ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬ , ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‎কিশোরগঞ্জের হাওরে কৃষকের কান্না,তলিয়ে গেছে বোরোধান।

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৪-২৯ ২১:০৬:৫২
‎কিশোরগঞ্জের হাওরে কৃষকের কান্না,তলিয়ে গেছে বোরোধান। ‎কিশোরগঞ্জের হাওরে কৃষকের কান্না,তলিয়ে গেছে বোরোধান।

‎মাহফুজ রাজা,স্টাফ রিপোর্টার:

‎কিশোরগঞ্জের ইটনা,মিঠামইন, অষ্টগ্রাম হাওরে টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে কয়েক হাজার হেক্টর বোরো ধানের জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। নদীর পানি উপচে হাওরে প্রবেশ করায় কৃষকদের শেষ ভরসার ফসলও এখন হুমকির মুখে। অনেকেই আধাপাকা ধান কাটার চেষ্টা করলেও টানা বৈরী আবহাওয়ার কারণে গত দুই দিন ধরে কার্যক্রম প্রায় বন্ধ রয়েছে।

‎নিকলী আবহাওয়া অফিস জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ১৬০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

‎ পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েকদিনও ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে হাওরের অবশিষ্ট ধান সম্পূর্ণ তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একইসঙ্গে বজ্রপাতের ঝুঁকিও বাড়ছে, যা কৃষকদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।অস্ট্রগ্রাম হাওরে ক্ষয়ক্ষতির পরিমান বেশি বলে জানা গেছে।

‎অষ্টগ্রাম উপজেলার আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের কৃষক ফুল মিয়া জানান, ১০ একর জমিতে আবাদ করা তার ধান পানির নিচে ডুবে গেছে। যে ফসল দিয়ে সারা বছরের সংসার চলার কথা ছিল, তা এখন নষ্ট হওয়ার পথে। বুক সমান পানিতে নেমেও তিনি ফসল রক্ষা করতে পারেননি। ক্ষতি পুষিয়ে নিতে তিনি সরকারি সহায়তা ও প্রণোদনা দাবি করেছেন।

‎কৃষক কামরুল ইসলাম জানান, দেড় একর জমির ধানের মধ্যে মাত্র ৪০ শতাংশ কাটতে পেরেছেন। হঠাৎ পানি ঢুকে পড়ায় বাকি ধান ডুবে গেছে।

‎আধাপাকা ধান কেটে শুকিয়ে নিজের খাওয়ার জন্য রাখলেও বাজারে বিক্রি করা সম্ভব নয়। ঋণের বোঝা কীভাবে সামলাবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি।

‎আরেক কৃষক বেলাল ভূঁইয়া অভিযোগ করেন, শিবপুর নদীসহ আশপাশের নদীগুলোর কারণে হাওরে পানি প্রবেশ করছে। স্থায়ীভাবে হাওর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ না করলে প্রতি বছরই এমন ক্ষতির মুখে পড়তে হবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

‎কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক ড. সাদেকুর রহমান জানান, জেলায় আবাদ করা ১ লাখ ৬৮ হাজার ২৬২ হাজার হেক্টর, হাওরাঞ্চলেই

‎১ লাখ ৪ হাজার হেক্টর বোরো ধানের প্রায় ৫০ শতাংশ ইতোমধ্যে কাটা হয়েছে। কৃষকদের ৮০ শতাংশ ধান পাকার আগেই কাটার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে আধাপাকা ধান কাটতেও মাইকিং করা হচ্ছে। তবে টানা বৃষ্টির কারণে অনেক ক্ষেত্রেই তা সম্ভব হচ্ছে না। আবহাওয়া অনুকূলে এলে দ্রুত বাকি ধান কেটে ফেলার আহ্বান জানান তিনি।

‎প্রাকৃতিক এই দুর্যোগে হাওরাঞ্চলের কৃষকদের মধ্যে চরম হতাশা বিরাজ করছে। দ্রুত সরকারি সহায়তা না পেলে অনেক কৃষক আর্থিকভাবে চরম সংকটে পড়বেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ