ঢাকা , মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬ , ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মমতাকে সরাতে মোদি-শাহের নজিরবিহীন নির্বাচন

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৫-০১ ২১:২১:৫২
মমতাকে সরাতে মোদি-শাহের নজিরবিহীন নির্বাচন মমতাকে সরাতে মোদি-শাহের নজিরবিহীন নির্বাচন
নিজস্ব প্রতিবেদক
বিজেপি সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়লেও তাদের জয় নিশ্চিত এমনটা বলার সময় এখনও আসেনি। তবে যা নিশ্চিত, তা হলো ক্ষমতায় থাকা একটি ফ্যাসিবাদী দল প্রচলিত সাংবিধানিক ঐক্যমত্যের তোয়াক্কা নাও করতে পারে। ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন শুধুমাত্র তৃণমূল কংগ্রেস এবং ভারতীয় জনতা পার্টির মধ্যে একটি সাধারণ লড়াই ছিল না। এই নির্বাচন এক ভিন্ন গুণগত বাস্তবতার প্রতিফলন, যেখানে একটি রাজ্যের নির্বাচিত শাসক দলকে একই সঙ্গে তার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী এবং ভারত রাষ্ট্রের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর বিরুদ্ধে লড়াই করতে হয়েছে। নির্বাচন কমিশন, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা, কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং বিচারবিভাগের একাংশের কার্যকলাপের সম্মিলিত চাপে এই নির্বাচন সম্ভবত জরুরি অবস্থার পর ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি হস্তক্ষেপমূলক নির্বাচন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।

 
এই হস্তক্ষেপের সবচেয়ে বড় অস্ত্র ছিল ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর’। এর মাধ্যমে তালিকা থেকে প্রায় ৯০ লাখ নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, যা মোট ভোটারের প্রায় ১২ শতাংশ। এর মধ্যে ৬০ লাখেরও বেশি মানুষকে অনুপস্থিত বা মৃত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং ২৭ লাখ মানুষের ভাগ্য ঝুলে ছিল ট্রাইব্যুনালের রায়ের ওপর। যাদের নাম নিয়ে বিচার চলছিল, তাদের মধ্যে প্রায় ৬৫ শতাংশই মুসলিম এবং একটি বড় অংশ তফশিলি জাতিভুক্ত মতুয়া সম্প্রদায়ের হিন্দু। এছাড়া দরিদ্র শ্রেণির মহিলারাও এর শিকার হয়েছেন।


নির্বাচন কমিশন একে ভোটার তালিকা ‘শুদ্ধিকরণ’ বললেও পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে কোনো পরিসংখ্যানগত ভিত্তি ছাড়াই বিশেষ আচরণ করা হয়েছে। উত্তরপ্রদেশে যেখানে মাত্র ৪ জন পর্যবেক্ষক ছিলেন, সেখানে বাংলায় নিয়োগ করা হয়েছে ৩০ জনকে। দেশের মোট পুলিশ অফিসার বদলির ৯৫ শতাংশই ঘটেছে এই একটি রাজ্যে। একে প্রশাসনিক প্রয়োজনীয়তা দিয়ে ব্যাখ্যা করা অসম্ভব। এর একমাত্র ব্যাখ্যা হতে পারে রাজনৈতিক। এই সংশোধন প্রক্রিয়ায় গণতন্ত্রের মৌলিক ধারণাকেই উল্টে দেওয়া হয়েছে। ভোটারের যোগ্যতা প্রমাণের দায়ভার ভোটারের ওপরেই চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। নন্দীগ্রাম বা ভবানীপুরের মতো এলাকায় দেখা গেছে, নাম বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কেই নিশানা করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের এক বিজেপি নেতা যখন প্রকাশ্যেই এক কোটি মুসলিম অনুপ্রবেশকারীকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার কথা বলেন, তখন বোঝা যায় যে নির্বাচন কমিশন মূলত বিজেপি-আরএসএসের সেই রাজনৈতিক কর্মসূচিকেই প্রাতিষ্ঠানিক বৈধতা দিয়েছে।


নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ