ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬ , ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারতীয় ঢলে কুমিল্লায় সাঁকো ভেঙে দুই পাড়ের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৪-৩০ ১৬:২১:৩৯
ভারতীয় ঢলে কুমিল্লায় সাঁকো ভেঙে দুই পাড়ের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ভারতীয় ঢলে কুমিল্লায় সাঁকো ভেঙে দুই পাড়ের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক
টানা বর্ষণে ভারত থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে সাঁকো ভেঙে বিচ্ছিন্ন গোমতী পাড়ের মানুষের যোগাযোগের ব্যবস্থা। গত মঙ্গলবার রাত একটায় কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার জগন্নাথপুর এবং পাঁচথুবী ইউনিয়নের মধ্যবর্তী গোলাবাড়ী সীমান্তে গোমতী নদীর ওপর বাঁশ দিয়ে তৈরি সাঁকোটি ভেঙে যায়।

গোমতী নদীর দুই পাড়ের দশ গ্রামের মানুষের একমাত্র যোগাযোগ মাধ্যম ছিল এই বাঁশের সাঁকোটি । এছাড়া এই সাঁকো ব্যবহার করতেন বিজিবির সদস্যরা। সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ায় সীমান্তে বিজিবির সদস্যদের টহলে বিঘ্ন হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার রাত ১২টার পর হঠাৎ প্রচণ্ড শব্দ হয় । বিজিবি সদস্যরা টর্চলাইট জ্বালিয়ে দেখেন বাঁশের সাঁকোটি ভেঙে গেছে । বৃষ্টিপাত বেশি হওয়ায় পাহাড়ি ঢলে ভারতের একটি কাঠের ব্রিজ ভাসিয়ে নিয়ে আসে । তীব্র স্রোত এবং ভেসে আসা কাঠের ব্রিজটি বাঁশের সাঁকোটিকে সজোরে ধাক্কা দিলে সাঁকোটি ভেঙে যায়।

গোলাবাড়ী বিজিবি চেকপোস্টর সুবেদার ইউনুছ জানান, এই বাঁশের সাঁকোটি দিয়ে আমরা সীমান্তের এপার ওপারে টহল দেই ।‌ চোরাই মালামাল ধরার জন্য সহজেই এপার থেকে ওপারে যাওয়া যেতো । সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ায় এখন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ।‌ নদীতে এখন প্রচণ্ড স্রোত । যার কারণে নৌকা নিয়ে চলাচলে খুব অসুবিধা হচ্ছে ।

মানুষের চলাচলের সুবিধার্থে বাঁশের সাঁকোটি তৈরি করেছিলেন জুয়েল রানা । তিনি জানান, প্রায় দুই লাখ টাকা ব্যয়ে মানুষের চলাচলের সুবিধার্থে সাঁকোটি করেছিলাম। এখন এই সাঁকোটি নতুন করে করার টাকা আমার কাছে নেই। দুই পাড়ের মানুষকে এখন অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হবে।

বাঁশের সাঁকোর পাশে দীর্ঘ দিন ধরে চা বিক্রি করছেন তাজুল ইসলাম । তিনি জানান, ব্রিজের ৫০০ গজ পূর্ব দিকে ভারত সীমান্ত। সীমান্ত ঘেঁষা মানুষের পাশাপাশি বিজিবি এই ব্রিজটি দিয়ে চলাচল করে। এখন দুই পাড়ের মানুষের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

গোলাবাড়ী থেকে বাঁশের সাঁকো দিয়ে নদী পাড় হয়ে অসুস্থ মাকে দেখতে জগন্নাথপুর ইউনিয়নের কটকবাজার যেতে এসেছিলেন তাসলিমা আক্তার। তিনি বলেন, নদী পার হতে এসে দেখি ব্রিজ টি ভেঙে গেছে। দুই বাচ্চা নিয়ে আমি এখন টিক্কারচর ব্রিজ হয়ে ঘুরে যেতে হবে। আমার প্রায় একশত টাকা গাড়ি ভাড়া লাগবে । এছাড়া সময় লাগবে প্রায় এক ঘন্টা।

কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফাতেমাতুজ জোহরা বলেন, ব্রিজ ভেঙে যাওয়ার বিষয়টি আমি শুনেছি। আমি খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব ।

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ