নিজস্ব প্রতিবেদক
গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে গৃহবধূকে গলাকেটে হত্যা মামলার একজন আসামিকে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাব।
| বাংলাদেশ আমার অহংকার'- এই মূলমন্ত্রকে বুকে ধারণ করে এলিট ফোর্স র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন চাঞ্চল্যকর হত্যা, অপহরণ, ধর্ষণ, রাহাজানি, যৌতুকসহ মারাত্মক সব সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। হত্যার মতো মারাত্মক সামাজিক অপরাধের ক্ষেত্রে র্যাব অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করে থাকে।
বাদীর দায়েরকৃত এজাহার থেকে জানা যায় যে, ১৭ বছর আগে ভিকটিম ববিতা বেগম এর সাথে গ্রেফতারকৃত আসামির ভাই মোঃ হারুন মোল্লার ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক বিবাহ সম্পন্ন হয়। ভিকটিমের স্বামী মোঃ হারুন মোল্লা পরিবার নিয়ে গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী থানা এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতো। বেশ কিছুদিন যাবৎ ভিকটিম এবং তার স্বামীর সাথে পারিবারিক বিষয় নিয়ে মনোমালিন্য চলে আসছিল। মনোমালিন্যের একপর্যায়ে গত ২৪/০৩/২০২৬ তারিখে ভিকটিম তার বাবার বাড়িতে চলে যায়। ভিকটিম বাবার বাড়িতে থাকা অবস্থায় গত ২৭/০৩/২০২৬ ইং তারিখ ভিকটিমের স্বামী হারুন এবং মোঃ আশরাফুল ভিকটিমকে তার বাবার বাড়ি থেকে ভাড়া বাসায় নিয়ে আসে। গত ২৮/০৩/২০২৬ তারিখ বাদী লোকমুখে জানতে পারেন যে, তার মেয়েকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। তিনি ভিকটিমের ভাড়া বাসায় গিয়ে খাটের উপর ভিকটিম ববিতা বেগমের গলাকাটা লাশ দেখতে পান। পরে গত ২৮/০৩/২০২৬ ইং তারিখে ভিকটিমের মা বাদী হয়ে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী থানায় পেনাল কোডের ৩০২/৩৪ ধারায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন, যার মামলা নং-২৫।
ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক হত্যাকান্ড হওয়ায় এলাকায় ব্যাপকভাবে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিষয়টি ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় আসামিদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি র্যাব গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে এবং আসামি গ্রেফতারে সচেষ্ট হয়|
সুনির্দিষ্ট তথ্য ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১৩, সিপিসি-৩, গাইবান্ধা এবং র্যাব-১, সিপিসি-৩, পূর্বাচল ক্যাম্প, রূপগঞ্জ, নারায়নগঞ্জ এর যৌথ আভিযানিক দল ০৫/০৫/২০২৬ তারিখ রাত ১১.৫৫ ঘটিকায় ঢাকার জসীমউদ্দিন নামক এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে পলাতক আসামি মোঃ আনারুল মোল্লা (৩০), পিতা-মৃত সাকি মোল্লা, মাতা-মোছাঃ রুপালী বেগম, সাং-চক ভগবানপুর, থানা-সাদুল্লাপুর, জেলা-গাইবান্ধা’কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
। পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রমের জন্য ধৃত আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়াও এই ধরণের প্রতিটি অপহরণ, হত্যা, ধর্ষণসহ সকল অপরাধ প্রতিরোধে র্যাবের প্রতিটি সদস্য দৃঢ়প্রত্যয়ের সাথে কাজ করছে এবং চলমান এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।