উলিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ টি এম আরিফ বলেন,“আমি নতুন যোগদান করেছি। বিষয়টি অত্যন্ত হতাশাজনক। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ